৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৮৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮৪১
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর হজ্জের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ)
আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাতিম ইবন ইসমাঈলের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।তবে এ বর্ণনায় আছে: আরও আবূ সাইয়ারাহ নামক এক ব্যক্তি (জাহিলী যুগে) লোকদেরকে জীনবিহীন গাধার পিঠে করে (মুযদালিফা থেকে) নিয়ে যেত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মুযদালিফা থেকে আল-মাশ’আরুল-হারাম-এর দিকে অগ্রসর হলেন, তখন কুরায়শরা নিঃসন্দেহ ছিল যে, তিনি এখানে থামবেন এবং অবস্থান করবেন। কিন্তু তিনি আরও সামনে অগ্রসর হলেন এবং এদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করলেন না-অবশেষে তিনি আরাফাতে পৌঁছে সেখানে অবতরণ করলেন।
২৮৪২
সমস্ত ‘আরাফার ময়দানই মাওক্বিফ (অবস্থানস্থল) পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
তার এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “আমি এখানে কুরবানী করেছি এবং মিনার গোটা এলাকা কুরবানীর স্থান। অতএব তোমরা যার যার অবস্থানে কুরবানী কর। আর আমি এখানে অবস্থান করছি এবং গোটা আরাফাই অবস্থানস্থল (মাওকিফ), মুযদালিফার সবই অবস্থানস্থল এবং আমি এখানে অবস্থান করছি।”
২৮৪৩
সমস্ত ‘আরাফার ময়দানই মাওক্বিফ (অবস্থানস্থল) পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কায় এসে পৌঁছালেন প্রথমে হাজরে আসওয়াদের নিকট এসে তাতে চুমু খেলেন, অতঃপর তওয়াফ করলেন।
২৮৪৪
আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তা’আলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়” পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
কুরায়শ ও তাদের ধর্মের অনুসারীরা (জাহিলি যুগে) মুযদালিফায় অবস্থান করত। তারা নিজেদের নামকরণ করেছিল ‘আল-হুমস’। আর সমস্ত আরববাসী আরাফাতে অবস্থান করত।যখন ইসলামের আবির্ভাব হল, আল্লাহ তা’আলা তাঁর নবী (ﷺ)-কে আরাফাতে অবস্থান করার ও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেন। আল্লাহর বাণীর তাৎপর্যও তাই : ‘‘অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে”— (সূরা আল-বাকারা ২ : ১৯৯)।
২৮৪৫
আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তা’আলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়” পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্র হতে
তিনি (উরওয়া) বলেন, আল-হুমস ব্যতীত সকল আরব উলঙ্গ অবস্থায় বায়তুল্লাহর তওয়াফ করত। কুরাইশ ও তাদের বংশধরগণকে ‘আল-হুমস’ বলা হতো। আরবরা উলঙ্গ অবস্থায়ই তওয়াফ করত। কিন্তু আল-হুমস তাদেরকে কাপড় দান করলে স্বতন্ত্র কথা। তাদের পুরুষরা পুরুষদের এবং মহিলারা মহিলাদের কাপড় দান করত। আল-হুমস মুযদালিফার বাইরে যেত না, আর সব লোক আরাফায় চলে যেত।হিশাম বলেন, আমার পিতা (উরওয়া) আয়িশা (রাঃ)-এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আল হুমস- যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাজিল করেছেনঃ “অতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করবে”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ১৯৯)। আয়িশা (রাঃ) বলেন, লোকেরা আরাফাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করত আর আল-হুমস মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করত। তারা বলত, আমরা কেবলমাত্র হারাম এলাকা থেকেই প্রত্যাবর্তন করব। অতঃপর যখন “তোমরা প্রত্যাবর্তন কর- যেখান থেকে লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে” আয়াত নাজিল হল, তখন থেকে তারা আরাফায় গেল।
২৮৪৬
আরাফায় অবস্থান এবং আল্লাহ তা’আলার বাণী- “অতঃপর তোমরা ফিরে যাও যেখান থেকে মানুষেরা ফিরে যায়” পরিচ্ছেদ নাই
জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ)
আমার একটি উট হারিয়ে গেল। আরাফা দিবসে আমি তার খোঁজে বের হলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে লোকদের সাথে আরাফায় অবস্থানরত দেখলাম। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ! ইনি তো হুমস-এর অন্তর্ভুক্ত, কী ব্যাপার ইনি এখানে কেন? অথচ কুরাইশদেরকে হুমস-এর মধ্যে গণ্য করা হতো।
২৮৪৭
