৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২২৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২২৬১
দান-খায়রাতের সাথে অন্যান্য সাওয়াবের কাজও করা ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজ সম্পদ থেকে আল্লাহর রাস্তায় জোড়া খরচ করে জান্নাতে তাকে এই বলে ডাকা হবে যে, ‘ওহে আল্লাহর বান্দা! এখানে আসো, এখানে তোমার জন্য উত্তম ও কল্যাণ রয়েছে।’ যে ব্যক্তি নামাজী তাকে সালাতের দরজা দিয়ে ডাকা হবে, যে ব্যক্তি মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা দিয়ে ডাকা হবে। সদাকা দানকারীকে সদাকার দরজা দিয়ে ডাকা হবে এবং রোজাদারকে রোজার দরজা রাইয়্যান দিয়ে ডাকা হবে।আবু বকর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তিকে সবগুলো দরজা দিয়ে ডাকা হবে কি? অর্থাৎ এমন কোন ব্যক্তি হবে কি যাকে সবগুলো দরজা দিয়েই ডাকা হবে?’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ, আর আমি আশা করি তুমিই হবে তাদের মধ্যে সে ব্যক্তি।
২২৬২
দান-খায়রাতের সাথে অন্যান্য সাওয়াবের কাজও করা ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)-এর সূত্রে ইউনুস (রহঃ)
উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২২৬৩
দান-খায়রাতের সাথে অন্যান্য সাওয়াবের কাজও করা ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়ায় খরচ করবে, জান্নাতের দরজাগুলোর প্রত্যেক কোষাধ্যক্ষ তাকে ডেকে বলবে, হে অমুক! এখানে আসো, এখানে আসো। আবু বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যাকে এভাবে সবগুলো দরজা থেকে ডাকা হবে সে অসুবিধায় পড়ে যাবে না তো? তার কোন প্রকার অনিষ্টের সম্ভাবনা নেই তো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি অবশ্যই আশা করি তুমিই হবে তাদের সেই ব্যক্তি।
২২৬৪
দান-খায়রাতের সাথে অন্যান্য সাওয়াবের কাজও করা ফযীলত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আজ তোমাদের মধ্যে কে রোযা রেখেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে জানাযার সাথে গেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে মিসকিনকে খাবার দিয়েছে? আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমি। তিনি বললেন, আজ তোমাদের মধ্যে কে রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে গেছে? আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমি। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যখন কোন ব্যক্তির মধ্যে এসব কাজের সমাবেশ ঘটে, সে অবশ্যই জান্নাতে যাবে।
২২৬৫
খয়রাত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা; দান-খয়রাত করে তা গুনে রাখার কুফল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌রের কন্যা আসমা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ খরচ করো, অথবা ছিটাও অথবা দাও—তবে কত খরচ করলে তা গুনে রেখো না। তাহলে আল্লাহ তোমাকে গুনে গুনে দিবেন (অর্থাৎ কম দিবেন)।
২২৬৬
খয়রাত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা; দান-খয়রাত করে তা গুনে রাখার কুফল পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ খরচ করো তবে কত খরচ করলে তার হিসাব রেখো না। তাহলে আল্লাহ তা’আলা তোমাদেরকে গুনে গুনে দিবেন। আর জমা করে রেখো না তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন। (অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে দিবেন না)।
২২৬৭
খয়রাত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা; দান-খয়রাত করে তা গুনে রাখার কুফল পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাকে বললেন ...... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
২২৬৮
খয়রাত করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা; দান-খয়রাত করে তা গুনে রাখার কুফল পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌রের কন্যা আসমা (রাঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যুবাইর আমাকে যা কিছু দেয়, এছাড়া আমার কাছে আর কোন মালপত্র নেই। আমি যদি এ থেকে দান করি তাহলে আমার কি গুনাহ হবে?তিনি বললেন, তুমি তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী দান কর; কিন্তু পুঞ্জিভূত করে রেখো না। যদি জমা করে রাখো তাহলে আল্লাহ জমা করে রাখবেন, তোমাকে দিবেন না।
২২৬৯
দান-খয়রাত পরিমাণ যতই কম হোকনা কেন তা সত্ত্বেও উৎসাহ দেয়া-তা অবহেলা করা যাবে না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ হে মুসলিম মহিলাগণ! তোমাদের কোন প্রতিবেশী যদি ছাগলের খুরও উপহার দেয় তবুও তা তুচ্ছজ্ঞান করবে না অর্থাৎ দাতা যেন লজ্জার বশীভূত হয়ে দান থেকে বিরত না থাকে এবং গ্রহীতাও যেন অল্প বলে অবজ্ঞা না করে।
২২৭০
গোপনে দান-খয়রাত করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেনঃ সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তাঁর (‘আরশের) ছায়াতলে আশ্রয় দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না।(১) ন্যায্যপরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা),(২) সেই যুবক, যে আল্লাহ তা’আলার ইবাদতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে,(৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে আছে (অর্থাৎ জামাআতে সাথে সালাত আদায় করতে যত্নবান),(৪) সে দুই ব্যক্তি, যারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যই পৃথক হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত ও সুন্দরী নারী (অবৈধ কাজে) আহ্বান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত জানে না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দুটো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে।