৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৫০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৪৯১
রমাযানের দিনে সওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা কঠোর হারাম, কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তবে তার উপর বড় ধরনের কাফ্‌ফারাহ্‌ ওয়াজিব- সে বিত্তশালী হোক বা বিত্তহীন, তবে বিত্তহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন সম্ভব হয়, তখন এ কাফ্‌ফারাহ আদায় করতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, “আমি জ্বলে গিয়েছি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “কেন?” সে বলল, “রমজানের দিনে আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি।” তিনি বললেন, “তাহলে সদাকা দাও, সদাকা দাও।” সে বলল, “আমার নিকট কিছুই নেই।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বসার জন্য নির্দেশ দিলেন। এমতাবস্থায় দুইটি টুকরি ভর্তি খাবার আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এগুলো সদাকা করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন।
২৪৯২
রমাযানের দিনে সওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা কঠোর হারাম, কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তবে তার উপর বড় ধরনের কাফ্‌ফারাহ্‌ ওয়াজিব- সে বিত্তশালী হোক বা বিত্তহীন, তবে বিত্তহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন সম্ভব হয়, তখন এ কাফ্‌ফারাহ আদায় করতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদিসটি বর্ণনা করলেন। তবে এ হাদিসের প্রথমে “সাদাকাহ করো, সাদাকাহ করো” শব্দ দুটো উল্লেখ নেই এবং এতে “দিনের বেলায়” কথাটিও উল্লেখ নেই।
২৪৯৩
রমাযানের দিনে সওমরত অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা কঠোর হারাম, কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে তবে তার উপর বড় ধরনের কাফ্‌ফারাহ্‌ ওয়াজিব- সে বিত্তশালী হোক বা বিত্তহীন, তবে বিত্তহীন ব্যক্তির পক্ষে যখন সম্ভব হয়, তখন এ কাফ্‌ফারাহ আদায় করতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক ব্যক্তি রমযান মাসে মসজিদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো জ্বলে গিয়েছি, আমি তো জ্বলে গিয়েছি।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি ব্যাপার, কী হয়েছে তার?’ সে বলল, ‘আমি আমার স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছি।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে সদাকা কর।’ সে বলল, ‘আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর নবী! আমার কিছুই নেই এবং এ ব্যাপারে আমি সক্ষম নই।’ তিনি বললেন, ‘বসো।’ সে বসল, লোকটি বসা থাকতেই এক ব্যক্তি গাধা হাঁকিয়ে আসল। এর উপর ছিল খাদ্য। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘ঐ অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায়, যে কিছুক্ষণ পূর্বে এসেছিল?’ লোকটি দাঁড়াল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘এগুলো সদাকা করে দাও।’ সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের ছাড়া অন্য লোকদের সদাকা করে দিব? আল্লাহর শপথ আমরা অত্যন্ত ক্ষুধার্ত, আমাদের কিছুই নেই।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তাহলে ওগুলো তোমরা খেয়ে ফেল।’
২৪৯৪
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
ইয়াহিয়া ইবনু ইয়াহিয়া, মুহাম্মাদ ইবনু রুমহ ও কুতাইবা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। (মাক্কা) বিজয়ের বছর রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওমরত অবস্থায় সফরে বের হয়েছিলেন। অতঃপর 'কাদীদ' নামক স্থানে পৌঁছাবার পর তিনি সাওম ভেঙে ফেললেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যখনই কোন নতুন বিষয় প্রকাশ পেত, তাঁর সাহাবীগণ তা অনুসরণ করতেন।
২৪৯৫
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
এ সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইয়াহিয়া বলেন, সুফিয়ান (রহঃ) বলেছেন যে, আমি জানি না এ কার কথা অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শেষোক্ত কথাটি গ্রহণ করতেন।
২৪৯৬
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
এ সনদের সাথে বর্ণনা করেছেন। যুহরী (রহঃ) বলেন, সাওম পালন না করা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সর্বশেষ কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শেষোক্ত কাজকেই গ্রহণ করা হতো। রমজানের তের দিন অতিবাহিত হবার পর ভোরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা প্রবেশ করেন।
২৪৯৭
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ সনদে লাইস-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সাহাবীগণ প্রত্যেক নতুন বিষয়ের অনুসরণ করতেন। যে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে পেতেন, সাহাবীগণ একে রহিতকারী ও অধিকতর বলিষ্ঠ মনে করতেন।
২৪৯৮
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
এক সময় রমজান মাসে সাওমরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে বের হলেন। যখন তিনি 'উসফান' নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি পানি ভর্তি পাত্র আনার জন্য বললেন এবং লোকদেরকে দেখাবার জন্য দিনেই তা পান করে সাওম ভেঙে ফেললেন এবং এ অবস্থায় তিনি মক্কা প্রবেশ করলেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সফরে কখনো) সাওম পালন করেছেন আবার কখনো ইফতার করেছেন, তাই কেউ ইচ্ছা করলে সাওম পালন করতে পারে আবার কেউ ইচ্ছা করলে সাওম ছেড়ে দিতে পারে।
২৪৯৯
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
যে ব্যক্তি সাওম পালন করে তার প্রতি দোষারোপ করো না এবং তার প্রতিও না যে সাওম ছেড়ে দেয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরের অবস্থায় (কখনো) সিয়াম পালন করেছেন (আবার কখনো) সাওম ছেড়ে দিয়েছেন।
২৫০০
অবৈধ নয় এমন কাজে রমাযান মাসে সফরকারী ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা এবং ইফত্বার করা উভয়ই জায়িয যদি দু’ বা ততোধিক মঞ্জিলের উদ্দেশ্যে সফর করা হয়, অবশ্য ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্য সওম পালন করা উত্তম এবং অক্ষম ব্যক্তির জন্য সওম ভঙ্গ করা উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
বর্ণিত। মক্কা বিজয়ের বছর রমজান মাসে সাওমরত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার উদ্দেশে বের হলেন। এরপর যখন তিনি “'কুরাউল গামীম'” নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন লোকেরাও সাওমরত ছিল। এরপর তিনি একটি পানির পাত্র চাইলেন। অতঃপর লোকেরা তাঁর দিকে তাকাতে লাগল। এরপর তিনি পানি পান করলেন। তখন তাঁকে বলা হল, কতিপয় লোক সাওমরত রয়েছে। তিনি বললেন, তারা অবাধ্য, তারা অবাধ্য।