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি 'বাথা' নামক স্থানে উট বসিয়ে যাত্রা বিরতি করছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কি হজ্জের নিয়ত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি কী ধরনের ইহরাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি – লাব্বায়কা, নবী (ﷺ) যে হজ্জের ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তদ্রূপ ইহরাম বাঁধলাম। তিনি বললেন, তুমি ভালই করেছ। এখন বায়তুল্লাহর তওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম, সাফা-মারওয়ার সাঈ করলাম, অতঃপর কায়স গোত্রের এক স্ত্রীলোকের নিকট এলাম। সে আমার মাথার উকুন বেছে দিল। এরপর আমি হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমি লোকদেরকে এভাবেই ফাতওয়া দিতে থাকলাম উমর (রাঃ)-এর খিলাফত পর্যন্ত।এ সময় এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, হে আবু মূসা অথবা (বলল) আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! আপনার কিছু ফাতওয়া আপাতত স্থগিত রাখুন। কারণ আমীরুল মুমিনীন (উমর) আপনার পরে হজ্জ সম্পর্কে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা আপনি জ্ঞাত নন। তখন আবু মূসা (রাঃ) বললেন, হে লোক সকল! আমি যাদের ফাতওয়া দিয়েছি (ইহরাম খোলা সম্পর্কে) তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ আমীরুল মুমিনীন অচিরেই তোমাদের নিকট আসছেন, অতএব তাঁর আনুগত্য করা তোমাদের কর্তব্য। রাবী বলেন, উমর (রাঃ) এলেন এবং আমি তাঁর সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী চলি, তবে তা আমাদের নির্দেশ দেয় (হজ্জ ও উমরা) পূর্ণ করার। আমরা যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতের উপর আমল করি, তবে কুরবানির পশু তার (কুরবানি) স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইহরাম খুলেননি।
২৮৪৮
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্‌ (রহঃ)
এ সূত্রে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৮৪৯
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ(ﷺ)-এর নিকট এলাম। তিনি 'বাতহা' নামক স্থানে উট বসিয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ?” আমি বললাম, “আমি নবী(ﷺ)-এর অনুরূপ ইহরাম বেঁধেছি।” তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি কুরবানির পশু এনেছ?” আমি বললাম, “না।” তিনি বললেন, “তাহলে তুমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেল।” অতএব আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করার পর ইহরাম খুলে ফেললাম। এরপর আমার গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথার চুল আঁচড়ে দিল এবং আমার মাথা ধুয়ে দিল। আমি আবু বক্‌র (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে লোকদেরকে অনুরূপ ফাতওয়া দিতাম। হজ্জের মৌসুম আগত, এ সময় এক ব্যক্তি আমার নিকট এসে বলল, “আপনি হয়তো জানেন না, আমীরুল মু’মিনীন (উমর) হজ্জের ব্যাপারে কী নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন।” আমি বললাম, “হে জনগণ! আমি যাদেরকে কতগুলো বিষয় সম্পর্কে যে ফাতওয়া দিয়েছি- তারা যেন অপেক্ষা করে। কারণ, ইতোমধ্যেই আমীরুল মু’মিনীন তোমাদের মধ্যে এসে পৌঁছবেন। তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে।” তিনি (উমর) এসে পৌঁছলে আমি বললাম, “হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি হজ্জের ব্যাপারে নতুন কী বিধান দিচ্ছেন?” তিনি বললেন, “আমরা যদি আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরি, তবে আল্লাহ বলেনঃ “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে হজ্জ ও উমরা পূর্ণ কর”- (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৬)। আর আমরা যদি আমাদের নবী(ﷺ)-এর সুন্নাতের অনুসরণ করি, তাহলে নবী(ﷺ) সাথে করে নিয়ে আসা পশু যবাহ না করা পর্যন্ত ইহরাম খুলতেন না।”
২৮৫০
ইহরাম থেকে হালাল হওয়া রহিতকরণ এবং তা পূর্ণ করার নির্দেশ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি যে বছর হজ্জ করেছিলেন, আমি সে বছর (হজ্জ) এসে তাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে আবু মূসা! ইহরাম বাঁধার সময় তুমি কী নিয়ত করেছিলে?আমি বললাম, লাব্বায়কা! আমার ইহরাম নবী (ﷺ)-এর ইহরামের অনুরূপ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সাথে করে কুরবানি পশু এনেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন: তাহলে যাও, বাইতুল্লাহর তওয়াফ কর, সাফা-মারওয়া-র মাঝে সাঈ কর, অতঃপর ইহরাম খুলে ফেল। ... হাদিসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত শু'বাহ ও সুফিয়ানের হাদিস দুটির অনুরূপ।