৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩২৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩২২১
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, মদিনা হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা এবং সমগ্র মানব জাতির লা’নাত। কেয়ামতের দিন তার ফরজ বা নফল (কিছুই) কবুল করা হবে না।
৩২২২
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি ‘কেয়ামতের দিন’ কথাটুকু বলেননি। তিনি বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, “মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তা কার্যকর। কেউ যদি মুসলিম প্রদত্ত নিরাপত্তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে তবে তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা এবং সমগ্র মানবজাতির লা’নত। কেয়ামতের দিন তার ফরজ বা নফল কিছুই কবুল হবে না।
৩২২৩
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আমি যদি মদীনায় হরিণ বিচরণ করতে দেখি তবে তাকে ভয় দেখাব না। (কেননা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মাদীনার দু’ পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম।
৩২২৪
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদিনার দুপাশের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম ঘোষণা করেছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি যদি মদিনার দুপাশের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশে হরিণ বিচরণ করতে দেখি, তবে আমি তাকে উত্যক্ত করব না এবং তিনি মদিনার চারপাশের বারো মাইল পর্যন্ত চরণভূমি ঘোষণা করেছেন।
৩২২৫
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
লোকেরা যখন প্রথম (পাকা) ফল দেখতে পেত, তা নিয়ে নবী (ﷺ)-এর নিকট আসত এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তা গ্রহণ করতেন তখন তিনি নিম্নোক্ত দোয়া পড়তেন : “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে) বরকত দান করুন, আমাদের মদিনায় বরকত দান করুন, আমাদের সা‘-এ বরকত দান করুন এবং আমাদের মুদ্দ-এ বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহিম (আঃ) আপনার বান্দা, প্রিয় বন্ধু ও নবী। আর আমিও আপনার বান্দা ও নবী। তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দোয়া করেছেন। আমিও আপনার নিকট মদিনার জন্য দোয়া করছি- যেমন তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দোয়া করেছিলেন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু”। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কোন শিশুকে ডাকতেন এবং তাকে এ ফল দিয়ে দিতেন।
৩২২৬
মদীনার ফযীলাত, এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী (স.)-এর দু’আ, মদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
মৌসুমের প্রথম ফল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেয়া হত। তিনি তখন বলতেন : “হে আল্লাহ! আমাদের মদীনায়, আমাদের ফলে (বা উৎপন্ন ফসলে), আমাদের মুদ্দ-এ ও আমাদের সা‘-এ বরকত দান করুন, বরকতের উপর বরকত দান করুন”। অতঃপর তিনি ফলটি তাঁর নিকট উপস্থিত সবচেয়ে ছোট শিশুকে দিয়ে দিতেন।
৩২২৭
মদীনাতে বসবাস করার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও এর বিপদে ধৈর্য ধারণ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ মাওলা আল মাহরী (রহঃ)
তাঁরা মদিনায় কষ্ট ও দুঃখে পতিত হন। তিনি আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বললেন, “আমার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক এবং আমরা দুঃখ দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছি। তাই আমি আমার পরিবারকে কোন শস্য শ্যামল এলাকায় স্থানান্তরের মনস্থ করেছি।”আবু সাঈদ (রাঃ) বললেন, “তা করো না; বরং মদিনাকে আঁকড়ে থাক। কারণ, একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে বের হলাম, আমার মনে হয়, তিনি এও বলেছেন যে, এবং 'উসফান' পর্যন্ত পৌঁছলেন। এখানে তিনি কয়েক রাত অবস্থান করলেন। লোকেরা বলল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা এখানে অযথা সময় নষ্ট করছি। অথচ আমাদের পরিবার পরিজন আমাদের পশ্চাতে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে এবং আমরা তাদের (নিরাপত্তার) ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছি না।’”এ কথা নবী (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বলেন: “কী ব্যাপার, তোমাদের এ কথা আমার নিকটে পৌঁছেছে।” রাবী বলেন, আবু সাঈদ (রাঃ) কথাটা কিভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন তা আমার হুবহু মনে নেই। “সে সত্তার নামে শপথ অথবা সে সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অবশ্য আমি মনস্থ করেছি, অথবা যদি তোমরা চাও” - রাবী বলেন, আবু সাঈদ (রাঃ) কোনটি বলেছেন তা আমার সঠিক মনে নেই। তবে আমি নিশ্চিত আমার উষ্ট্রীকে অগ্রসর হবার নির্দেশ দিব এবং মদিনায় পৌঁছা পর্যন্ত তার একটি গিটও খুলব না (যাত্রা বিরতি করব না)।অতঃপর তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই ইবরাহিম (আঃ) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন এবং তা পবিত্র ও সম্মানিত হয়েছে। আর আমি মদিনাকে হারাম ঘোষণা করলাম - যা দুই পাহাড়ের (আয়র ও উহুদ) মধ্যস্থলে অবস্থিত। অতএব এখানে রক্তপাত করা যাবে না, এখানে যুদ্ধের উদ্দেশে অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং পশু খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যতীত গাছপালার পাতাও পাড়া যাবে না। হে আল্লাহ! আমাদের এ শহরে বরকত দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের সা-এ বরকত দান করুন, হে আল্লাহ! আমাদের মুদ-এ বরকত দান করুন, হে আল্লাহ! বরকতের সাথে আমাদের আরো দুইটি বরকত দান করুন।”সে সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! মদিনার এমন কোন প্রবেশ পথ বা গিরি পথ, বা পাহাড়ের পথ নেই যেখানে তোমাদের মদিনায় ফিরে আসা পর্যন্ত দুইজন করে ফেরেশতা পাহারায় নিযুক্ত নেই। পুনরায় তিনি লোকদের উদ্দেশে বললেন, “তোমরা রওনা হও।”অতএব আমরা রওনা হলাম এবং মদিনায় এসে পৌঁছলাম। সে সত্তার শপথ যাঁর নামে আমরা শপথ করি অথবা যাঁর নামে শপথ করা হয় - হাম্মাদ তাঁর ঊর্ধ্বতন রাবী কোনটি বলেছেন সে সম্বন্ধে সন্দেহে পড়েছেন। আমরা মদিনায় প্রবেশ করে বাহনের পিঠের হাওদা তখনও খুলিনি - ইত্যবসরে আবদুল্লাহ ইবনু গতফান গোত্রের লোকেরা আমাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ করে, অথচ ইতোপূর্বে এরূপ কিছু করার দুঃসাহস তাদের হয়নি।
৩২২৮
মদীনাতে বসবাস করার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও এর বিপদে ধৈর্য ধারণ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “হে আল্লাহ! আমাদের মুদ্দ ও সা’তে বরকত দিন এবং বরকতের সাথে আরও দুইটি বরকত দান করুন।
৩২২৯
মদীনাতে বসবাস করার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও এর বিপদে ধৈর্য ধারণ করা পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর (রহঃ)
এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৩২৩০
মদীনাতে বসবাস করার প্রতি উৎসাহ প্রদান ও এর বিপদে ধৈর্য ধারণ করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ মাওলা আল মাহরী (রহঃ)
তিনি আল হাররার রাতগুলোতে আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর নিকট এলেন এবং মদিনা থেকে (কোথাও) চলে যাওয়ার পরামর্শ করলেন। তিনি তাঁর কাছে এখানকার দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও নিজের বৃহৎ পরিবারের অভিযোগ করলেন। তিনি তাঁকে আরও জানালেন যে, তিনি এখানকার কষ্ট ও রুক্ষ আবহাওয়া সহ্য করতে পারছেন না। আবু সাঈদ (রাঃ) তাঁকে বললেন, “তোমার জন্য দুঃখ হয়, আমি তোমাকে মদিনা ত্যাগের পরামর্শ দিতে পারি না। কারণ, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এখানকার কষ্ট সহ্য করে মৃত্যুবরণ করবে, কেয়ামতের দিন অবশ্যই আমি তার জন্য শাফা‘আত করব অথবা সাক্ষী হব, যদি সে মুসলিম হয়ে থাকে।”