৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৪৯২
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
সুহাইলের কন্যা সাহলাহ (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট হাজির হয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল, আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবু হুযাইফার মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখতে পাচ্ছি, অথচ সালিম হলো তাঁর হালিফ (পোষ্য পুত্র)।’ নবী (ﷺ) বললেন: ‘তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও।’ তিনি বলেন, ‘আমি কেমন করে তাকে দুধ পান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ?’ এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন এবং বললেন, ‘আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ।’ ‘আমর (রাঃ) তাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, ‘সালিম বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।’ আর ইবনু আবু উমরের বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন।
৩৪৯৩
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আবু হুযাইফার মুক্তদাস সালিম (রাঃ) আবু হুযাইফা ও তাঁর পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত। একদিন সুহাইলের কন্যা (হুযাইফার স্ত্রী) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, ‘সালিম বয়স্ক পুরুষ হয়ে গেছে, তার বুদ্ধি-বিবেচনা আছে এবং সে আমাদের কাছে অবাধে আসা-যাওয়া করে। আমার ধারণা, এতে আবু হুযাইফার মনে দ্বিধা সৃষ্টি হয়েছে।’ নবী (ﷺ) তাকে বললেন, ‘তুমি তাকে দুধ পান করিয়ে দাও, এতে সে তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবু হুযাইফার মনের দ্বিধা দূর হবে।’ এরপর তিনি আবু হুযাইফার কাছে ফিরে এসে বললেন, ‘আমি তাকে (সালিমকে) দুধ পান করিয়েছি।’ এতে আবু হুযাইফার অসন্তোষ দূর হলো।
৩৪৯৪
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশা (রাঃ)
সুহাইল ইবন আমর-এর কন্যা সহলা নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সালিম (সালিম আবূ হুযাইফার মুক্তদাস) আমাদের সাথে একই ঘরে থাকে, অথচ সে বয়স্ক ও জ্ঞান সম্পন্ন পুরুষের স্তরে পৌঁছে গেছে।’ তিনি বললেন, “তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে তুমি তার প্রতি হারাম হয়ে যাবে।”রাবী (ইবন আবূ মুলাইকা) বলেন, অতঃপর আমি এক বছর বা প্রায় এক বছর কাল ভয়ে উক্ত হাদীস বর্ণনা করিনি। অতঃপর কাসিমের সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, ‘আপনি আমার নিকট এতদিন এমনি এক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা আমি অদ্যাবধি কারোর নিকট বর্ণনা করিনি।’ তিনি বললেন, ‘তা কোন হাদীস?’ তখন আমি তাকে ঐ হাদীসখানার বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেন, ‘তুমি তা আমা হতে এ সূত্রে বর্ণনা কর যে, আয়িশা (রাঃ) আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন।’
৩৪৯৫
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
যায়নাব বিনতু উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)
আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, “তোমার নিকট বালেগ হওয়ার নিকটবর্তী ছেলে প্রবেশ করে থাকে, কিন্তু আমার নিকট ঐ ধরনের ছেলের প্রবেশ করাকে পছন্দ করি না।” রাবী বলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, “তোমার জন্য কি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে সুন্দর আদর্শ বিদ্যমান নেই?” তিনি আরো বললেন, “একদা আবু হুযাইফার স্ত্রী আরজ করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে থাকে, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ এবং এজন্য আবু হুযাইফার অন্তরে কিছুটা অসন্তোষ ভাব বিদ্যমান।’” তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তুমি তাকে তোমার দুধ পান করিয়ে দাও যাতে সে তোমার নিকট প্রবেশ করতে পারে।”
৩৪৯৬
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)
আয়িশা (রাঃ)-কে একদিন বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের সম্পর্ক থেকে মুক্ত, সে আমাকে দেখুক।” তিনি বললেন, “কেন?” একদা সুহাইল-এর কন্যা সাহলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! আমার নিকট সালিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবু হুযাইফার মুখমণ্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি।” আয়িশা (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে আবু হুযাইফার মুখমণ্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে।” সাহলার বর্ণনা, “আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবু হুযাইফার চেহারায় মলিনতা আর দেখতে পাইনি।”
৩৪৯৭
বয়স্কদের দুধপান করানো পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সকল সহধর্মিণী দুধপান সম্পর্কের দ্বারা কাউকে তাঁদের নিকট প্রবেশ করতে নিষেধ করেন এবং তাঁরা আয়িশা (রাঃ)-কে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমরা এটাকে (প্রাপ্ত বয়সে দুধপান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়াকে) একটি বিশেষ অনুমতি মনে করি যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবল সালিমের জন্য দিয়েছিলেন। অতএব এ ধরনের দুধপানের মাধ্যমে কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করতে পারবে না এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করতে পারবে না।
৩৪৯৮
ক্ষুধার্ত অবস্থায় দুধপান করাতেই দুধভাই সাব্যস্ত হয় পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাযিঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট এলেন, তখন আমার নিকট একজন পুরুষ উপবিষ্ট ছিলেন। তাতে তাঁর মন অতিভারাক্রান্ত হয় এবং আমি তাঁর চেহারায় ক্রোধের আলামত দেখতে পেলাম। আমি তখন বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যক্তি আমার দুধভাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কারা তোমাদের দুধ ভাই, তা তোমরা ভালো করে দেখে নাও। কেননা রজা‘আহ সাবিত হয় যখন দুধপানের দ্বারা সন্তানের ক্ষুধা নিবারণ হয়।
৩৪৯৯
ক্ষুধার্ত অবস্থায় দুধপান করাতেই দুধভাই সাব্যস্ত হয় পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, ইবনু বাশ্শার, ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্, যুহায়র ইবনু হারব ও ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমুল্লাহ)
সকলেই আশআস ইবনু শাআবী আবূল আহওয়াস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা বলেন, “ক্ষুধার কারণে”।
৩৫০০
ইসতিবরার [৫২] পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়িয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুনাইনের যুদ্ধের সময় একটি দল আওতাসের দিকে পাঠান। তারা শত্রু দলের মুখোমুখি হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে এবং তাদের অনেক কয়েদি তাদের হস্তগত হয়। এদের মধ্যে থেকে দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কয়েকজন সাহাবী যেন নাজায়েজ মনে করলেন, তাদের মুশরিক স্বামী বর্তমান থাকার কারণে। আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন “এবং নারীর মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতীত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ” অর্থাৎ তারা তোমাদের জন্য হালাল, যখন তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে নিবে।
৩৫০১
ইসতিবরার [৫২] পর যুদ্ধ বন্দিনীর সাথে সঙ্গম করা জায়িয এবং তার স্বামী বর্তমান থাকলে সে বিবাহ বাতিল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
নবী (ﷺ) হুনায়েন যুদ্ধের সময় একটি ছোট সেনাদল পাঠান- পরবর্তী অংশ ইয়াজীদ ইবন যুরাই-এর হাদিসের মর্মানুসারে। তবে এতে রয়েছে- তাদের (মহিলাদের) মধ্য থেকে যারা তোমাদের অধিকারভুক্ত তারা তোমাদের জন্য হালাল। এ বর্ণনায় “যখন তারা তাদের ‘ইদ্দত পূর্ণ করবে”-অংশটুকু উল্লেখ নেই।