৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২২১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২২০১
পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীদের ভরণ-পোষনের ফাযীলাত এবং তা না করার অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একটি দীনার তুমি আল্লাহর পথে ব্যয় করলে, একটি দীনার গোলাম আজাদ করার জন্য এবং একটি দীনার মিসকীনদেরকে দান করলে এবং আর একটি তোমার পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করলে। এর মধ্যে (সওয়াবের দিক থেকে) ওই দীনারটিই উত্তম যা তুমি পরিবারের লোকদের জন্য ব্যয় করলে।
২২০২
পরিবার-পরিজন ও দাস-দাসীদের ভরণ-পোষনের ফাযীলাত এবং তা না করার অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
খায়সামাহ্‌ (রাঃ)
একদা আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)-এর সাথে বসা ছিলাম, এমন সময় তার কোষাধ্যক্ষ আসলেন। তিনি বললেন, তুমি কি গোলামদের খাবার ব্যবস্থা করেছ? তিনি বললেন, না। অতঃপর তিনি বলেন, তুমি গিয়ে তাদের খাবার দিয়ে আসো। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যাদের ভরণ-পোষণ করা, ব্যয়ভার বহন করা কর্তব্য তা না করে আটকে রাখাই কোন ব্যক্তির গুনাহগার হওয়ার জন্য যথেষ্ট।
২২০৩
সর্বপ্রথম নিজের জন্য, অতঃপর ঘরের লোকের জন্য, অতঃপর আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
বনু উযরাহ গোত্রের এক ব্যক্তি তার এক গোলামকে তার মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার কথা দিলেন। অতঃপর এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কানে পৌঁছলে তিনি বললেন, এ ছাড়া তোমার কাছে কি আর কোন সম্পদ আছে? তিনি বললেন, না।নবী (ﷺ) বললেন, এমন কে আছ যে আমার কাছ থেকে এ গোলামটিকে ক্রয় করবে? নুয়াইম ইবনু আবদুল্লাহ আল আদাবী (রাঃ) তাকে আটশ দিরহামে ক্রয় করলেন। তারপর তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এ দিরহামগুলো নিয়ে আসলেন।তিনি তা গোলামের মালিককে বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, “এ অর্থ তুমি প্রথমে তোমার নিজের জন্য ব্যয় কর, তারপর যদি কিছু বাকি থাকে তাহলে তোমার পরিবারের লোকদের জন্য তা ব্যয় কর, অতঃপর তোমার নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যয় কর, এরপর ও যদি কিছু অবকাশ থাকে তাহলে তা এদিকে সেদিকে ব্যয় কর।” এ বলে তিনি সামনে ডানে ও বামে হাত দিয়ে ইঙ্গিত করলেন।
২২০৪
সর্বপ্রথম নিজের জন্য, অতঃপর ঘরের লোকের জন্য, অতঃপর আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
আবু মাযকুর নামে আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ছিল। তার মৃত্যুর পর তার গোলাম আজাদ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তার নাম ছিল ইয়াকুব। হাদিসের অবশিষ্ট অংশ লাইস বর্ণিত হাদিসের সমার্থবোধক।
২২০৫
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
মাদীনায় আনসার সম্প্রদায়ের মধ্যে আবূ তালহা (রাঃ) প্রচুর সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর সকল সম্পদের মধ্যে “বায়রুহা” নামক বাগানটি তাঁর সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ ছিল। এটি মসজিদে নাবাবীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওই বাগানে যেতেন এবং এর মিষ্টি পানি পান করতেন।আনাস (রাঃ) বলেন, যখন এ আয়াত- “তোমরা যতক্ষণ তোমাদের নিজেদের প্রিয় জিনিস (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করবে- ততক্ষণ কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না” (সূরা আল ইমরান ৩: ৯২) অবতীর্ণ হল, আবূ তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বললেন, মহান আল্লাহ তায়ালা তার কিতাবে বলেন, “তোমরা কিছুতেই প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না যতক্ষণ তোমাদের প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে”। আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হল “বায়রুহা” নামক বাগানটি। আমি তা আল্লাহর পথে সদকা (দান) করলাম। আমি এর থেকে কল্যাণ পেতে চাই এবং আল্লাহর কাছে এর সওয়াব জমা হওয়ার আশা রাখি। কাজেই হে আল্লাহর রসূল! আপনি আপনার ইচ্ছামত তা ব্যয় করুন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, অত্যন্ত ভাল কথা; এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। এটা তো খুব লাভজনক সম্পদ। তোমার প্রিয়জন ও নিকটবর্তী আত্মীয়দের মাঝে তা বন্টন করে দাও। অতঃপর আবূ তালহা (রাঃ) এটা তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও তাঁর চাচাতো ভাইদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন।
২২০৬
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
“তোমাদের প্রিয় বস্তু (আল্লাহর পথে) ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কিছুতেই প্রকৃত সওয়াব লাভ করতে পারবে না”- এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হল, তখন আবু তালহা (রাঃ) বলেন, এ তো মহা সুযোগ। আমাদের প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা'আলা নিজেই আমাদের কাছ থেকে মাল চাচ্ছেন। তাই হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমার “বাইরাহা” নামক বাগানটি আল্লাহর জন্য দান করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি তোমার এই বাগান তোমার আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে বণ্টন করে দাও। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি এটা হাসান বিন সাবিত ও উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)-এর মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
২২০৭
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে একটি দাসী আযাদ করে দেন। অতঃপর আমি এ কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জানালাম। তিনি বললেন, “যদি তুমি এ দাসীটি তোমার মামাদের দান করতে তাহলে অনেক বেশি সওয়াব পেতে।”
২২০৮
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আব্দুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “হে নারী সমাজ! তোমরা (দান) সদাকা কর, যদিও তা তোমাদের গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়।”যায়নাব (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি গিয়ে আমার স্বামী আবদুল্লাহকে বললাম, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সদাকা করতে বলেছেন। আর তুমি তো গরীব অভাবী মানুষ, তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস কর, তোমাকে দান করলে তা দান হিসেবে গণ্য হবে কিনা? তা না হলে অপর কাউকে দান করব!”রাবী বলেন, আমার স্বামী আবদুল্লাহ আমাকে বললেন, “বরং তুমি যাও।” অতঃপর আমিই গেলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরজায় আনসার সম্প্রদায়ের অপর এক মহিলাকে একই উদ্দেশ্যে দাঁড়ানো দেখলাম। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হলেন অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী ও প্রভাবশালী লোক।অতঃপর বিলাল (রাঃ) বের হয়ে আসলে আমরা তাঁকে বললাম, “আপনি গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলুন, দুইজন মহিলা দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে- যদি তারা তাদের নিজ স্বামীকে দান করে এবং তাদের ঘরেই প্রতিপালিত ইয়াতিমকে দান করে তাহলে কি তা আদায় হবে? আর অনুরোধ হলো আমাদের পরিচয় তাঁকে জানাবেন না।”রাবী বলেন, অতঃপর বিলাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “মহিলাদ্বয় কে কে?” তিনি বললেন জনৈক আনসার গোত্রের এবং অপরজন যায়নাব? তিনি বললেন, “আবদুল্লাহর স্ত্রী যায়নাব। অতঃপর তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তারা উভয়েই তাদের দানের জন্য দ্বিগুণ সওয়াব পাবে। এক-নিকটাত্নীয়দের সাথে সদ্ব্যবহারের জন্য। দুই- সদাকা করার জন্য।”
২২০৯
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ) -এর স্ত্রী যায়নাব (রাঃ)
পূর্বের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে এও আছে- যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি মসজিদের ভিতরে ছিলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখে বললেন- “সদাকা দাও যদিও তা তোমার গহনাপত্রের মাধ্যমে হয়।”
২২১০
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
যায়নাব বিনতে আবূ সালামাহ (রাঃ)
উম্মু সালামা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! আবু সালামার সন্তানদের জন্য আমি যা খরচ করি তার বিনিময়ে আমি কি সওয়াব পাব? আর আমি চাই না যে, তারা আমার হাতছাড়া হয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ুক, কেননা তারা তো আমারই সন্তান। অতঃপর তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তাদেরকে তুমি যা দান করবে তার সওয়াব পাবে।