৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৯৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৯৬১
ত্বওয়াফের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
সুওয়ায়দ ইবনু গাফালাহ্ (রহঃ)
আমি উমর (রাঃ)-কে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে এবং তা জড়িয়ে ধরতে দেখেছি। আমি তোমার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গভীর ভালোবাসা লক্ষ্য করেছি।
২৯৬২
ত্বওয়াফের সময় হাজারে আসওয়াদ চুম্বন করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
সুফ্‌ইয়ান (রহঃ)
এ সূত্রে উপরোক্ত হাদীস বর্ণিত। ‘উমর (রাঃ) বলেছেন, কিন্তু আমি আবুল কাসিম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তোমার প্রতি গভীর ভালোবাসা পোষণ করতে দেখেছি। এ বর্ণনায় “তিনি তা জড়িয়ে ধরলেন” কথার উল্লেখ নেই।
২৯৬৩
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটে সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন এবং একটি ছড়ির (মিহজান) সাহায্যে রুকন (পাথর) স্পর্শ করেন।
২৯৬৪
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটনীর উপর থেকে (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করেন এবং তাঁর ছড়ির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করেন- যেন লোকেরা তাঁকে দেখতে পায়। তিনি উঁচুতে থাকেন যাতে তারা তাঁকে মাসআলা-মাসায়েল জিজ্ঞেস করতে পারে, কেননা তিনি লোক দ্বারা বেষ্টিত ছিলেন।
২৯৬৫
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যুবায়র (রহঃ)
তিনি জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন: বিদায় হজ্জে নবী (ﷺ) সওয়ারিতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেছেন-যাতে লোকেরা তাঁকে দেখতে পায়, তিনি সবার উপরে থাকেন এবং তার নিকট তারা (প্রয়োজনের বিষয়) জিজ্ঞেস করতে পারে। কারণ লোকেরা তাঁকে বেষ্টন করে রেখেছিল। ইবন খাশরামের বর্ণনায় “তারা যেন তাঁকে প্রয়োজনীয় বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে পারে” কথাটুকু উল্লেখ নেই।
২৯৬৬
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটে সওয়ার হয়ে কা‘বার চতুর্দিকে তাওয়াফ করেন এবং রুকন স্পর্শ করেন- লোকদের তাঁর নিকট থেকে হটিয়ে দেয়াটা অপছন্দ হওয়ার কারণে।
২৯৬৭
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
মা‘রূফ ইবনু খার্রাবূয (রহঃ)
আমি আবু তুফাইল (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে, তাঁর সাথের লাঠি দিয়ে রুকন স্পর্শ করতে এবং লাঠিতে চুম্বন করতে দেখেছি।
২৯৬৮
উট ও অন্যান্য সওয়ারীতে আরোহণ করে ত্বওয়াফ করা এবং আরোহীর জন্য লাঠি ইত্যাদির সাহায্যে পাথর স্পর্শ করা জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-এর নিকট আমার অসুস্থতার কথা জানালাম। তিনি বললেন, “তুমি সওয়ারি অবস্থায় লোকদের পেছন থেকে তাওয়াফ কর।”উম্মু সালমা (রাঃ) বলেন, আমি (সেভাবে) তাওয়াফ করলাম- তখন রাসূলুল্লাহ(ﷺ) বাইতুল্লাহর পাশে সালাত আদায় করছিলেন। আর তিনি তাতে তিলাওয়াত করছিলেন : আত তূর, ওয়া কিতাবিম মাস্তূর।
২৯৬৯
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমি মনে করি কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ না করলে তার কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কেন? আমি বললাম, কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ ‘সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ......” – (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ১৫৮)।তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, কোনো ব্যক্তি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করলে আল্লাহ তার হজ্জ ও উমরা পূর্ণ করেন না। তুমি যা বলেছ যদি তাই হতো তবে আয়াতটি এভাবে হতো, “ঐ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোনো অসুবিধা নেই।” তুমি কি জান ব্যাপারটি কী ছিল?ব্যাপার তো ছিল এই যে, আনসারগণ জাহিলী যুগে দুটি প্রতিমার নামে সমুদ্রের তীরে ইহরাম বাঁধত। একটির নাম ইসাফ, অপরটির নাম নায়িলা। তারা এসে সাফা-মারওয়ায় সাঈ করত। অতঃপর মাথা কামাতো। ইসলামের আবির্ভাবের পর তারা জাহিলী যুগে যা করত, সে কারণে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা খারাপ মনে করল। তাই আল্লাহ তা'আলা নাযিল করলেন : “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম.......।” অতঃপর লোকেরা সাঈ করে।
২৯৭০
সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো (সা‘ঈ) হজ্জের অন্যতম রুকন, এ ছাড়া হজ্জ শুদ্ধ হয় না পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ (রহঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম, আমি যদি সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করি তবে এতে আমার জন্য কোন দোষ মনে করি না। তিনি বললেন, কেন? আমি বললাম, কেননা মহামহিম আল্লাহ বলেন: “সাফা-মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম ....।”তখন আয়িশা (রাঃ) বললেন, তুমি যেরূপ বলছ, যদি তাই হতো, তবে আয়াতের বক্তব্য এরূপ হতো : “এ দুই পাহাড়ের মাঝে না দৌড়ালে কোন দোষ নেই।” এ আয়াত আনসারদের সম্পর্কে নাযিল করা হয়। জাহিলি যুগে তারা যখন লাব্বায়কা বলত- তা মানাত দেবীর নামে লাব্বায়কা ধ্বনি করত। তাই তারা মনে করত যে, সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা তাদের জন্য ঠিক নয়।তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে (বিদায়) হজ্জে এসে তাঁর নিকট এ বিষয়ে উল্লেখ করলে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নাযিল করেন। অতএব আমার জীবনের শপথ! যে সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ না করে- আল্লাহ তার হজ্জ পূর্ণ করবেন না।