৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৮৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৮৩১
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা ইহরামমুক্ত হবার পর নবী (ﷺ) আমাদেরকে (পুনরায়) ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন- যখন আমরা মিনার উদ্দেশে রওনা হলাম। অতএব আমরা 'আবতাহ' নামক স্থান থেকে ইহরাম বাঁধলাম।
২৮৩২
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীরা (রাঃ) একবার মাত্র সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাঈ করেছেন। মুহাম্মদ ইবনু আবু বকর-এর বর্ণনায় আছে, “তাঁর প্রথমবারের তাওয়াফ।”
২৮৩৩
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ কেবল হজ্জের ইহরামই বাঁধলাম। রাবী ‘আতা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চার যিলহজ্জের ভোরে (মক্কায়) পৌঁছে আমাদেরকে ইহরাম খোলার নির্দেশ দিলেন।অধঃস্তন রাবী মাত্বারের বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা ইহরামমুক্ত হও এবং স্ত্রীদের কাছে যাও। কিন্তু তাঁর এ নির্দেশ বাধ্যতামূলক ছিল না, বরং তাদেরকে স্ত্রী সহবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল মাত্র। জাবির (রাঃ) বলেন, ‘আরাফাহ দিবসের আর পাঁচদিন মাত্র বাকী। অতএব আমরা এমন অবস্থায় ‘আরাফায় পৌঁছলাম যে, আমরা যেন এইমাত্র স্ত্রী সঙ্গম করেছি। ‘আতা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) তার হাত নেড়ে কথাগুলো বলছিলেন এবং আমি যেন তার হাতের নড়াচড়া দেখতে পাচ্ছি।জাবির (রাঃ) বলেন, ইত্যবসরে নবী (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন, তোমরা নিশ্চিত জান- আমি তোমাদের তুলনায় আল্লাহকে অধিক ভয় করি, তোমাদের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং পুণ্যবান। আমার সাথে কুরবানির পশু না থাকলে আমি অবশ্যই ইহরাম ভঙ্গ করতাম যেমন তোমরা ভঙ্গ করেছো। আমাকে কী করতে হবে তা পূর্বেই জানতে পারলে আমি সাথে করে কুরবানির পশু আনতাম না, অতএব তোমরা হালাল হও (ইহরাম ভঙ্গ কর)। ‘আতা (রহঃ) বলেছেন, জাবির (রাঃ) বলেনঃ অতএব আমরা হালাল হলাম, তাঁর কথা শুনলাম এবং তাঁর আনুগত্য করলাম।জাবির (রাঃ) আরও বলেন, আলী (রাঃ) (ইয়ামানবাসীদের থেকে আদায়কৃত) খরাজ নিয়ে উপস্থিত হলেন। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কোন ধরনের ইহরাম বেঁধেছো? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) যে ধরনের ইহরাম বেঁধেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কুরবানি কর এবং ইহরাম অবস্থায় থাক। জাবির (রাঃ) বলেন, আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য কুরবানির পশু এনেছিলেন। সুরাকাহ ইবন মালিক ইবন জুশুম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি শুধু এ বছরের জন্য, না সব সময়ের জন্য? তিনি বললেন, সর্বকালের জন্য।
২৮৩৪
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হালাল হওয়ার এবং এ ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের জন্য তাঁর এ নির্দেশ কঠিন মনে হল এবং আমাদের মনোকষ্ট হল।এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছল। আমাদের জানা নেই তিনি কি ওহীর মাধ্যমে এ খবর পেয়েছেন, না কেউ তাঁর কাছে এ কথা পৌঁছিয়েছে? তিনি বললেন, “হে জনগণ! তোমরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হও। আমার সাথে কুরবানির পশু না থাকলে আমিও তোমাদের অনুরূপ করতাম।”জাবির (রাঃ) বলেন, অতএব আমরা ইহরামমুক্ত হলাম, এমনকি স্ত্রী সঙ্গম এবং স্বাভাবিক অবস্থায় সাধারণত যা করা হয়, তাই করলাম। অতঃপর তারবিয়ার দিন (৮ জিলহজ্জ) আমরা মক্কা ত্যাগ করলাম (মিনা ও আরাফার উদ্দেশে) এবং হজ্জের ইহরাম বাঁধলাম।
২৮৩৫
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
মূসা ইবনু নাফি‘ (রহঃ)
আমি উমরাহসহ তামাত্তু হজ্জের ইহরাম বেঁধে তারবিয়া দিবসের চারদিন পূর্বে (৪ যিলহাজ্জ) মক্কায় পৌঁছলাম। লোকেরা বলল, এখন তো আপনার হজ্জ মক্কাবাসীদের অনুরূপ হজ্জ হয়ে যাবে। অতএব আমি আতা ইবনু আবু রাবাহ (রহঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তার কাছে মাসআলা জিজ্ঞেস করলাম।আতা (রহঃ) বললেন, জাবির ইবন আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হজ্জ করেছেন- যে বছর তিনি সঙ্গে করে কুরবানির পশু নিয়েছিলেন এবং তারা কেবল হজ্জের (ইফরাদ হজ্জের) ইহরাম বেঁধেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা ইহরাম খুলে ফেল, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর, সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাই কর, মাথার চুল ছাঁটো এবং ইহরামমুক্ত অবস্থায় থাক। যখন তারবিয়ার দিন আসবে- তখন পুনরায় হজ্জের ইহরাম বাঁধ এবং এটা তামাত্তু হজ্জের ইহরামে পরিণত কর।তারা বললেন, কিভাবে আমরা তা তামাত্তুতে পরিণত করব, অথচ ইতিপূর্বে আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছি? তিনি বললেন, আমি তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, তাই কর। কারণ আমি যদি সাথে করে কুরবানির পশু না আনতাম তবে তোমাদের যে নির্দেশ দিচ্ছি, আমিও তদ্রূপ করতাম। কিন্তু হাদী যথাস্থানে কুরবানি না করা পর্যন্ত আমার জন্য ইহরাম খোলার সুযোগ নেই। অতএব তারা তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলেন।
২৮৩৬
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু’ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (মক্কায়) পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে তা উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার এবং (উমরা পালনের পর) ইহরামমুক্ত হবার নির্দেশ দিলেন। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে কুরবানির পশু থাকায় তিনি নিজের হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করতে পারেননি।
২৮৩৭
হজ্জ ‘উমরাতে উপভোগ করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ নায্‌রাহ্‌ (রহঃ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) তামাত্তু’ হজ্জ করার নির্দেশ দিতেন এবং ইবনু যুবাইর (রাঃ) তামাত্তু’ হজ্জ করতে নিষেধ করতেন। আমি বিষয়টি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, এ ঘটনাটি আমার সামনেই ঘটেছে। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তামাত্তু’ হজ্জ করেছি।উমর (রাঃ) খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর বললেন, আল্লাহ (ﷺ) রাসূল (ﷺ)-এর জন্য যে জিনিস ইচ্ছা এবং যে কারণে ইচ্ছা হালাল করেন এবং কুরআন নাযিল হওয়া সমাপ্ত হয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ ও উমরা সম্পাদন কর- যেভাবে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন এবং যেসব নারীকে তোমরা মুত্’আর (উপভোগ করার) মাধ্যমে বিবাহ করেছো- তাদের সঠিক বিবাহ বন্ধনে নিয়ে নাও। আমার নিকট মুত’আর শর্তে বিবাহকারী কোন পুরুষ লোক এলে আমি অবশ্যই তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করব।
২৮৩৮
হজ্জ ‘উমরাতে উপভোগ করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ক্বাতাদাহ্‌ (রাঃ)
উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, উমর (রাঃ) বলেন, “তোমাদের হজ্জকে উমরা থেকে পৃথক কর। কারণ এতে তোমাদের হজ্জও পূর্ণাঙ্গ হবে এবং উমরাও পূর্ণাঙ্গ হবে”।
২৮৩৯
হজ্জ ‘উমরাতে উপভোগ করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে (মক্কায়) পৌঁছলাম হজ্জের জন্য তালবিয়াহ্‌ উচ্চারণ করতে করতে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিবর্তন করার নির্দেশ দিলেন।
২৮৪০
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর হজ্জের বিবরণ পরিচ্ছেদ নাই
জা’ফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ)
আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি সকলের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। অবশেষে আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। আমি বললাম, আমি মুহাম্মাদ ইবনু আলী ইবনু হুসাইন। অতএব তিনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে আমার মাথার উপর রাখলেন। তিনি আমার জামার উপর দিকের বোতাম খুললেন তারপর নিচের বোতাম খুললেন। অতঃপর তার হাত আমার বুকের মাঝে রাখলেন। আমি তখন যুবক ছিলাম। তিনি বললেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে স্বাগত জানাই, তুমি যা জানতে চাও, জিজ্ঞেস কর। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তখন তিনি (বার্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। ইতোমধ্যে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল। তিনি নিজেকে একটি চাদর আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্ত নিজ কাঁধের উপর রাখতেন – তা (আকারে) ছোট হবার কারণে নীচে পড়ে যেত। তার আরেকটি বড় চাদর তার পাশেই আনলায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাতের ইমামত করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (বিদায়) হজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন।জাবির (রাঃ) স্বহস্তে নয় সংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং এ সময়ের মধ্যে হজ্জ করেননি। অতঃপর ১০ম বর্ষে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেয়া হল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বছর হজ্জে যাবেন। সুতরাং মদীনায় বহু লোকের আগমন হল। তাদের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। আমরা তাঁর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা যখন 'যুল-হুলাইফা' নামক স্থানে পৌঁছলাম- আসমা বিনতু উমায়স (রাঃ) মুহাম্মাদ ইবনু আবু বকরকে প্রসব করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন – এখন আমি কী করব? তিনি বললেন, তুমি গোসল কর, একখণ্ড কাপড় দিয়ে পট্টি বেঁধে নাও এবং ইহরামের পোশাক পরিধান কর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে (ইহরামের দুই রাকাত) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ‘ক্বাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অতঃপর বায়দা নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল – আমি সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায়, তাকিয়ে দেখলাম লোকে লোকারণ্য- কতক সওয়ারীতে, কতক পদব্রজে অগ্রসর হচ্ছে। ডানদিকে, বাঁদিকে এবং পিছনেও একই দৃশ্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন এবং তিনি যা করতেন, আমরাও তাই করতাম।তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এ তালবিয়াহ পাঠ করলেনঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ অর্থঃ ‘‘আমি তোমার দরবারে হাজির আছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে হাজির, আমি তোমার দরবারে হাজির, তোমার কোন শরীক নেই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, নিয়ামত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব তোমার, তোমার কোন শরীক নেই”। লোকেরাও উপরোক্ত তালবিয়াহ পাঠ করল – যা (আজকাল) পাঠ করা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর থেকে বেশি কিছু বলেননি। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত তালবিয়াহ পাঠ করতে থাকলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়ত করিনি, আমরা উমরার কথা জানতাম না। অবশেষে আমরা যখন তাঁর সঙ্গে বায়তুল্লাহয় পৌঁছলাম- তিনি রুকন (হাজরে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর সাতবার কা‘বাঘর তাওয়াফ করলেন- তিনবার দ্রুতগতিতে এবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। এরপর তিনি মাকামে ইব্রাহিমে পৌঁছে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى অর্থঃ “তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়াবার স্থানকে সালাতের স্থানরূপে গ্রহণ কর”- (সূরা আল বাকারা ২ : ১২৫)। তিনি মাকামে ইব্রাহিমকে তাঁর ও বায়তুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন)। (জাফর বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মাদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুই রাকাত সালাতে সূরা ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ও ‘কুল ইয়াইউহাল কাফিরুন’ পাঠ করেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজরে আসওয়াদের কাছে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং তাতে চুমু খেলেন।অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফার নিকটবর্তী হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ‏ অর্থঃ “নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম”- (সূরা আল বাকারা ২ : ১৫৮) এবং আরো বললেন- আল্লাহ যে পাহাড়ের উল্লেখ করে আরম্ভ করেছেন, আমিও তা দিয়ে আরম্ভ করব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন, অতঃপর এতটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বায়তুল্লাহ দেখতে পেলেন। তিনি কিবলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ও মাহাত্ম্য ঘোষণা করলেন এবং বললেনঃ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كَلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ অর্থঃ ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন”।