৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৪০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৩৯১
স্বীয় ক্রীতদাসীকে আযাদ করে বিবাহ করার ফযীলাত প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
খায়বারের যুদ্ধে আমি আবু তালহা (রাঃ)-এর পিছনে সওয়ার ছিলাম। আমার পা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কদম মুবারক স্পর্শ করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সূর্যোদয়ের সময় খায়বারবাসীদের নিকট পৌঁছলাম। তারা তখন চতুষ্পদ জন্তু, কোদাল, বস্তু ও রশি নিয়ে বের হচ্ছিল। তারা বলতে লাগল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পঞ্চবাহিনী (পূর্ণ বাহিনী) নিয়ে এসে গেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: খায়বার ধ্বংস হোক, আমরা যখন কোনো শত্রু দলের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃত লোকদের প্রভাত হয় মন্দ।বর্ণনাকারী বলেন, (ঐ অভিযানে) আল্লাহ তাদের পরাজিত করেছেন। দিহয়া (রাঃ)-এর ভাগে পড়ে সুন্দরী দাসী। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাতজন দাসের বিনিময়ে সে দাসীকে খরিদ করে নেন। অতঃপর তিনি তাকে উম্মু সুলাইম (রাঃ)-এর হাওয়ালা করেন যাতে তিনি তাঁকে ঠিকঠাক করে প্রস্তুত করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয় রাবী এ কথাও বলেছেন, সে যেন তাঁর ঘরে ইদ্দত পূর্ণ করে। তিনি ছিলেন হুয়াইয়ের কন্যা সাফিয়্যা (রাঃ)।বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খেজুর, পানীয় ও ঘি দিয়ে তার ওয়ালিমা করলেন। এ উদ্দেশে জমিনের কিছু অংশ গর্ত আকারের করে তাতে চামড়ার বড় দস্তরখান বিছিয়ে দেয়া হয়। এতেই পানীয় ও ঘি রাখা হয়। সকলেই তা তৃপ্তির সাথে আহার করলেন।বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বলতে লাগল: আমরা জানি না, তিনি তাকে বিবাহ করলেন, না উম্মু ওয়ালাদ (দাসী) রূপে গ্রহণ করলেন। আবার কয়েকজন বলতে লাগল, যদি তিনি তাঁর পর্দার ব্যবস্থা না করেন তবে তিনি তাঁর উম্মু ওয়ালাদ। তিনি যখন বাহনে সওয়ার হওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁর জন্য পর্দার ব্যবস্থা করলেন। এরপর সফিয়্যা (রাঃ) উটের পিছনের দিকে বসলেন। তখন লোকেরা জানতে পারল যে, তিনি তাঁকে বিবাহ করেছেন।সাহাবীগণ যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন দ্রুত অগ্রসর হতে থাকলেন এবং আমরাও দ্রুত চললাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদবা নামক উষ্ট্রী হোঁচট খেলে তিনি উটের পিঠ থেকে জমিনে পড়ে গেলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জমিনে পড়ে যান এবং সাফিয়্যা (রাঃ)-ও পড়ে যান। তিনি দাঁড়িয়ে সাফিয়্যা (রাঃ)-কে পর্দার দ্বারা আবৃত করে দেন। এ দেখে কতিপয় মহিলা বলতে লাগল, ইয়াহুদিয়া মহিলাকে আল্লাহ তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আবু হামজা! সত্যিই কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটনী থেকে জমিনে পড়ে গিয়েছিলেন? তিনি শপথ করে বললেন, হ্যাঁ।
৩৩৯২
স্বীয় ক্রীতদাসীকে আযাদ করে বিবাহ করার ফযীলাত প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
আমি নিজে যায়নাব (রাঃ)-এর ওয়ালীমা অনুষ্ঠানে ছিলাম। সে অনুষ্ঠানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের তৃপ্তি সহকারে রুটি ও গোশত আহার করিয়েছিলেন। সে ওয়ালীমার দাওয়াত দেওয়ার জন্য তিনি আমাকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি যখন ওয়ালীমার কাজ শেষ করে উঠলেন আমিও তাঁর পিছনে চললাম। তখনও দুইজন লোক ঘরে কথাবার্তায় ব্যস্ত রইল, তারা বের হল না।