৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৭১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৭০১
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তালবিয়াহ নিম্নরূপ ছিল : “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হাজির হয়েছি, তোমার কাছে হাজির হয়েছি, তোমার দরবারে উপস্থিত আছি। তোমার কোন শরীক নেই, আমি তোমার সমীপে উপস্থিত হয়েছি। যাবতীয় প্রশংসা ও নেয়ামত তোমারই এবং সমগ্র রাজত্ব ও সার্বভৌম কর্তৃত্ব তোমার। তোমার কোন শরীক নেই।”নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নিজের তরফ থেকে তালবিয়ার সাথে আরও যোগ করতেন : “তোমার দরবারে উপস্থিত হয়েছি, তোমার কাছে হাজির হয়েছি, তোমার খিদমত-এর সৌভাগ্য লাভ করেছি। সমস্ত কল্যাণ তোমার হাতে, তোমার কাছে হাজির হয়েছি, সমস্ত আকর্ষণ তোমার প্রতি এবং সকল আমল তোমারই জন্য।”
২৭০২
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
যুল হুলাইফা মসজিদের নিকট যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উষ্ট্রী তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াত, তখন তিনি তালবিয়া পাঠ শুরু করতেন। তিনি বলতেন, “লাব্বায়ক আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক, লাব্বায়ক লা শরীক লাকা লাব্বায়ক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্কা লা শরীক লাকা।” আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, এ হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তালবিয়া। নাফি (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সাথে আরও যোগ করতেন : “লাব্বায়ক লাব্বায়ক ওয়া সা’দাইকা ওয়াল খাইরু বিয়াদাইকা লাব্বায়ক ওয়ার রাগবাউ ইলাইকা ওয়াল আমল।”
২৭০৩
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখে তালবিয়া শিখেছি...... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ।
২৭০৪
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে মাথার চুল জমাট করা অবস্থায় তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলছিলেন, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা ........লা-শরীক লাকা”। তিনি এর সাথে আর কোন কথা যোগ করতেন না।আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলতেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যুল হুলাইফায় দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন। অতঃপর তার উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে যুল হুলাইফার মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে যেত তখন তিনি ওইসব শব্দ সহকারে তালবিয়া পাঠ শুরু করতেন।আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) আরও বলতেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-ও রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর এই তালবিয়া পাঠ করতেন এবং বলতেন, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা. .........ওয়ার রগবা ইলাইকা ওয়াল আমল।”
২৭০৫
তালবিয়াহ্-এর বর্ণনা এবং এর সময় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
মুশরিকরা বলত, “লাব্বায়কা লা- শরীক লাকা”। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, “তোমাদের ক্ষতি হোক, ক্ষান্ত হও, ক্ষান্ত হও (সামনে আর বলো না)।” তারা এর সাথে আরও বলত, “কিন্তু হে আল্লাহ! তোমার আরও একজন শরীক আছে- তুমিই যার মালিক এবং সে কিছুরই মালিক নয়।” তারা এ কথা বলত আর বায়তুল্লাহ তওয়াফ করত।
২৭০৬
মাদীনাবাসীদেরকে যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকট ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতা সূত্রে
তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেন, “তোমাদের এই বায়দা নামক স্থান সম্পর্কে তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কেবলমাত্র যুল হুলাইফার মসজিদের নিকটেই ইহরাম বাঁধতেন।”
২৭০৭
মাদীনাবাসীদেরকে যুল হুলায়ফার মসজিদের নিকট ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
সালিম (রহঃ)
ইবন উমর (রাঃ)-কে যখন বলা হল, বায়দা নামক স্থানে ইহরাম বাঁধতে হবে- তখন তিনি বললেন, এ বায়দাকে কেন্দ্র করেই তোমরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে সম্পৃক্ত করে ভুল বর্ণনা করে থাক। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে গাছের নিকট ইহরাম বেঁধে লাব্বায়কা ধ্বনি উচ্চারণ করতেন- যেখান থেকে তাঁর উট তাঁকে নিয়ে রওনা হতো।
২৭০৮
বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ্ পাঠ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দ ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে বললেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখেছি- যা আপনার সঙ্গী-সাথীদের কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেন, হে ইবনু জুরাইজ! সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, আমি দেখেছি আপনি রুকনে হাজর আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ব্যতীত আর কোন রুকন স্পর্শ করেন না। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করেন। আমি আরও দেখেছি যে, আপনি হলুদ বর্ণ ব্যবহার করেন। আমি আরও লক্ষ্য করেছি যে, আপনি মক্কাতে অবস্থান কালে (জিলহজ্জ মাসের) আট তারিখে ইহরাম বাঁধেন। অথচ লোকেরা নতুন চাঁদ দেখার সাথে সাথে ইহরাম বাঁধে।আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বললেন, রুকনের ব্যাপারে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে রুকনে হাজর আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী ছাড়া অন্য কোন রুকন স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমবিহীন স্যান্ডেলের ব্যাপার হচ্ছে এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পশমবিহীন চামড়ার স্যান্ডেল পরিধান করতে দেখেছি। তিনি তা পায়ে দিয়ে ওজুও করতেন। আমিও তাই এ ধরনের স্যান্ডেল পছন্দ করি। হলুদ রং-এর সম্পর্কে কথা হচ্ছে এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ রং ব্যবহার করতে দেখেছি। অতএব আমিও এ রং পছন্দ করি। ইহরাম সম্পর্কে বলতে হয় যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তখনি তালবিয়াহ পাঠ করতে শুনেছি যখন তাঁর উট যাত্রা শুরু করেছে।
২৭০৯
বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ্ পাঠ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দ ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে হজ্জ ও উমরা মিলিয়ে ১২ বার করেছি। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান! আমি আপনাকে চারটি কাজ করতে দেখেছি...... অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদীসের সমার্থবোধক। কিন্তু তালবিয়া পাঠ প্রসঙ্গে রাবী (ইবন কুসাইত) সা’ঈদ মাকবুরীর বিপরীত বর্ণনা করেছেন, তবে তার উল্লেখ ব্যতীত আর সব বর্ণনায় কোন বিরোধ হয়নি।
২৭১০
বাহনে আরোহণ করার স্থান থেকে তালবিয়াহ্ পাঠ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন পাদানিতে পা রাখতেন এবং তাঁর বাহন দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে রওনা করত, তখন তিনি জুল হুলাইফায় ‘লাব্বায়কা’ ধ্বনি উচ্চারণ করতেন।