৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২২৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২২৫১
দানশীল ব্যক্তি ও কৃপণ ব্যক্তির উদাহরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কৃপণ ও দানশীলদের উদাহরণ হচ্ছে এমন দুই ব্যক্তির মতো যাদের পরনে দুটি লৌহবর্ম রয়েছে। অতঃপর দানশীল ব্যক্তি যখন দান করার ইচ্ছা করল তার বর্ম প্রশস্ত হয়ে গেল এমনকি তার পায়ের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে ফেলতে লাগল। কিন্তু যখন কৃপণ ব্যক্তি দান করার ইচ্ছা করল তখন তা সংকুচিত হয়ে গেল এবং তার হাত গলার সাথে আটকে পড়ল আর প্রতিটি গ্রন্থি অপরটির সাথে কষে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তারপর সে তা প্রশস্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু তা করতে সক্ষম হয় না।
২২৫২
সদাক্বাহ্‌ যদি কোন ফাসিক্ব বা অনুরূপ কোন অসৎ ব্যক্তির হাতে পড়ে তাহলেও দাতা এর সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন: এক ব্যক্তি বলল, আমি আজ রাতে কিছু দান-খয়রাত করব। অতঃপর সে সদাকা নিয়ে বের হয়ে এক ব্যভিচারিণীকে তা অর্পণ করল। ভোরে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক ব্যক্তি ব্যভিচারিণীকে দান-সদাকা করেছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার প্রদত্ত সদাকা তো ব্যভিচারিণীর হাতে গিয়ে পড়েছে।এরপর সে (আবার) বলল, আজ আমি আরো কিছু সদাকা করব। অতঃপর সে তা নিয়ে বের হয়ে এক ধনী লোকের হাতে অর্পণ করল। লোকজন ভোরে আলাপ করতে লাগল যে, আজ রাতে কে যেন এক ধনী লোককে সদাকা দিয়ে গেছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার সদাকা তো ধনীর হাতে গিয়ে পড়েছে।তারপর সে পুনরায় বলল, আমি আজ রাতে কিছু সদাকা দিচ্ছি। সদাকা নিয়ে বের হয়ে সে এক চোরের হাতে অর্পণ করল। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে লাগল আজ রাতে কে যেন চোরকে সদাকা দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারই। আমার প্রদত্ত সদাকা ব্যভিচারিণী, ধনী ও চোরের হাতে পড়েছে।অতঃপর এক ব্যক্তি (মালাক বা সে যুগের কোন নবী) এসে তাকে বলল, তোমার প্রদত্ত সকল সদাকাই কবুল হয়েছে। ব্যভিচারিণীকে দেয়া সদাকা কবুল হওয়ার কারণ হলো- সম্ভবত সে ঐ রাতে ব্যভিচার থেকে বিরত ছিল (কেননা সে পেটের তাগিদে এ কাজ করত)। ধনী ব্যক্তিকে যে সদাকা দেয়া হয়েছিল তা কবুল হওয়ার কারণ হলো ধনী ব্যক্তি এতে লজ্জিত হয়ে হয়তো নসীহত গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে সেও দান করবে বলে সংকল্প করেছে। আর চোরকে দেয়া সদাকা কবুল হওয়ার কারণ হলো সম্ভবত সে ঐ রাতে চুরি থেকে বিরত ছিল। কেননা সেও পেটের তাগিদে চুরি করত।
২২৫৩
আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে মুসলিম আমানতদার কোষাধ্যক্ষ নির্দেশ অনুযায়ী যথাযথভাবে হুকুম পালন করে বা দান করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাপককে পূর্ণমাত্রায় দান করে, সেও জনৈক দাতা হিসেবে গণ্য, অর্থাৎ সেও মূল মালিকের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।
২২৫৪
আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক ক্ষতির মনোভাব না নিয়ে স্বামীর ঘরের খাদ্যদ্রব্য দান করে, সে তার দানের সওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও তার উপার্জনের সওয়াব পাবে। অনুরূপভাবে এ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারীও মালিকের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে। এতে একজনের দ্বারা অপরজনের প্রাপ্য সওয়াব মোটেও কমবে না।
২২৫৫
আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
মানসূর (রহঃ)
উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে “তার ঘরে খাদ্যশস্যের” পরিবর্তে তার “স্বামীর খাদ্যশস্যের” কথা উল্লেখ আছে।
২২৫৬
আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোনোরূপ ক্ষতির মনোভাব ছাড়া স্ত্রী যখন তার স্বামীর ঘর থেকে খরচ করে, স্বামী স্ত্রী উভয়েই এর সমান সওয়াব লাভ করে। স্বামী সওয়াব পায় তার উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রী সওয়াব পায় তার দানের জন্য। অনুরূপভাবে কোষাধ্যক্ষও সওয়াব পাবে। তবে এদের সওয়াব লাভের কারণে পরস্পরের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না।
২২৫৭
আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
২২৫৮
ক্রীতদাস তার মনিবের সম্পদ হতে যে পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করতে পারবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ লাহ্‌ম-এর [‘আবদুল্লাহ (রাঃ)] আযাদকৃত গোলাম ‘উমায়র (রাঃ)
আমি ছিলাম ক্রীতদাস। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আমার মালিকের সম্পদ থেকে কিছু সদাকা করতে পারি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আর তোমরা দুইজনকেই এর অর্ধেক সওয়াব পাবে।
২২৫৯
ক্রীতদাস তার মনিবের সম্পদ হতে যে পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করতে পারবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ লাহম (রাঃ)-এর মুক্ত গোলাম ‘উমায়র (রাঃ)
“আমার মালিক আমাকে গোশত শুকানোর জন্য নির্দেশ দিলেন। আমার কাছে জনৈক মিসকিন আসলো। আমি তাকে এ থেকে খাওয়ার জন্য দিলাম। এটা টের পেয়ে আমার মালিক আমাকে মারধর করলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তিনি তাঁকে ডেকে এনে বললেন, ‘তুমি একে মারলে কেন?’ আমার মালিক বলেন, ‘আমার খাদ্যদ্রব্য আমার অনুমতি ছাড়াই সে দান করে।’ তিনি বলেন, ‘তোমরা দুজনেই এর সমান সওয়াব পাবে।’”
২২৬০
ক্রীতদাস তার মনিবের সম্পদ হতে যে পরিমাণ সম্পদ ব্যয় করতে পারবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
তিনি মুহাম্মদ (ﷺ)-এর কয়েকটি হাদিস বর্ণনা করলেন। তার একটি এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া স্ত্রী যেন (নফল) রোজা না রাখে। তার উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া সে যেন তার ঘরে প্রবেশ করার জন্য অন্য কাউকে অনুমতি না দেয়। তার (স্বামীর) নির্দেশ ছাড়া সে তার উপার্জিত সম্পদ থেকে যা কিছু দান করবে তাতেও সে (স্বামী) অর্ধেক সওয়াব পাবে।