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীগণের নিকট গেলেন এবং প্রত্যেককেই ‘আস্সালামু আলাইকুম’ বলে সালাম জানিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে গৃহবাসী! তোমরা কেমন আছো?” উত্তরে প্রত্যেকেই বলেন, “আমরা ভাল আছি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আপনার নব পরিণীতাকে কেমন পেয়েছেন?” বললেন, “ভালই।” তিনি যখন এ কাজ শেষ করে ফিরে এলেন আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। যখন তিনি দরজার কাছে এলেন- দেখলেন যে, সে দুইজন আলোচনায় রত আছে। তারা তাঁকে ফিরে যেতে দেখে উঠে চলে গেল।আনাস (রাঃ) বলেন, “আল্লাহর শপথ! আমার মনে নেই, ঘর থেকে ঐ দুইজন লোকের বের হয়ে যাওয়ার কথা আমি তাঁকে জানিয়ে ছিলাম, না এ ব্যাপারে তাঁর উপর ওহী নাযিল হয়েছিল।” তিনি আবার ফিরে এলেন এবং আমিও তার সঙ্গে ফিরে এলাম। যখন তিনি দরজার চৌকাঠে পা রাখলেন তখন তিনি আমার ও তাঁর মাঝে পর্দা টেনে দিলেন, আর আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন- “তোমরা নবীর ঘরে তাঁর বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করবে না।”
৩৩৯৩
স্বীয় ক্রীতদাসীকে আযাদ করে বিবাহ করার ফযীলাত প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
সফিয়্যা (রাঃ) দিহইয়া (রাঃ)-এর ভাগে পড়েন। লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তাঁর প্রশংসা করে বলতে লাগলো, আমরা কয়েদীদের মধ্যে তাঁর কোন জুড়ি দেখিনি। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন তিনি দিহইয়াকে ডেকে পাঠালেন এবং সফিয়্যার বদলে তাকে যা তিনি চাইলেন তা দিয়ে দিলেন। অতঃপর তিনি সফিয়্যাকে আমার মা (উম্মু সুলায়ম)-এর কাছে দিয়ে বললেন, তুমি তাকে (সাজিয়ে) ঠিকঠাক করে দাও।আনাস (রাঃ) বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার থেকে বের হয়ে পড়লেন। যখন ছেড়ে আসলেন তখন অবতরণ করলেন। অতঃপর সফিয়্যার উপর একটি তাঁবু খাটিয়ে দিলেন। ভোরে উঠে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যার কাছে উদ্বৃত্ত খাদ্য আছে সে যেন তা আমার কাছে নিয়ে আসে। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন লোকজন তার উদ্বৃত্ত খেজুর এবং উদ্বৃত্ত ছাতু আনতে লাগল। এমনকি এগুলোর একটি স্তূপ পরিমাণ জমা করে হায়স তৈরী করল। অতঃপর সকলে হায়স থেকে খেতে লাগল এবং বৃষ্টির পানির হাউজ থেকে তারা পানি পান করতে লাগল।বর্ণনাকারী (সাবিত) বলেন, আনাস (রাঃ) বলেন, তাই ছিল সফিয়্যা (রাঃ)-এর ওয়ালীমা। অতঃপর আমরা রওয়ানা দিলাম এবং যখন মাদীনার প্রাচীরগুলো দেখতে পেলাম তখন মাদীনার জন্য আমাদের মন উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। আমরা আমাদের সওয়ারীগুলোকে দ্রুত চালনা করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সওয়ারীকে দ্রুত চালালেন।আনাস (রাঃ) বলেন, সফিয়্যা তাঁর পিছনে তাঁর সাথে সওয়ার করে গিয়েছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উটনী হোঁচট খায়। ফলে তিনি ও সফিয়্যা (রাঃ) পড়ে যান। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা কেউ তাঁর ও সফিয়্যার দিকে দৃষ্টিপাত করেননি। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে তাঁকে আবৃত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা মাদীনায় প্রবেশ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অপরাপর সহধর্মিণীগণ বের হয়ে সফিয়্যাকে একজন আর একজনকে দেখাতে লাগলেন এবং তাঁর মাটিতে পড়ে যাওয়ার কারণে আফসোস করতে লাগলেন।
৩৩৯৪
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
যখন যায়নাব (রাঃ)-এর ইদ্দত পূর্ণ হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ (রাঃ)-কে বললেন, “তুমি যায়নাবের নিকট আমার কথা উল্লেখ কর।” আনাস (রাঃ) বলেন, যায়দ (রাঃ) রওনা হলেন এবং তাঁর নিকট গেলেন। তখন তিনি আটা খামির করছিলেন। যায়দ (রাঃ) বলেন, আমি যখন তাঁকে দেখলাম তাঁর মর্যাদা আমার অন্তরে এমনভাবে জাগ্রত হল যে, আমি তাঁর প্রতি তাকাতে পারলাম না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে স্মরণ করেছেন। তাই আমি তাঁর দিকে পিঠ ফিরে দাঁড়ালাম এবং পিছনের দিকে সরে পড়লাম। এরপর বললাম, “হে যায়নাব! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে স্মরণ করে আমাকে পাঠিয়েছেন।” তিনি বললেন, “আমি এ সম্পর্কে কিছুই করব না যে পর্যন্ত না আমি আমার রবের কাছ থেকে নির্দেশ লাভ না করি।” এরপর তিনি তাঁর সালাতের জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালেন।এদিকে কুরআন নাযিল হল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে যায়নাবের বিনা অনুমতিতেই তাঁর ঘরে প্রবেশ করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমরা দেখেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (যায়নাবের সে বিবাহ উপলক্ষে) দুপুর বেলায় আমাদের রুটি গোশ্ত খাইয়েছেন। খাওয়া-দাওয়ার পর লোকেরা বের হয়ে গেল কিন্তু কয়েকজন লোক খাওয়ার পর আলাপে মশগুল থাকল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে পড়লেন, আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। তিনি তাঁর বিবিগণের ঘরে ঘরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের সালাম করতে লাগলেন। আর বিবিগণ তাঁকে জিজ্ঞেস করছিলেন, “ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনার এ স্ত্রীকে কেমন পেয়েছেন।” আনাস (রাঃ) বলেন, আমার মনে নেই, (আলাপরত) সে লোকদের বের হয়ে যাওয়ার কথা আমিই তাঁকে জানিয়ে ছিলাম, না তিনিই আমাকে জানিয়েছিলেন।অতঃপর তিনি চললেন এবং সে ঘরে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলাম। তিনি আমার ও তাঁর মধ্যে পর্দা টেনে দিলেন। আর পর্দার বিধান নাযিল হল। আনাস (রাঃ) বলেন, লোকদের নাসীহাত দিলেন দেয়ার যা ছিল।ইবনু রাফি’ তার হাদীসে অতিরিক্ত বর্ণনা করতে গিয়ে এ আয়াত উল্লেখ করেন: “তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য প্রস্তুতির অপেক্ষা না করে নবী গৃহে প্রবেশ করবে না... কিন্তু আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচবোধ করেন না।” (সূরা আল আহযাব ৩৩:৫৩)
৩৩৯৫
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কোন মহিলার জন্য- আবু কামিল বলেন, তাঁর কোন স্ত্রীর জন্য- সেরূপ ওয়ালীমা করতে দেখিনি যেমন ওয়ালীমা করেছেন যায়নাবের জন্য। তার জন্য তিনি একটি বকরী যবেহ করেছেন।
৩৩৯৬
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
যায়নাব (রাঃ)-এর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এত অধিক পরিমাণ অথবা উত্তমভাবে ওয়ালীমা করেছিলেন, যা তিনি তাঁর সহধর্মিণীদের কারো জন্য করেননি। সাবিত বুনানি জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী দিয়ে ওয়ালীমা করেছিলেন? তিনি (আনাস রাঃ) বললেন, সবাইকে তিনি রুটি ও গোশত খাওয়ালেন। এমনকি তারা উদ্বৃত্ত রেখে গেল।
৩৩৯৭
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
নবী (ﷺ) যখন যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন তখন তিনি লোকদের দা‌ওয়াত করেন। তারা খাওয়া-দাওয়া করে বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন নবী (ﷺ) যেন দাঁড়াতে উদ্যত হলেন তবুও তারা উঠল না। এরূপ দেখে তিনি উঠে গেলেন। তারা উঠে যাওয়ার পর তাদের মধ্যে যারা উঠবার তারা উঠে গেল।আসিম ও ইবনু আবদুল আঈলা (রহঃ)-এর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে- আনাস (রাঃ) বলেন, কিন্তু তিনজন লোক ঘরে বসে রইল। নবী (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করার জন্য এসে দেখতে পান যে, কয়েকজন লোক বসে আছে। এরপর তারাও উঠে চলে গেল। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি এসে তাদের চলে যাওয়ার সংবাদ নবী (ﷺ)-কে দিলাম।আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি এসে প্রবেশ করলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে প্রবেশ করতে অগ্রসর হলাম। এ সময় তিনি আমার ও তাঁর মাঝখানে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আর আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন: “তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা খাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে নাবীগৃহে প্রবেশ করবে না... -আল্লাহর দৃষ্টিতে এটা গুরুতর অপরাধ”।
৩৩৯৮
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
আমি পর্দার হুকুম সংক্রান্ত ঘটনা সম্পর্কে সবার চাইতে বেশি অবগত। এ ব্যাপারে উবাই ইবনু কাব (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করতেন। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়নাব বিনত জাহশের স্বামী হন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বিবাহ করেন মদিনায়। এ উপলক্ষে তিনি দ্বিপ্রহরের সময় খাওয়ার জন্য লোকদের দাওয়াত দেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বসলেন এবং তারা তাঁর সঙ্গে বসল। লোকদের যারা উঠে যাওয়ার উঠে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠলেন এবং রওনা হলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে চলতে থাকলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর হুজরায় পৌঁছলেন। যখন তিনি ধারণা করলেন যে, তারা (উপবিষ্ট লোকজন) বেরিয়ে গেছে তখন তিনি ফিরে এলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ফিরে এলাম। দেখা গেল, তখন তারা তাদের জায়গায় বসা আছে। তখন তিনি ফিরে গেলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফিরে গেলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর হুজরায় পৌঁছলেন। আবার তিনি যায়নাবের ঘরের দিকে ফিরলেন। দেখা গেল, লোকেরা চলে গেছে। তখন তিনি আমার ও তাঁর মাঝখানে পর্দা টেনে দিলেন। আর পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হয়।
৩৩৯৯
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (জয়নাব বিনতে জাহশকে) বিবাহ করেন এবং তার সহধর্মিণীর কাছে গেলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমার মা উম্মু সুলাইম (রাঃ) হায়স (হালুয়া) তৈরি করেছিলেন এবং তা একখানি ছোট পাত্রে রেখে আমাকে বললেন, হে আনাস! এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে নিয়ে যাও এবং তাঁকে বল, এটা আমার মা আপনার খিদমতে পাঠিয়েছেন এবং আপনাকে সালাম পৌঁছিয়েছেন। (আরও বলো যে) তিনি বলেছেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ সামান্য (হায়স) আপনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে (দেয়া হল)। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি হায়স নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম এবং বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং বলেছেনঃ এ সামান্য (হায়স) আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে দেয়া হল। তিনি বললেন, এটা রাখ। অতঃপর বললেনঃ তুমি যাও, অমুক অমুক অমুককে দাওয়াত দাও এবং সেসব লোককেও যাদের সাথে তোমার সাক্ষাৎ হবে। এ বলে, তিনি লোকদের নাম বললেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি তখন বর্ণিত লোকদের দাওয়াত দিলাম এবং তাদেরও যাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হল। সাবিত (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, (আমন্ত্রিত লোকদের) সংখ্যা কত ছিল? তিনি বললেন, প্রায় তিনশত।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আনাস! (হায়সের) পাত্রটি নিয়ে এসো। আনাস (রাঃ) বলেন, দাওয়াতপ্রাপ্ত লোকজন এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরে ও তাঁর চতুষ্পার্শ্বে ভিড় করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন- তোমরা দশ দশ জন করে একত্রিত হয়ে প্রত্যেকেই পাত্র থেকে নিজের সামনের স্থান থেকে খাদ্য গ্রহণ কর। আনাস (রাঃ) বললেন, সকলেই খেয়ে তৃপ্ত হলেন। একদল গেল আরেক দল প্রবেশ করল। এভাবে সকলে খাবার কাজ সেরে নিল। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন, হে আনাস! (হায়সের পাত্র) উঠাও। এরপর আমি পাত্রটি তুলে নিলাম। পাত্রটি রাখার সময় এতে খাদ্য বেশি ছিল কিনা সেটি উঠাবার সময় তা আমি বুঝতে পারিনি।আনাস (রাঃ) বলেন, তাদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘরে বসে কথাবার্তা বলতে লাগল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সেখানে) বসা ছিলেন এবং তাঁর সহধর্মিণী (জয়নাব) দেয়ালমুখী হয়ে পিছনে ফিরে রইলেন। তাদের উপস্থিতি তাঁর কাছে কষ্টকর মনে হল। অতঃপর তিনি তাঁর অন্যান্য বিবিদের কাছে বেরিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে এলেন। তাঁরা যখন দেখল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে এসেছেন, তারা বুঝতে পারল যে, তাদের এ কাজ (আলাপচারিতা) তাঁর (ﷺ)-এর জন্য কষ্টকর হয়েছে। আনাস (রাঃ) বললেন, তখন তারা তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগিয়ে গেল এবং সবাই বেরিয়ে গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন এবং পর্দা টেনে দিলেন এবং পর্দার ভিতরে প্রবেশ করলেন। আমি ঘরে বসে রইলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি আমার কাছে ফিরে এলেন। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এসে এ আয়াতগুলো লোকদের কাছে পাঠ করে শোনালেন- (অর্থ) “হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে তোমরা আহার্য প্রস্তুতের জন্য অপেক্ষা না করে আহার গ্রহণের জন্য নবীর গৃহে প্রবেশ করবে না, তবে তোমাদের আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে এবং আহারের পর তোমরা চলে যাবে এবং কথাবার্তায় মশগুল হয়ে পড়বে না। কারণ তোমাদের এ আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়” ... আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরা আহযাব ৩৩: ৫৩)। রাবী জা’দ (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমি লোকদের কাছে হাদিস বর্ণনা করছিলাম, এ আয়াতের প্রতি অনুগত হওয়ার জন্যে। আর নবী (ﷺ)-এর বিবিগণকে পর্দার আড়ালে নেয়া হল।
৩৪০০
যায়নাব বিনতু জাহ্‌শকে বিবাহ করা, পর্দার হুমুম নাযিল হওয়া এবং বিবাহের ওয়ালীমাহ্‌ সাবিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাযিঃ)
যখন নবী (ﷺ) যায়নাবকে বিবাহ করলেন তখন উম্মু সুলাইম (রাঃ) পাথরের একটি পাত্রে তাঁর জন্য হায়স পাঠালেন। আনাস (রাঃ) বলেন, তখন নবী (ﷺ) বললেন: “তুমি যাও, মুসলিমদের মধ্যে যার সঙ্গে তোমার সাক্ষাৎ হয় তাকে আমার পক্ষ থেকে দাওয়াত দাও।”অতঃপর যার সঙ্গে সাক্ষাৎ হল আমি তাকে দাওয়াত দিলাম। তারা তাঁর কাছে আসতে শুরু করল এবং খেয়ে চলে যেতে লাগল। আর নবী (ﷺ) তাঁর হাত খাদ্যের উপর রাখলেন এবং তাতে দোয়া পড়লেন। এতে আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি যা পড়ার তা পড়লেন। যারই সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে তাকেই দাওয়াত দিতে বাদ দেইনি। সকলেই খেল এবং তৃপ্ত হল। তারা বেরিয়ে গেল কিন্তু তাদের একদল রয়ে গেল। তারা সেখানে দীর্ঘালাপে লিপ্ত রইল। নবী (ﷺ) তাদের কিছু বলতে লজ্জাবোধ করছিলেন। তাই তিনি নিজেই বেরিয়ে গেলেন এবং তাদের ঘরে রেখে গেলেন।তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন- (অর্থ) “হে মুমিনগণ! তোমাদের অনুমতি দেয়া না হলে আহার্য প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা না করে আহার গ্রহণের জন্য তোমরা নবী গৃহে প্রবেশ করবে না।” কাতাদা (রহঃ) বলেন, তোমরা আহার্য প্রস্তুতির সময়ের যদি অপেক্ষা না কর তবে তোমাদের আহ্বান করলে তোমরা প্রবেশ করবে। এ বিধান তোমাদের ও তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র”- (সূরা আল আহযাব ৩৩:৫৩)।