৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৮৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮২১
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিলহজ মাসের ৪র্থ অথবা ৫ম দিনে (মক্কায়) এলেন। এরপর রাগান্বিত অবস্থায় আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কে আপনাকে রাগান্বিত করল, আল্লাহ তাকে আগুনে নিক্ষেপ করুন? তিনি বললেন, “তুমি কি জানো না- আমি লোকদের একটি কাজের নির্দেশ দিয়েছিলাম অথচ তারা ইতস্তত করছে?” রাবী হাকাম বলেন, “আমার মনে হয় তিনি বলেছেন, যেন তারা ইতস্তত করছে। আমি যদি পূর্বেই জানতাম, যে বিষয়ে আমি পরে সম্মুখীন হয়েছি, তবে আমি সাথে করে কুরবানির পশু আনতাম না; বরং পরে তা কিনে নিতাম এবং আমিও ইহরাম খুলে ফেলতাম যেমন অন্যরা ইহরাম খুলেছে।”
২৮২২
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) যিলহজ মাসের চার অথবা পাঁচ তারিখে (মক্কায়) পৌঁছালেন......পূর্বোক্ত গুনদার-এর হাদিসের অনুরূপ। কিন্তু এ সানাদে তিনি (রাবী) হাকামের উক্তিতে এ সন্দেহ, “তারা ইতস্তত করেছে” উল্লেখ করেননি।
২৮২৩
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মক্কায়) পৌঁছলেন এবং বায়তুল্লাহ তওয়াফ না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ ব্যতীত)। নবী (ﷺ) মিনার দিকে অগ্রসর হবার দিন তাঁকে বললেন, “তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হজ্জ ও উমরাহ উভয়ের জন্য যথেষ্ট।” কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রাসূল (ﷺ) তাঁকে আবদুর রহমানের সাথে 'তানঈম' পাঠালেন। অতএব তিনি হজ্জের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে উমরা করলেন।
২৮২৪
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
তিনি 'সারিফ' নামক স্থানে ঋতুমতী হলেন এবং ‘আরাফা দিবসে পবিত্র হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “তোমার সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মধ্যকার সা‘ঈ তোমার হজ্জ ও উমরা উভয়টির জন্য যথেষ্ট।”
২৮২৫
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা দুইটি সাওয়াবসহ প্রত্যাবর্তন করবে আর আমি কি মাত্র একটি সাওয়াব নিয়ে ফিরে যাব? তখন তিনি (ﷺ) আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন- তাকে নিয়ে তানঈম যাওয়ার জন্য। আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি তার উটের পিঠে আমাকে তার পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। আমি আমার ওড়না উঠাচ্ছিলাম এবং তা ঘাড় থেকে সরিয়ে রাখছিলাম। তিনি আমার পায়ে আঘাত করছিলেন- যেমন উটকে আঘাত করেন। আমি তাকে বললাম, আপনি এখানে কাউকে দেখতে পাচ্ছেন কি? তিনি বলেন, আমি (তানঈম পৌঁছে) উমরার ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর (মাক্কায়) ফিরে এসে (ত্বওয়াফ শেষে) 'হাসবা' নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মিলিত হলাম।
২৮২৬
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে নির্দেশ দিলেন আয়িশা (রাঃ)-কে (বাহনে) তাঁর পিছনে বসিয়ে তানঈম নিয়ে যাবার জন্য- যাতে তিনি তাঁকে (তানঈম থেকে) উমরা করান।
২৮২৭
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আমরা ইফরাদ হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে মক্কার দিকে অগ্রসর হলাম আর আয়িশা (রাঃ) উমরার ইহরাম বেঁধে আসলেন। আমরা যখন 'সারিফ' নামক স্থানে পৌঁছলাম, আয়িশা (রাঃ)-এর মাসিক ঋতু শুরু হল। অবশেষে আমরা মক্কায় পৌঁছে কাবা ঘর তওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাঈ করলাম। আমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল না- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ইহরাম খুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন। আমরা বললাম, কী প্রকারে ইহরাম খোলা হবে? তিনি বললেন, “সম্পূর্ণরূপে ইহরামমুক্ত হওয়া।”অতএব আমরা স্ত্রী যৌন সঙ্গম করলাম, সুগন্ধি ব্যবহার করলাম এবং সাধারণ পোশাক পরিধান করলাম। তখন আরাফা দিবস ও আমাদের মাঝে আর মাত্র চার দিনের ব্যবধান ছিল। অতঃপর তারবিয়াহ দিবসে (৮ই যিলহজ্জ) আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম।এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? আয়িশা (রাঃ) বললেন, ব্যাপার এই যে, আমার হায়য দেখা দিয়েছে। লোকেরা ইহরাম খুলেছে কিন্তু আমি ইহরামমুক্ত হতে পারিনি এবং বায়তুল্লাহরও তওয়াফ করতে পারিনি, আর এখন লোকেরা হজ্জের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)-এর কন্যা সন্তানদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন। অতএব তুমি গোসল কর এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধ। তিনি তাই করলেন এবং হজ্জের স্থানসমূহে অবস্থান করলেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হলেন, কাবা ঘর তওয়াফ করলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এখন তোমার হজ্জ ও উমরা উভয়টিই পূর্ণ হল।আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার অবস্থা এই যে, হজ্জ না করা পর্যন্ত আমি (উমরার জন্য) বায়তুল্লাহর তওয়াফ করতে পারিনি, কিন্তু হজ্জ আদায় করে নিয়েছি। তিনি বললেন, হে আবদুর রহমান! তাঁকে নিয়ে চলে যাও এবং 'তানঈম' থেকে তাঁকে উমরা করাও। এটা ছিল 'হাসবা'র রাতের ঘটনা।
২৮২৮
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লায়স (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ এ হাদীসে বর্ণনা করা হয়নি।
২৮২৯
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর সাথে হজ্জ উপলক্ষে আয়েশা (রাঃ) উমরার ইহরাম বাঁধলেন... অবশিষ্ট অংশ পূর্বোক্ত লাইস (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে- জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন নমনীয় স্বভাবের। অতএব আয়েশা (রাঃ) যখনই কোন কিছুর আবদার ধরতেন, তিনি সে আবদার রক্ষা করতেন। তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে আবদুর রহমানের সাথে পাঠালেন এবং তিনি 'তানঈম' থেকে উমরার ইহরাম বাঁধলেন। মাতর (রহঃ) বলেন, আবু যুবাইর (রহঃ) বলেছেনঃ আয়েশা (রাঃ) যখনই হজ্জ করতেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যেভাবে হজ্জ করেছেন তদানুরূপ করতেন।
২৮৩০
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বেঁধে রওনা হলাম। আমাদের সাথে মহিলাগণ এবং শিশুরাও ছিল। আমরা মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহর ত্বওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেন, যার সাথে কুরবানির পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আমরা বললাম, কী ধরনের ইহরাম ভঙ্গ করব? তিনি বললেন, সম্পূর্ণরূপে ইহরাম ভঙ্গ কর। রাবী বলেন, অতএব আমরা আমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন করলাম, সাধারণ পোশাক পরলাম এবং সুগন্ধি মাখলাম। তারবিয়ার দিনে আমরা হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম এবং পূর্বের তওয়াফ ও সাঈ আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের প্রতি সাতজনকে একটি উট কিংবা গরুতে শরীক হতে নির্দেশ দিলেন।