৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৩৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৩৫১
খারিজী সম্প্রদায় ও তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) অপর এক হাদীসে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যখন বিভিন্ন প্রকার কলহের আবির্ভাব হবে তখন একটি দল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং দু’দলের মধ্যে যেটি সত্যের অধিক নিকটতর সেটি তাদের হত্যা করবে।
২৩৫২
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্ (রাঃ)
আলী (রাঃ) বলেছেনঃ আমি কোন কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে বানিয়ে বলার চেয়ে - আমার আকাশ থেকে পড়ে যাওয়া শ্রেয় মনে করি। আর যখন আমি আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপার নিয়ে কথা বলি তখন মনে রাখবে যে, যুদ্ধে কৌশল ও চাতুরীর আশ্রয় নেওয়া বৈধ।আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ সে যুগে (অর্থাৎ কেয়ামতের পূর্বে) এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা অল্প বয়স্ক ও স্বল্প-বুদ্ধি সম্পন্ন হবে। তারা সৃষ্টিজগতের চেয়ে ভালো ভালো কথা বলবে, তারা কুরআন মাজিদ পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের গলার নিচে যাবে না। তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায় তারাও অনুরূপভাবে বেরিয়ে যাবে। অতএব, তোমরা তাদের মুখোমুখি হলে তাদের হত্যা করে ফেলবে। কেননা তাদেরকে যারা হত্যা করবে তারা কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সওয়াব পাবে।
২৩৫৩
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২৩৫৪
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ) থেকে অপর এক সনদ
উপরে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে “তীর যেভাবে শিকার থেকে বেরিয়ে যায়, তারা অনুরূপভাবে দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে” কথাটির উল্লেখ নেই।
২৩৫৫
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
তিনি খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, তাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি থাকবে যার হাত খাটো বা মহিলাদের স্তনের ন্যায় হবে। তোমরা যদি অহংকারে লিপ্ত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পার তাহলে আমি তোমাদেরকে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর যবানে আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সম্বন্ধে আলোচনা করব যা তিনি তাদের হত্যাকারীদের সম্পর্কে বলেছেন।
২৩৫৬
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবীদাহ (রহঃ)
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনি কি সরাসরি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে এ কথা শুনেছেন?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, কা‘বার প্রভুর শপথ! হ্যাঁ, কা‘বার প্রভুর শপথ! হ্যাঁ, কা‘বার প্রভুর শপথ!’
২৩৫৭
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু ওয়াহব আল জুহানী
যে সৈন্যদল আলী (রাঃ)-এর সাথে খারিজীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল - তিনি তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন। আলী (রাঃ) বললেন, “হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: “আমার উম্মাতের মধ্যে এমন সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা কুরআন পাঠ করবে। তোমাদের পাঠ তাদের পাঠের তুলনায় নিম্নমানের হবে। অনুরূপভাবে তাদের সালাত ও সিয়ামের তুলনায় তোমাদের সালাত-সিয়াম সামান্য বলে মনে হবে। কুরআন পাঠ করে তারা ধারণা করবে এতে তাদের লাভ হচ্ছে। অথচ এটা তাদের জন্য ক্ষতিরই কারণ হবে। তাদের সালাত তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমনটি তীর বেরিয়ে যায় শিকার থেকে। আর যে সৈন্যদল তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে তারা যদি তাদের নীরব মাধ্যমে কৃত ওয়াদা সম্পর্কে জানতে পারত তাহলে তারা এ কাজের (পুরস্কারের) উপরই ভরসা করে বসে থাকত। সে দলের চিহ্ন হলো – তাদের মধ্যে এমন এক লোক থাকবে যার বাহুর অগ্রভাগে নারী স্তনের বোঁটার ন্যায় একটি মাংসপেশি থাকবে। এর সাদা পশম থাকবে।”আলী (রাঃ) বলেন, “অতএব তোমরা মুয়াবিয়া ও সিরিয়ার অধিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাচ্ছ। অপরদিকে তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদের পিছনে এদেরকে (খারিজী) রেখে যাচ্ছ। আল্লাহর শপথ! আমার বিশ্বাস এরাই হচ্ছে সেই সম্প্রদায় (যাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করার ব্যাপারে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে)। কেননা এরা অবৈধভাবে রক্তপাত ঘটিয়েছে ও মানুষের গবাদি পশু লুটপাট করেছে। সুতরাং আল্লাহর নাম নিয়ে যাত্রা শুরু কর।”সালামা ইবন কুহাইল বলেন, “অতঃপর যায়দ ইবন ওহব (রাঃ) প্রতিটি মঞ্জিলের বর্ণনায় আমাকে দিয়েছেন। এমনকি তিনি বলেছেন, “আমরা একটি পুলের উপর দিয়ে অতিক্রম করে খারিজীদের মুখোমুখি হলাম। এ দিন আবদুল্লাহ ইবন ওহব আর রাসিবী খারিজীদের সেনাপতি ছিলেন। সে তাদেরকে বলল, “তোমরা বল্লম ফেলে দিয়ে খাপ থেকে তরবারি বের কর। কেননা আমার আশঙ্কা হচ্ছে, তারা হারুরার দিনের ন্যায় আজও তোমাদের উপর চরম আঘাত হানবে।” সুতরাং তারা ফিরে গিয়ে বল্লম ফেলে দিয়ে তরবারি খাপ থেকে বের করে নিল। লোকজন বল্লম দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হল। তারা একের পর এক নিহত হতে লাগল। সেদিন আলী (রাঃ)-এর দল থেকে মাত্র দু’জন লোক নিহত হল। অতঃপর আলী (রাঃ) বললেন, “তোমরা এদের মধ্যে থেকে সে বিকলাঙ্গ ব্যক্তিকে খুঁজে বের কর।” অতঃপর তারা তাকে খুঁজে পেল না। তখন আলী (রাঃ) নিজেই দাঁড়ালেন এবং নিহতদের পাশে গিয়ে লাশগুলো সরাবার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাকে জমিনের উপর পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে – “আল্লাহু আকবার” বলে উঠলেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বললেন, “আল্লাহ তা’আলা সত্য কথাই বলেছেন এবং তাঁর রাসূল সঠিক সংবাদ পৌঁছিয়েছেন।”রাবী বলেন, “এরপর আবিদা আস-সালমানী তাঁর কাছে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে আমীরুল মুমিনীন! সে মহান আল্লাহর শপথ যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। আমিও এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে শুনেছি।” এভাবে তিনি (আলী) তিনবার শপথ করে আবিদা আস-সালমানীকে একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন।
২৩৫৮
খারিজী সম্প্রদায়কে হত্যা করতে উৎসাহ প্রদান প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুক্ত গোলাম ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু রাফি’ (রাঃ)
যখন হারূরিয়াহ বের হলো এবং যখন সে আলী (রাঃ)-এর সাথে ছিল তখন বলল, “আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম দেয়ার অধিকার নেই।” আলী (রাঃ) বলেন, “এ কথাটি সত্য কিন্তু এর পেছনে তাদের হীন উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছিলেন আমি তাদের মধ্যে সে চিহ্নগুলো ভালভাবে লক্ষ্য করেছি। তারা মুখে সত্য কথা বলে কিন্তু তা তাদের এটা থেকে অতিক্রম করে না। এ বলে তিনি (উবাইদুল্লাহ) তার কণ্ঠনালীর দিকে ইঙ্গিত করলেন। (অর্থাৎ সত্য কথা গলার নিচে যায় না)। আল্লাহর সৃষ্টি জগতে এরা তাঁর চরম শত্রু। তাদের মধ্যে কালো বর্ণের এক ব্যক্তি রয়েছে যার একটি হাত ছাগলের স্তন বা স্তনের বোঁটার ন্যায়।অতঃপর আলী (রাঃ) তাদেরকে হত্যা করার পর বললেন, তোমরা তাকে খুঁজে বের কর। কিন্তু তারা তাকে খুঁজে পেল না। তিনি পুনরায় বললেন, তোমরা গিয়ে আবার খোঁজ কর। আল্লাহর শপথ! আমি মিথ্যা বলিনি এবং আমার কাছেও মিথ্যা বলা হয়নি। (অর্থাৎ নবী (ﷺ) আমার কাছে মিথ্যা বলেননি এবং আমিও তোমাদের কাছে মিথ্যা বলছি না।) এ কথাটি তিনি দুই অথবা তিনবার বললেন। তারা তাকে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পেয়ে গেল এবং নিয়ে এসে তাঁর সামনে রাখল। উবাইদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তাদের এ তৎপরতার সময় এবং আলী (রাঃ) খারিজীদের সম্বন্ধে এ উক্তিটি করার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।ইউনুসের বর্ণনায় আরও আছে, বুকাইর বলেনঃ আমার কাছে এক ব্যক্তি ইবনু হুনাইন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। “সে কালো লোকটিকে আমি দেখেছি”।
২৩৫৯
সৃষ্টি ও চরিত্রগত দিক দিয়ে খারিজী সম্প্রদায় সবচেয়ে নিকৃষ্ট পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার পরে আমার উম্মাতের মধ্যে বা অচিরেই আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব হবে- তারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না, তীর যেভাবে শিকার ভেদ করে চলে যায় তারাও তেমনি দ্বীন থেকে বেরিয়ে যাবে, আর ফিরে আসবে না। সৃষ্টিকূলের মধ্যে তারা নিকৃষ্ট ও অধম।ইবন সামিত (রাঃ) বলেন, আমি হাকাম আল গিফারীর ভাই রাফি ইবন আমর আল গিফারীর সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আমি আবূ যর (রাঃ) থেকে এ ধরনের হাদীস শুনেছি এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কি? তার সামনে এ হাদীসটিও উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আমি এ হাদীসটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে শুনেছি।
২৩৬০
সৃষ্টি ও চরিত্রগত দিক দিয়ে খারিজী সম্প্রদায় সবচেয়ে নিকৃষ্ট পরিচ্ছেদ নাই
ইউসায়র ইবনু ‘আমর (রহঃ)
আমি সাহল ইবন হুনাইফ (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আমি নবী (ﷺ)-কে খারিজীদের সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে হাত দিয়ে পূর্ব দিকে ইঙ্গিত করে বলতে শুনেছিঃ এরা এমন এক সম্প্রদায়, তারা কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকার থেকে বেরিয়ে যায়।