৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৮২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮১১
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইফরাদ হজ্জ করেছিলেন।
২৮১২
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
আমরা হজ্জের মাসসমূহে, হজ্জের সময় ও স্থানসমূহে (অথবা হজ্জের সময়কার বিধি-নিষেধ অনুসরণ করে) এবং হজ্জের রাতসমূহে ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন 'সারিফ' নামক স্থানে যাত্রা বিরতি করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানির পশু নেই, সে যদি চায় তবে সে এই হজ্জকে উমরায় পরিবর্তিত করে নিক। আর যার সাথে কুরবানির পশু (হাদী) আছে, সে যেন এরূপ না করে। তাদের মাঝে কিছু সংখ্যক এটা গ্রহণ করল এবং কিছু সংখ্যক- যাদের সাথে কুরবানির পশু ছিল না, তারা উমরা করল না। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর স্বচ্ছল সাহাবীদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল।রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট প্রবেশ করলেন এবং আমি তখন কাঁদছিলাম। তিনি বললেন, তুমি কাঁদছ কেন? আমি বললাম, আমি আপনার সাহাবীদের উদ্দেশে আপনার কথাবার্তা শুনেছি যে, আপনি উমরা করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু আমি তা করতে পারছি না। তিনি বললেন, কেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, আমি সালাত আদায় করতে পারছি না। আমার ঋতু দেখা দিয়েছে। তিনি বললেন, এতে তোমার কোন ক্ষতি নেই, তুমি হজ্জের অনুষ্ঠানাদি পালন কর। আশা করি আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উমরা পালনের সুযোগ দেবেন। তুমি আদম (আঃ)-এর কন্যাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন, তোমার জন্যও তা নির্ধারণ করেছেন।আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব আমি হজ্জের জন্য বের হলাম। অবশেষে মিনায় অবতরণ করলাম এবং পাক হয়ে গেলাম। এরপর আমি বায়তুল্লাহর তওয়াফ করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাসসাবে অবতরণ করলেন এবং আবদুর রহমান ইবনু আবু বকর (রাঃ)-কে ডেকে বললেন, তোমার বোনকে হারাম সীমার বাইরে নিয়ে যাও, সে (সেখানে গিয়ে) উমরার জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং বায়তুল্লাহর তওয়াফ করবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব।আয়িশা (রাঃ) বললেন, আমরা রওনা হয়ে (তানঈম) গেলাম এবং (সেখানে) ইহরাম বাঁধলাম, অতঃপর বায়তুল্লাহ তওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়া সাঈ করলাম। অতঃপর আমরা মধ্যরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি স্বস্থানেই ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি উমরা সম্পাদন করে নিয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি তাঁর সাহাবীদের রওনা হওয়ার জন্য ঘোষণা দিলেন। তিনি রওনা হয়ে বায়তুল্লাহ পৌঁছালেন এবং ফজরের সালাতের পূর্বে তাঁর তওয়াফ করলেন, অতঃপর মদীনার উদ্দেশে রওনা হলেন।
২৮১৩
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
আমাদের কেউ ইফরাদ হজ্জের, কেউ কিরান হজ্জের এবং তামাত্তু হজ্জের ইহরাম বাঁধল।
২৮১৪
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
ক্বাসিম ইবনু মুহামাদ (রহঃ)
আয়িশা (রাঃ) হজ্জ করার জন্য এসেছিলেন।
২৮১৫
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
যিলক্বাদা মাসের পাঁচদিন অবশিষ্ট থাকতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। হজ্জ পালন ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমরা মক্কার নিকটবর্তী হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিলেন, যার সাথে কুরবানির পশু নেই, সে বায়তুল্লাহর তওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাই করার পর ইহরাম ভঙ্গ করবে।আয়িশা (রাঃ) বলেন, কুরবানির দিন কেউ আমাদের জন্য গরুর গোশত নিয়ে এলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ কী? বলা হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানি করেছেন।ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) বলেন, আমি এ হাদিস কাসিম ইবনু মুহাম্মদের নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তিনি (আম্রাহ) তোমার নিকট হাদিসটি সঠিকভাবে বর্ণনা করেছেন।
২৮১৬
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনু আবূ ‘উমার (রাঃ)
এ সনদেও পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৮১৭
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মুল মু’মিনীন [‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকেরা দুইটি ইবাদতসহ (হজ্জ ও উমরা) প্রত্যাবর্তন করছে, আর আমি একটি মাত্র ইবাদতসহ (হজ্জ) ফিরে যাচ্ছি।অপেক্ষা কর। তুমি পবিত্র হয়ে যাবার পর 'তানঈম' চলে যাও এবং সেখানে ইহরাম বাঁধ, অতঃপর অমুক অমুক সময় আমাদের সঙ্গে মিলিত হও। রাবী বলেন, আমার মনে হয় তিনি ভোরবেলার কথা বলেছেন এবং তুমি তোমার পরিশ্রম অথবা খরচ অনুযায়ী (এ উমরার সওয়াব পাবে)।
২৮১৮
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকেরা দুইটি ইবাদতের সওয়াব নিয়ে ফিরে যাচ্ছে... অতঃপর অবশিষ্ট হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
২৮১৯
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
শুধুমাত্র হজ্জের উদ্দেশেই আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা (মক্কায়) পৌঁছে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলাম। যারা কুরবানির পশু (হাদী) সাথে আনেনি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন। আয়িশা (রাঃ) বলেন, অতএব যারা কুরবানির পশু সঙ্গে আনেনি, তারা ইহরাম ছেড়ে দিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণীগণ সাথে কুরবানির পশু আনেননি। তাই তাঁরাও ইহরাম খুলে ফেললেন।আয়িশা (রাঃ) আরও বললেন, আমার মাসিক দেখা দিল এবং বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে পারলাম না। 'হাসবা' অবস্থানের রাতে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা হজ্জ ও উমরা করে ফিরে যাচ্ছে, আর আমি শুধু হজ্জ করে ফিরছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা যে রাতে মক্কায় পৌঁছেছি, তখন তুমি কি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করোনি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি তোমার ভাইয়ের সাথে 'তানঈম' যাও এবং (সেখানে) উমরার ইহরাম বাঁধ। অতঃপর তুমি অমুক অমুক জায়গায় (আমাদের সাথে) মিলিত হতে পারবে।উম্মুল মু’মিনীন সফিয়া (রাঃ) বললেন, মনে হয় আমি আপনাদের আটকিয়ে রাখব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, দূর হতভাগী, তোমার সর্বনাশ হোক! তুমি কুরবানির দিন বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, করেছি। নবী (ﷺ) বললেন, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই, তুমি অগ্রসর হও।আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তিনি মক্কার উচ্চভূমি দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিলেন। আর আমি তা অতিক্রম করে নিম্নভূমিতে নামছিলাম। অথবা তিনি উচ্চভূমি অতিক্রম করে নিম্নভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন, আর আমি নিম্নভূমি থেকে উচ্চভূমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম। ইসহাকের বর্ণনায় আছে, আয়িশা (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ে নিম্নভূমি অতিক্রম করছিলেন।
২৮২০
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করতে করতে রওনা হলাম। আমরা সুস্পষ্টভাবে হজ্জ বা উমরা কোনটিরই উল্লেখ করিনি। অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত মানসুর (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ।