৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৩৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৩২১
কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা পরিচ্ছেদ নাই
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু সংখ্যক কাবা (শেরওয়ানি) বণ্টন করলেন, কিন্তু (আমার পিতা) মাখরামাকে একটিও দিলেন না। মাখরামা বললেন, বৎস! আমার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে চলো। আমি তার সাথে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি ঘরের ভিতর গিয়ে তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে) ডাক। আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি যখন বেরিয়ে আসলেন, ঐ কাবাগুলোর একটি তাঁর পরনে ছিল। তিনি বললেন, ‘এটা আমি তোমার জন্যই রেখেছিলাম।’ বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মাখরামার দিকে তাকালেন এবং বললেন, “মাখরামা সন্তুষ্ট হয়েছে।”
২৩২২
কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা পরিচ্ছেদ নাই
মিসওয়ার ইবনু মাখরামাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর কাছে কিছু সংখ্যক কাবা (পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধানের জন্য কাপড় বিশেষ) আসলো। আমার পিতা মাখরামা আমাকে বললেন, “আমার সাথে তাঁর (ﷺ) কাছে চলো, হয়তো তিনি আমাদেরকে তা থেকে দুয়েকটা দিতে পারেন।”বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা গিয়ে তাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বললেন। নবী (ﷺ) তাঁর কণ্ঠস্বর বুঝতে পারলেন। তিনি একটি কাবা সাথে করে তার কারুকাজ ও সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বের হলেন এবং বলতে থাকলেনঃ “আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম; আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম”।
২৩২৩
যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেওয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহর শপথ! আমি জানি সে মুমিন লোক। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম।অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সৎগুণাবলী ও ঈমানি চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহর শপথ! আমি জানি সে মুমিন লোক”। তিনি (এবারও) বললেন, বরং সে মুসলিম।আমি এবারও সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করল। তাই আমি বললাম, আল্লাহর রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহর শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মুমিন। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বললেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে- যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়তো তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দুইবারের উল্লেখ আছে।
২৩২৪
যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রাঃ) থেকে সালিহ (রহঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
২৩২৫
যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রাঃ)
এ সূত্রেও যুহরী বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরও আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (স্নেহ ভরে) আমার ঘাড় ও কাঁধের মাঝে হাত মেরে বললেনঃ হে সা’দ! তুমি কি আমার সাথে লড়তে চাও? নিশ্চয়ই আমি কোন ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি।
২৩২৬
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হুনায়নের দিনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াজিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা (গনীমত হিসাবে) দান করেছিলেন এ থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ উট প্রদান করলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলল, “আল্লাহ তাঁর রাসূলকে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে।”আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, এ খবর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করলেন। তারা জড়ো হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তার মানে কি? আনসারদের মধ্য থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন- আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট (ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট) থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা (গনীমাতের) মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহর কসম! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি।পুনরায় তিনি বললেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের (দানের ব্যাপারে) প্রাধান্য দেয়া হবে। তখন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করবে এবং হাউযে কাওসারের কাছে থাকবে। তারা বললেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব।
২৩২৭
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরও আছেঃ আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারিনি এবং ‘আমাদের কিছু লোক’ শব্দটি উল্লেখ করেছেন।
২৩২৮
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস (রাঃ) বলেছেন যে, তারা বললেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।” যেমন যুহরী ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে।
২৩২৯
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেন: তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা (আনসারগণ) বললেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে (মাতুল) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।অতঃপর তিনি বললেন: কুরাইশরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি তাদের সান্ত্বনা দিতে ও তাদের অন্তরকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো (তাদের সাথেই থাকব)।
২৩৩০
ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
মক্কা বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরাইশদের মধ্যে বণ্টন করা হলে আনসাররা বললেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাঁদেরকে সমবেত করে বললেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে?তাঁরা বললেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তাঁরা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বললেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোনো উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসাররা যদি অপর কোনো উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব (আমি আনসারদের সাথেই থাকব)।