৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৯৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৯৭১
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণী আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, “কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে এতে আমি দোষের কিছু দেখি না এবং আমি নিজেও এতদুভয়ের মাঝে সাঈ বর্জন করায় কিছু মনে করি না।”আয়িশা (রাঃ) বললেন, “হে বোনপুত্র! তুমি যা বলেছ তা মন্দ বলেছ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাফা-মারওয়ার মাঝে) তওয়াফ (সাঈ) করেছেন এবং মুসলিমরাও তওয়াফ করেছে। অতএব, তা সুন্নাত। যে সব লোক (জাহিলি যুগে) ‘মুশাল্লাল’ নামক স্থানে অবস্থিত নাফরমান মানাত দেবীর নামে ইহরাম বাঁধত, তারা সাফা ও মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না। ইসলামের আবির্ভাবের পর আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছি। তখন আল্লাহ তা'আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল করেন, ‘সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ কাবা ঘরের হজ্জ কিংবা উমরা পালন করে, এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ করলে এতে তার কোনো পাপ নেই .....’ – (সূরা আল বাক্বারাহ ২ :১৫৮)। তুমি যা বলেছ, ব্যাপারটি যদি তদ্রূপ হতো তবে বলা হতো, ‘এ দুটির মধ্যে প্রদক্ষিণ না করলে তার কোনো পাপ নেই।’”ইমাম যুহরি (রহঃ) বলেন, “এ প্রসঙ্গটি আমি আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু হারিস ইবনু হিশামের কাছে উল্লেখ করলাম। তিনি তাতে বিস্মিত হলেন এবং বললেন, ‘এর নামই জ্ঞান।’”তিনি আরও বললেন, “জ্ঞানবান সমাজের অনেক লোককে বলতে শুনেছি–সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ বর্জনকারী আরবের অধিবাসীরা বলত, ‘এ দুই পাথরের মাঝে তওয়াফ করা জাহিলী যুগের কাজ।’ আর আনসার সম্প্রদায়ের লোকেরা বলত, ‘আমাদেরকে বায়তুল্লাহ তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফের নির্দেশ দেয়া হয়নি।’” এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা'আলা নাজিল করলেন: “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম।” আবু বকর ইবনু আবদুর রহমান বলেন, “আমিও মনে করি যে, উল্লেখিত দুই সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে উপরোক্ত আয়াত নাজিল হয়েছে।”
২৯৭২
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম .... পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছে- তারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করতে গিয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফকে খারাপ মনে করি। তখন আল্লাহ তা’আলা নিম্নোক্ত আয়াত নাজিল করেন : “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। সুতরাং যে কেউ বাইতুল্লাহর হজ্জ কিংবা উমরাহ পালন করে- এ দুটির মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই।”আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করাকে বিধিবদ্ধ করেছেন। অতএব এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ বর্জন করার কারো অধিকার নেই।
২৯৭৩
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আয়িশা (রাঃ) তাঁকে অভিহিত করেছেন যে, আনসার সম্প্রদায় ও গাসসান গোত্রের নিয়ম ছিল, তারা ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মানাত দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধত। অতএব তারা সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করাকে পাপ মনে করত। এটা ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের রীতি যে, তাদের কোন ব্যক্তি মানাত দেবীর জন্য ইহরাম বাঁধলে সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফ করত না।তারা ইসলাম গ্রহণের পর রসূলল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন এ প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ নাজিল করেন : “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কেউ বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরাহ পালন করে, এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করলে তার কোন দোষ নেই এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করলে আল্লাহ পুরস্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ” – (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ১৫৮)।
২৯৭৪
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আনসারগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে তওয়াফকে খারাপ কাজ মনে করত। অতএব এই সঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয় : “সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। অতএব যে কোন ব্যক্তি বায়তুল্লাহর হজ্জ অথবা উমরা পালন করে এতদুভয়ের মাঝে তওয়াফ করলে, তার কোন দোষ নেই ......।”
২৯৭৫
সা‘ঈ একাধিবার করতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ সাফা-মারওয়ার মাঝে একবারের অধিক সাঈ করেননি।
২৯৭৬
সা‘ঈ একাধিবার করতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। “একবার মাত্র সাঈ (সাত চক্কর), তা হচ্ছে প্রথমবারের সাঈ।”
২৯৭৭
কুরবানীর দিন জামরাতুল ‘আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হজ্জ পালনকারীর তালবিয়াহ্ পাঠ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)
আমি আরাফার ময়দান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে তাঁর বাহনে আরোহণ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুযদালিফার নিকটবর্তী পাহাড়ের বামপাশে পৌঁছে উটকে হাঁটু গেড়ে বসালেন, এরপর (নেমে গিয়ে) পেশাব করলেন এবং ফিরে এলেন। আমি তাঁকে ওজুর পানি ঢেলে দিলাম এবং তিনি সংক্ষেপে (অল্প পানি ব্যবহার করে) ওজু সেরে নিলেন।এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতের সময় হয়েছে। তিনি বললেন, আরও সামনে গিয়ে সালাত আদায় করব। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাহনে আরোহণ করলেন এবং মুযদালিফায় পৌঁছে সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি সকালবেলা ফাযল (রাঃ)-কে তাঁর (বাহনে) পিছন দিকে বসিয়ে রওনা হলেন।
২৯৭৮
কুরবানীর দিন জামরাতুল ‘আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হজ্জ পালনকারীর তালবিয়াহ্ পাঠ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
কুরায়ব
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) ফযল-এর সূত্রে আমাকে অবহিত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন।
২৯৭৯
কুরবানীর দিন জামরাতুল ‘আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হজ্জ পালনকারীর তালবিয়াহ্ পাঠ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) মুযদালিফায় ফাজলকে বাহনে তাঁর পিছনে বসালেন। রাবী বলেন, এরপর ইবন আব্বাস (রাঃ) আমাকে অবহিত করলেন যে, নবী (ﷺ) জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন।
২৯৮০
কুরবানীর দিন জামরাতুল ‘আক্বাবায় পাথর নিক্ষেপ শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত হজ্জ পালনকারীর তালবিয়াহ্ পাঠ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে তার ভাই ফায্‌ল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাহনে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরাফাতে সন্ধ্যাবেলা এবং মুযদালিফায় ভোরবেলা লোকদের উদ্দেশে বললেন, যখন তারা অগ্রসর হচ্ছিল- “তোমরা ধীরে-সুস্থে অগ্রসর হও।” তিনিও নিজে উষ্ট্রীর গতি ধীর করে অগ্রসর হচ্ছিলেন এবং এভাবে মহাস্সির পৌঁছলেন- যা মিনার অন্তর্ভুক্ত। তিনি (এখানে) বললেন, তোমরা নুড়ি পাথর তুলে নাও যা জামরায় নিক্ষেপ করা হয়।রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জামরায় পাথর নিক্ষেপ পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন।