৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২৩২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২৩১১
দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ইদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন, অতঃপর লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ “হে লোক সকল! না, আল্লাহর শপথ! তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন কিছুর আশঙ্কা নেই। তবে আল্লাহ তোমাদের জন্য যে পার্থিব সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এ সম্পর্কে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা রয়েছে।” এক ব্যক্তি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণের পরিণামে কি অকল্যাণও হয়ে থাকে?’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কি বলেছিলে?” সে বলল, “আমি বলেছিলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণের সাথে কি অকল্যাণ আসবে?’” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে লক্ষ্য করে বললেন, “কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যেসব তৃণলতা ও সবুজ ঘাস উৎপন্ন হয় এটা কোন পশুকে ডায়রিয়ার প্রকোপে ফেলে না বা মৃত্যুর কাছাকাছিও নিয়ে যায় না। কিন্তু চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুরা এগুলো খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর সূর্যের দিকে তাকিয়ে পেশাব-পায়খানা করতে থাকে, অতঃপর জাবর কাটতে থাকে। এগুলো পুনরায় চারণভূমিতে যায় এবং এভাবে অত্যধিক খেতে খেতে একদিন মৃত্যুর শিকার হয়। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি অসৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- সে অনেক খাচ্ছে কিন্তু পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।”
২৩১২
দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ইদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে যেসব জিনিসের আশঙ্কা করছি এর মধ্যে অনন্য হল পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা বলতে কি বুঝায়? তিনি বললেন, পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা হলো দুনিয়ার সম্পদের প্রাচুর্য।তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! “কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনবে? তিনি বললেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, তবে কথা হল বসন্তকালে যে সব গাছপালা, তরুলতা ও সবুজ ঘাস জন্মায় কোন পশু তা অতিরিক্ত খেয়ে কলেরা হয়ে মারা যায় বা মরার নিকটবর্তী হয়। এসব তৃণভোজী পশু অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর রোদে দাঁড়িয়ে জাবর কাটে ও পেশাব করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এরপর আবার চারণভূমিতে গিয়ে অতিরিক্ত খেয়ে থাকে। (এ অতি ভোজের কারণে কোন সময় পেট খারাপ হয়ে মারা যায়)।এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ তিক্ত ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎ পন্থায় উপার্জন করল, সে সে পথেই থাকল। সে কতই না সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি তা অসৎ পন্থায় উপার্জন করল তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে - এক ব্যক্তি খাচ্ছে অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারছে না।”
২৩১৩
দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ইদ আল খুদরী (রাঃ)
নবী (ﷺ) মিম্বারের উপরে বসলেন এবং আমরা তাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি (আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে) বললেনঃ “আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি তার মধ্যে অন্যতম হলো - পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য বের করবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে?”বর্ণনাকারী বলেন, (লোকটির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে) নবী (ﷺ) চুপ থাকলেন। এতে (উপস্থিত লোকদের মধ্যে) কেউ কেউ তাকে বলল, কী দুর্ভাগা তুমি! তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। রাবী আরও বলেন, আমাদের মনে হলো তাঁর উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর তিনি তাঁর (মুখমণ্ডল থেকে) ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি মনে হলো তার প্রশংসাই করলেন। তিনি বললেন, কল্যাণ মূলত অকল্যাণ বয়ে আনে না।তবে কথা হলো, বসন্তকালে যে সবুজ লতাপাতা ও তৃণরাজির আবির্ভাব ঘটে এগুলো অতি ভোজনে মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কতিপয় তৃণভোজী পশু তা খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে, অতঃপর রোদের দিকে তাকিয়ে মল ত্যাগ করে ও পেশাব করে এবং জাবর কাটতে থাকে। অতঃপর তা চারণভূমিতে ছুটে চলে এবং বেশি করে খায় (এ ভাবে অতিভোজের কারণে বদহজম হয়ে মারা যায়)।এ দুনিয়ায় ধন সম্পদ সবুজ এবং সুমিষ্ট। এ ধন কোন মুসলিমের কতই উত্তম বন্ধু যা থেকে সে নিঃস্ব, অনাথ, ইয়াতীম ও অসহায় এবং পথিককে দান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি না-হকভাবে ধন সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তি আহার করে অথচ তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কেয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।
২৩১৪
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা ও ধৈর্য ধারনের ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ইদ আল খুদরী (রাঃ)
আনসার সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করলেন। তারা আবারও চাইল, তিনি আবারও দিলেন। এমনকি তাঁর কাছে যে সম্পদ ছিল তাও ফুরিয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, “আমার কাছে যখন কোন কল্যাণ থাকে, তা তোমাদের দিতে কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করি না। আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বাঁচতে চায়, আল্লাহ তাকে (পরের কাছে হাত পাতার অভিশাপ থেকে) বাঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হতে চায়, আল্লাহ তাকে বেপরোয়া ও স্বনির্ভর করে দেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। বস্তুত আল্লাহর দেওয়া অবদানগুলোর মধ্যে ধৈর্য শক্তির চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত অবদান আর কিছু নেই।”
২৩১৫
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা ও ধৈর্য ধারনের ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
২৩১৬
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা এবং অল্পতুষ্ট থাকা সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার ইবনুল ’আস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিযক দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই (জীবনে) সফলতা লাভ করেছে।
২৩১৭
ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা এবং অল্পতুষ্ট থাকা সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিজক (বা পানাহারের ব্যবস্থা) প্রয়োজন পরিমাণ রাখুন।”
২৩১৮
কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা পরিচ্ছেদ নাই
‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু যাকাতের মাল বণ্টন করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃত পক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হল অন্য লোক। উত্তরে তিনি বললেন, “তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি তাদেরকে যদি না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপণ বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই (অর্থাৎ কৃপণ নই)।”
২৩১৯
কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে পথ চলছিলাম, তাঁর পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আঁচল বিশিষ্ট চাদর। এক বেদুইন তাঁর কাছে আসলো। সে তাঁর চাদর ধরে তাঁকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তাঁর ঘাড়ে দাগ পরে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাদরের আঁচলও পরে গেল। সে (বেদুইন) বলল, হে মুহাম্মদ (ﷺ)! আল্লাহর দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন।
২৩২০
কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
এ সূত্রে নবী (ﷺ)-এর একই হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আমর-এর বর্ণিত হাদিসে আরও আছে “তারপর সে (বেদুইন) এমন জোরে চাদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর বেদুইনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল”। আর হাম্মামের বর্ণনায় আছে: এমন জোরে তাঁর চাদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আঁচল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘাড়ে থেকে গেল।