তিনি এ দোয়া পড়লেন এবং তিনি অনুরূপ তিনবার বলেছেন। অতঃপর তিনি নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন- যতক্ষণ না তাঁর পা মুবারক উপত্যকার সমতল ভূমিতে গিয়ে ঠেকল। তিনি দ্রুত চললেন- যতক্ষণ না উপত্যকা অতিক্রম করলেন। মারওয়া পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেও তাই করলেন যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। সর্বশেষ তাওয়াফে যখন তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছলেন, তখন (লোকদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আগেই ব্যাপারটি বুঝতে পারতাম, তাহলে আমি সাথে করে কুরবানীর পশু আনতাম না এবং (হজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে। এ সময় সুরাকাহ ইবনু মালিক ইবনু জু'শুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজ হাতের আঙ্গুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকালেন এবং দু’বার বললেন, উমরা হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে। আরও বললেন, না বরং সর্বকালের জন্য, সর্বকালের জন্য।এ সময় আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে নবী (ﷺ)-এর জন্য কুরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে ফেলেছে, ফাতিমা (রাঃ)-কে তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীন কাপড় পরিহিতা ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী (রাঃ) তা অপছন্দ করলেন। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাবী বলেন, আলী (রাঃ) ইরাকে থাকতেন, অতএব ফাতিমা (রাঃ) যা করেছেন তার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে আমি তাকে জানালাম যে, আমি তার এ কাজ অপছন্দ করেছি। তিনি যা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে জানার জন্য আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ফাতিমা সত্য বলেছে, সত্য বলেছে। তুমি হজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী বলেছিলে? আলী (রাঃ) বললেন, আমি বলেছি, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম, যেরূপ ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রসূল। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার সঙ্গে হাদী (কুরবানীর পশু) আছে, অতএব তুমি ইহরাম খুলবে না। জাবির (রাঃ) বলেন, আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে যে পশুপাল নিয়ে এসেছেন এবং নবী (ﷺ) নিজের সঙ্গে করে যে সব পশু নিয়ে এসেছিলেন, সর্বসাকুল্যে এর সংখ্যা দাঁড়ালো একশত। অতএব নবী (ﷺ) এবং যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেললেন এবং চুল কাটলেন।অতঃপর যখন তারবিয়ার দিন (৮ই যিলহজ্জ) আসলো, লোকেরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলো এবং মিনার দিকে রওনা হল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে গেলেন এবং সেখানে যুহর, আসর, মাগরিব, ঈশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন এবং 'নামিরা' নামক স্থানে গিয়ে তার জন্য একটি তাঁবু খাটানোর নির্দেশ দিলেন এবং নিজেও রওনা হয়ে গেলেন। কুরায়শগণ নিঃসন্দেহ ছিল যে, নবী (ﷺ) মশআরুল হারামের কাছে অবস্থান করবেন যেমন জাহিলী যুগে কুরায়শগণ করত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হলেন, তারপরে ‘আরাফায় পৌঁছলেন এবং দেখতে পেলেন নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলে। অতঃপর যখন সূর্য ঢলে পড়ল, তখন তিনি তাঁর ক্বাসওয়া (নামক উষ্ট্রী)-কে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিলেন। তার পিঠে হাওদা লাগানো হল। তখন তিনি বাত্বনে ওয়াদীতে এলেন এবং লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন।তিনি বললেন, “তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য হারাম যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।” “সাবধান! জাহিলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল আমাদের বংশের রবিয়াহ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানু সাদে দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। “জাহিলী যুগের সুদও বাতিল হল। আমি প্রথম যে সুদ বাতিল করছি তা হল আমাদের বংশের আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হল”। “তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার কর। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক রয়েছে। “আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।”“আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের ইশারা করে বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, “ তিনবার এরূপ বললেন।” অতঃপর (মুয়ায্জিন) আজান দিলেন ও ইকামাত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর ইকামাত দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সালাত আদায় করলেন। তিনি এ দুই সালাতের মাঝখানে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করেননি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে মওক্বিফ (অবস্থানস্থল) এলেন, তাঁর ক্বাসওয়া উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্তূপের দিকে করে দিলেন এবং লোকদের একত্র হবার জায়গা সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি এভাবে উকূফ করলেন। হলদে আভা কিছু দূরীভূত হল, এমনকি সূর্য গোলক সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি উসামা (রাঃ)-কে তাঁর বাহনের পিছন দিকে বসালেন এবং ক্বাসওয়ার নাকের দড়ি সজোরে টান দিলেন- ফলে তার মাথা মাওরিক (সওয়ারী ক্লান্তি অবসাদের জন্য যাতে পা রাখে) স্পর্শ করল। তিনি ডান হাতের ইশারায় বললেন, হে জনমণ্ডলী! ধীরে সুস্থে, ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও। যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন, ক্বাসওয়ার নাকের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন যাতে সে উপরদিকে উঠতে পারে। এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে একই আজানে ও দুই ইকামাতে মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করলেন। এ সালাতের মাঝে অন্য কোন নফল সালাত আদায় করেননি।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুয়ে পড়লেন। যাবৎ না ফজরের ওয়াক্ত হল। অতঃপর ভোর হয়ে গেলে তিনি আজান ও ইকামাত সহ ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর ক্বাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে “মশআরুল হারাম” নামক স্থানে আসলেন। এখানে তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন, তাঁর মহত্ব বর্ণনা করলেন, কালিমা তাওহীদ পড়লেন এবং তাঁর একত্ব ঘোষণা করলেন। দিনের আলো যথেষ্ট উজ্জ্বল না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্যোদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওনা করছিলেন এবং ফজল ইবন আব্বাস (রাঃ) সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসলেন। তিনি ছিলেন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন অগ্রসর হলেন- পাশাপাশি একদল মহিলাও যাচ্ছিল। ফজল (রাঃ) তাদের দিকে তাকাতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাত ফজলের চেহারার উপর রাখলেন এবং তিনি তার মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলেন এবং ফজল (রাঃ) অপরদিক দেখতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পুনরায় অন্যদিক হতে ফজল (রাঃ)-এর মুখমণ্ডলে হাত রাখলেন। তিনি আবার অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন। তিনি ‘বাতনে মুহাস্‌সর’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুত করলেন। তিনি মধ্যপথে অগ্রসর হলেন- যা জামরাতুল কুবরার দিকে বেরিয়ে গেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং নিচের খালি জায়গায় দাঁড়িয়ে এখানে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করলেন এবং প্রত্যেকবার ‘আল্লাহু আকবর’ বললেন।অতঃপর সেখান থেকে কুরবানীর স্থানে এলেন এবং নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যবেহ করলেন। তিনি কুরবানীর পশুতে আলী (রাঃ)-কেও শারীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর গোশতের কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব তাই করা হল। তারা উভয়ে এ গোশত থেকে খেলেন এবং ঝোল পান করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহর দিকে রওনা হলেন এবং মক্কায় পৌঁছে যুহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর বনি আবদুল মুত্তালিব –এর লোকদের কাছে আসলেন, তারা লোকদের জামজামের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেন, হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধরগণ! পানি তোলো। আমি যদি আশংকা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করে দিত, তবে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তখন তারা তাঁকে এক বালতি পানি দিল এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন।