৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৬৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৬৮১
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জানতে চাইল যে, মুহরিম ব্যক্তি কী ধরনের পোশাক পরবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরিধান করতে পারবে না। তবে কোন ব্যক্তি চপ্পলের অভাবে মোজা পরিধান করলে তাকে পায়ের গোছার নিচ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলতে হবে। তোমরা এমন কাপড় পরিধান করো না যা জাফরান বা ওয়ারস-এর রঙে রঞ্জিত করা হয়েছে।
২৬৮২
নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, বুর্নুস, পায়জামা, ওয়ারস বা জাফরান দ্বারা রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু তার চপ্পল না থাকলে সে পায়ের গোছার নিম্নাংশ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলে তা পরিধান করতে পারবে। পরিচ্ছেদ নাই
সালিম (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে
নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হল যে, মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কী পরিধান করবে? তিনি বললেন, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, বুর্নুস, পায়জামা, ওয়ারস বা জাফরান দ্বারা রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। কিন্তু তার চপ্পল না থাকলে সে পায়ের গোছার নিম্নাংশ বরাবর মোজার উপরিভাগ কেটে ফেলে তা পরিধান করতে পারবে।
২৬৮৩
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহরিম ব্যক্তিকে জাফরান বা ওয়ারস দ্বারা রঞ্জিত কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, কারও চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরিধান করবে এবং পায়ের গোঁড়ালির নিচ বরাবর এর উপরিভাগ কেটে ফেলবে।
২৬৮৪
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর বক্তব্যে বলতে শুনেছি, মুহরিম ব্যক্তির ইযার (কাপড়) না থাকলে সে পায়জামা পরতে পারবে এবং তার চপ্পল না থাকলে সে মোজা পরতে পারবে।
২৬৮৫
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আমর ইবনু দীনার (রহঃ)
ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দিতে শুনেছেন- এরপর তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বর্ণনা করেন।
২৬৮৬
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ , ইয়াহ্ইয়া ইবনু ইয়াহ্ইয়া, আবূ কুরায়ব, ‘আলী ইবনু খাশরম ও ‘আলী ইবনু হুজর (রহঃ) সকলেই ‘আমর ইবনু দীনারের সূত্রে এ সনদে
পূর্বোক্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু শু‘বাহ ছাড়া তাদের কারও বর্ণনায় নবী (ﷺ) “আরাফাতে ভাষণ দিয়েছেন” কথার উল্লেখ নেই।
২৬৮৭
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার জুতা নেই সে মোজা পরতে পারে, আর যার ইযার নেই সে পায়জামা পরতে পারে।
২৬৮৮
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সাফ্ওয়ান ইবনু ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ)
এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত অথবা বলেন, হলুদ রং-এর চিহ্নযুক্ত জুব্বা পরিহিত অবস্থায় জি‘রানাহ নামক স্থানে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ‘উমরা পালনের সময় আপনি আমাকে কী করার নির্দেশ দেন? এ সময় নবী (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হচ্ছিল এবং তিনি একটি কাপড় আচ্ছাদিত অবস্থায় ছিলেন। ইয়া‘লা (রাঃ) বলতেন যে, নবী (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হওয়া অবস্থায় যদি আমি তাঁকে দেখতে পেতাম!তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বললেন, ওহী নাযিল হওয়ার মুহূর্তে তুমি নবী (ﷺ)-কে দেখে খুশি হবে কি? ইয়া‘লা (রাঃ) বলেন, এরপর উমর (রাঃ) কাপড়ের এক কোণ উন্মুক্ত করলেন এবং আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলাম যে, তাঁর মুখ দিয়ে উঠতি বয়সের উটের আওয়াজের মতো আওয়াজ বের হচ্ছে। যখন তাঁর এ অবস্থা কেটে গেল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘উমরা সম্বন্ধে প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি বললেন, তোমার দেহ থেকে হলুদ রং ধুয়ে ফেল, অথবা বললেন, সুগন্ধির চিহ্ন। তোমার জুব্বা খুলে ফেল। অতঃপর তুমি হজ্জের ইহরামে থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই কর।
২৬৮৯
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলো। তখন তিনি জি‘ইরানাহ নামক স্থানে ছিলেন এবং আমি নবী (ﷺ)-এর কাছেই ছিলাম। লোকটি (খালূক জাতীয়) সুগন্ধিযুক্ত একটি জুব্বা পরিহিত ছিল। সে বলল, আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছি এবং আমার পরিধানে এ জুব্বা রয়েছে এবং আমি খালুক জাতীয় সুগন্ধি ব্যবহার করেছি।নবী (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি হজ্জের ইহরামে থাকলে কী করতে? সে বলল, আমি নিজের এ পরিধেয় খুলে এবং নিজের দেহ থেকে এ সুগন্ধি ধুয়ে ফেলতাম। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি হজ্জের ইহরামের থাকলে যা করতে, উমরার জন্য তাই করো।
২৬৯০
হজ্জ ও ‘উমরার ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক পরিধান করা জায়িয ও কী ধরনের পোশাক নাজায়িয এবং ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধির ব্যবহার নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়া’লা ইবনু উমাইয়্যাহ্ (রাঃ)
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতেন, আহা! নবী (ﷺ)-এর উপর যখন ওহী নাযিল হয়, আমি যদি সে অবস্থায় তাঁকে দেখতে পেতাম!একদা নবী (ﷺ) জি‘ইরানায় অবস্থান করছিলেন এবং একটি কাপড়ের সাহায্যে তাঁর উপর ছায়া বিস্তার করা হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে তাঁর কিছু সংখ্যক সাহাবীও ছিলেন—যাঁদের মধ্যে উমর (রাঃ)-ও ছিলেন।এ সময় এক ব্যক্তি সুগন্ধিযুক্ত জুব্বা পরিহিত অবস্থায় তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! এক ব্যক্তি জুব্বায় সুগন্ধি মেখে তা পরিহিত অবস্থায় উমরার ইহরাম বেঁধেছে, তার সম্পর্কে আপনার কী অভিমত? নবী (ﷺ) তার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন, অতঃপর নীরব রইলেন। এ সময় তাঁর উপর ওহী আসল।উমর (রাঃ) হাতের ইশারায় ইয়ালা ইবন উমাইয়া (রাঃ)-কে বললেন, এদিকে আসো। ইয়ালা (রাঃ) এসে নিজের মাথা (কাপড়ের মধ্যে) ঢুকিয়ে দিলেন (এবং দেখলেন) নবী (ﷺ)-এর চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং তাঁর মুখ দিয়ে আওয়াজ বেরুচ্ছে। অতঃপর এ অবস্থা দূরীভূত হল এবং তিনি বললেন, এই মাত্র যে ব্যক্তি আমার নিকট উমরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছিল—সে কোথায়?লোকটিকে খুঁজে এনে তাঁর নিকট উপস্থিত করা হল। নবী (ﷺ) বললেন, তোমার সুগন্ধি তিনবার ধুয়ে ফেল এবং জুব্বা খুলে ফেল। অতঃপর যে নিয়মে হজ্জ কর, ঠিক সে নিয়মে উমরাহ কর।