৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩২০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩১৯১
হজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনান্তে মুহাজিরগণের মক্কায় অনধিক তিনদিন অবস্থান জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আলা ইবনুল হাযরামী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শেষ করার পর মুহাজিরগণ মক্কায় তিন দিন অবস্থান করতে পারবে।
৩১৯২
হজ্জ ও ‘উমরাহ্ সমাপনান্তে মুহাজিরগণের মক্কায় অনধিক তিনদিন অবস্থান জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সনদে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
৩১৯৩
মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়ত অব্যাহত থাকবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহ্বান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মাক্কা বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তা’আলা এ শহরকে সম্মানিত করেছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকে। অতএব কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তা’লা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ন রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ-বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তা’লা কর্তৃক কেয়ামত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকার পশুদের তাড়ানো যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস কেবলমাত্র যে লোক তা পরিচয় দেবে সে ছাড়া কেউ তুলতে পারবে না এবং এখানে ঘাস কাটা যাবে না। তখন আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির (লম্বা ঘাস) সম্পর্কে (অনুমতি দিন)। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বললেন, কিন্তু ইযখির (তোলার অনুমতি দেয়া হল)।
৩১৯৪
মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ (রাঃ)
মানসূর (রহঃ) থেকে এ সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহকারে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি “যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন” কথাটুকুর উল্লেখ করেননি এবং ‘কিতাল’ শব্দের পরিবর্তে ‘কতল’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর বলেছেনঃ "যে ঘোষণা দেয় সে ব্যতীত অন্য কেউ যেন তার কুড়ানো জিনিস না তোলে।"
৩১৯৫
মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ শুরায়হ আল ‘আদাবী (রাঃ)
আমর ইবনু সাঈদ (ইবনুল আস ইবনু উমাইয়্যাহ) যখন মক্কা অভিযানের উদ্দেশ্যে সৈন্য বাহিনীসহ রওনা করেন তখন আবু শুরাইহ (রাঃ) তাকে বলেন, “হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলতে যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কা বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দুই কান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সে দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই মক্কাকে আল্লাহ তা’আলা হারামে পরিণত করেছেন- কোন মানুষ তাকে হারামের মর্যাদায় উন্নীত করেনি।অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে- তার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তা’আলা তাঁর রসূল (ﷺ)-কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি তাও এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সে হুরমত (মর্যাদা) গতকালের মতো পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন (এ কথা) অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়।”আবু শুরাইহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল- আমর আপনাকে কী জবাব দিল? তিনি বললেন, “হে আবু শুরাইহ! এ সম্পর্কে আমি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম (কাবা) কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না।
৩১৯৬
মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে মাক্কা বিজয় দান করলেন- তখন তিনি লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চিত আল্লাহ তা'আলা হস্তীবাহিনীর মাক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদান করেছেন এবং তাঁর রসূল (ﷺ) ও মু’মিনদেরকে মক্কা অভিযানে বিজয়ী করেছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত বৈধ ছিল না। আর আমার জন্যও একদিনের কিছু সময় এখানে যুদ্ধ করা হালাল করা হয়েছিল। আমার পরে আর কারও জন্য তা কখনও হালাল করা হবে না। অতএব এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবন করা যাবে না, এখানকার কাঁটাদার গাছও উপড়ানো যাবে না এবং এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তবে ঘোষণাকারী (তা তুলে নিতে পারবে)। কারও কোন আত্মীয় নিহত হলে তার জন্য দুইটি অবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে: হয় ফিদ্যা (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে নতুবা হত্যাকারীকে কিসাস স্বরূপ হত্যা করতে হবে। আব্বাস (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস যা আমরা কবরের মধ্যে এবং আমাদের ঘরের চালায় ব্যবহার করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: কিন্তু ইযখির ঘাস (এর কাটার অনুমতি দেয়া হল)। ইয়ামানের অধিবাসী আবু শাহ (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে (এ কথাগুলো) লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা আবু শাহকে লিখে দাও। ওয়ালিদ (রহঃ) বলেন, আমি আওজায়ী (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম: “হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন”— তাঁর এ কথার অর্থ কী? তিনি বললেন, যে ভাষণ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিতে শুনলেন তা।
৩১৯৭
মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
বানু লায়স কর্তৃক বানু খুযা আর এক ব্যক্তি হত্যার প্রতিশোধস্বরূপ শেষোক্ত গোত্রের লোকেরা মক্কা বিজয়ের সময়ে প্রথমোক্ত গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি নিজ সাওয়ারীতে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশ প্রতিরোধ করেন এবং তাঁর রসূল (ﷺ) ও মু’মিনদেরকে এর উপর বিজয়ী করেন।সাবধান! আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কখনও কারও জন্য তা হালাল নয়। সাবধান! আমার জন্যও এক দিনের সামান্য সময় এখানে (রক্তপাত) বৈধ করা হয়েছিল। সাবধান! এ মুহূর্তে আবার তা (আমার জন্যও) হারাম হয়ে গেল। অতএব এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না এবং পথে পড়ে থাকা বস্তুও তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি (তা তুলতে পারবে)। যার কোন আত্মীয় নিহত হয়েছে তার দুইটি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। হয় ফিদিয়া (রক্তপণ) গ্রহণ করতে হবে, নতুবা কিসাসস্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করতে হবে।রাবী বলেন, আবু শাহ (রাঃ) নামক ইয়ামানের এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে লিখে দিন। তিনি বললেন, তোমরা আবু শাহকে লিখে দাও। কুরায়শ বংশের এক ব্যক্তি বললেন, কিন্তু ইযখির ঘাস- আমরা তো তা আমাদের ঘর তৈরির কাজে এবং কবরের জন্য ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত।
৩১৯৮
নিষ্প্রয়োজনে মক্কায় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি : তোমাদের কারো জন্য মক্কায় অস্ত্র বহন করা হালাল নয়।
৩১৯৯
মক্কায় ইহরামবিহীন অবস্থায় প্রবেশ জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের সময়ে লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেন। তিনি যখন তা মাথা থেকে নামিয়ে রাখলেন তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলল, ইবনু খাতালকে কা’বার গেলাফের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি বললেন, তোমরা তাকে হত্যা কর। ইয়াহিয়া ইমাম মালিককে জিজ্ঞেস করেন যে, ইমাম যুহরী (রহঃ) আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে তাঁকে এ হাদীস বলেছেন, কিনা? তিনি বলেন, হ্যাঁ।
৩২০০
মক্কায় ইহরামবিহীন অবস্থায় প্রবেশ জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় প্রবেশ করলেন। কুতাইবা (রহঃ) বলেন, “তিনি মক্কা বিজয়ের দিন ইহরামবিহীন অবস্থায় কালো পাগড়ি পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করেন।” কুতাইবা (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে উল্লেখ রয়েছে যে, জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) কালো পাগড়ি পরিধান করে মক্কা বিজয়ের দিন প্রবেশ করেন।