৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৫২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৫১১
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ (রহঃ)
আমি সফরের উদ্দেশে বের হলাম এবং সিয়াম পালন করলাম। লোকেরা আমাকে বলল, তুমি পুনরায় সাওম পালন কর। তখন আমি বললাম, আনাস (রাঃ) আমাকে বলেছেন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীরা সফরকালে সাওম পালনকারী সাওম ভঙ্গকারীকে কোন দোষারোপ করেননি। অনুরূপভাবে সাওম ভঙ্গকারীও সাওম পালনকারীকে কোন প্রকার দোষারোপ করেননি। অতঃপর আমি ইবনু আবু মুলায়কাহ (রহঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তিনি আয়িশা (রাঃ) থেকে আমাকে অনুরূপ হাদীস শুনালেন।
২৫১২
সফরের কোন কাজের দায়িত্ব পেলে সিয়াম ভঙ্গকারীর প্রতিদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) এর সাথে আমরা সফরে ছিলাম। আমাদের কেউ সাওম পালন করেছেন, আবার কেউ ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর প্রচন্ড গরমের সময় আমরা এক প্রান্তরে অবতরণ করলাম। চাদর বিশিষ্ট লোকেরাই আমাদের মধ্যে সর্বাধিক ছায়া লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের কেউ কেউ নিজ হাত দ্বারা সূর্যের কিরণ থেকে নিজেকে রক্ষা করছিলেন। অবশেষে সাওম পালনকারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ল এবং সাওম ত্যাগকারীরা সুস্থ থাকল। এরপর তারা তাঁবু খাটালো এবং উটকে পানি পান করালো তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ সাওম পরিত্যাগকারীরা সাওয়াব অর্জন করে নিল।
২৫১৩
সফরের কোন কাজের দায়িত্ব পেলে সিয়াম ভঙ্গকারীর প্রতিদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। তখন কেউ কেউ সাওম পালন করলেন, আবার কেউ কেউ সাওম ছেড়ে দিলেন। এরপর যারা সাওম ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা শক্তিমত্তার সাথে কাজ করলেন এবং সাওম পালনকারী ব্যক্তিগণ কাজে দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ সাওম পরিত্যাগকারীরা নেকী অর্জন করে নিল।
২৫১৪
সফরের কোন কাজের দায়িত্ব পেলে সিয়াম ভঙ্গকারীর প্রতিদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
কাযা’আহ্ (রহঃ)
একদা আমি আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তাঁর নিকট মানুষের খুব ভীড় ছিল। যখন লোকজন পৃথক হয়ে এদিক ওদিক চলে গেল, তখন আমি বললাম, আমি আপনার নিকট ঐসব কথা জিজ্ঞেস করব না যা লোকেরা জিজ্ঞেস করেছে। আমি তাঁকে সফরের অবস্থায় সাওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম।তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সাওমরত অবস্থায় মক্কার দিকে রওনা করলাম। এরপর একস্থানে আমরা অবতরণ করলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “এখন তোমরা শত্রুদের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছ। এখন সাওম ভঙ্গ করাই তোমাদের জন্য শক্তিশালী থাকার উপায় এবং এটা তোমাদের জন্য বিশেষ এক অবকাশ।” তখন আমাদের কতক লোক সাওম পালন করল, আবার কতক লোক ইফতার করল।এরপর আমরা অন্য এক স্থানে অবতরণ করলাম। তখন তিনি বললেন, “ভোরেই তোমরা শত্রুর মুকাবিলা করবে। সুতরাং ইফতারই তোমাদের জন্য শক্তি বর্ধক। তাই তোমরা ইফতার কর।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ নির্দেশ অবশ্য পালনীয় ছিল। তাই আমরা সকলেই সাওম ভঙ্গ করলাম। এরপর আমরা দেখেছি, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সফরের অবস্থায় সাওম পালন করতাম।
২৫১৫
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
হামজা ইবন আমর আল আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সফরের অবস্থায় সাওম পালন করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, “যদি তোমার ইচ্ছা হয় তবে সাওম পালন কর, আর যদি ইচ্ছা হয় তবে সাওম ছেড়ে দাও।”
২৫১৬
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
হামজা ইবন আমর আল আসলামী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমি তো অনবরত সাওম পালন করি। সফরের অবস্থায়ও সাওম পালন করব কি? তিনি বললেন, যদি তোমার ইচ্ছা হয়, তবে সাওম পালন কর, আর যদি ইচ্ছা হয়, তবে সাওম ছেড়ে দাও।
২৫১৭
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
এই সনদে হাম্মাদ ইবনে যায়েদের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন, (তিনি বলেন) আমি সর্বদা সাওম পালন করি।
২৫১৮
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
এ সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। হামজা (রাঃ) বলেন, আমি সর্বদা সাওম পালন করি। সুতরাং সফরে আমি কি সাওম পালন করব?
২৫১৯
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
হামযাহ্ ইবনু আমর আল আসলামী (রাঃ)
ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! সফরের অবস্থায় সাওম পালনের ক্ষমতা আমার রয়েছে। এ সময় সাওম পালন করলে আমার কোন গুনাহ হবে কি? তিনি বললেন, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এক বিশেষ অবকাশ, যে তা গ্রহণ করবে, তা তার জন্য উত্তম। আর যদি কেউ সাওম পালন করতে চায়, তবে তার কোন গুনাহ হবে না। হারূন তার হাদীসের মধ্যে هِيَ رُخْصَةٌ (এটা রুখসাত) কথাটি উল্লেখ করেছেন। কিন্ত مِنَ اللَّهِ (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কথাটি উল্লেখ করেননি।
২৫২০
ভ্রমণকালে সিয়াম রাখা ও না রাখার ইখতিয়ার প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ দারদা (রহঃ)
এক প্রচন্ড গরমের দিনে রমজান মাসে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সফরে বের হলাম। গরম এত প্রচন্ড ছিল যে, আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ হাত মাথার উপর তুলে ধরেছিল। আর মাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আব্দুল্লাহ ইবন রওয়াহা (রাঃ) ব্যতীত আমাদের মাঝে কেউই সাওম পালনকারী ছিল না।