৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২১৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২১৮১
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আসলাম (রাঃ)
তিনি এ সূত্রে হাফস ইবনু মায়সারা কর্তৃক বর্ণিত (উপরের) হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। মায়সারার হাদিসের সর্বশেষ মর্মানুযায়ী তিনি বলেছেন, مَا مِنْ صَاحِبِ إِبِلٍ لاَ يُؤَدِّي حَقَّهَا কিন্তু তিনি مِنْهَا حَقَّهَا বলেননি এবং এ হাদিসে لاَ يَفْقِدُ مِنْهَا فَصِيلاً وَاحِدًا উল্লেখ করেছেন এবং يُكْوَى بِهَا جَنْبَاهُ وَجَبْهَتُهُ وَظَهْرُهُ বলেছেন। এতে আরো উল্লেখ আছে "উটের একটি দুধের বাচ্চাও যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে না।" এ সূত্রে আরো আছে, সঞ্চিত সোনা-রূপা গরম করে তা দিয়ে তার উভয় পার্শ্বদেশ, কপাল ও পিঠে দাগ দেয়া হবে।
২১৮২
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে সব ধনাঢ্য ব্যক্তি নিজেদের ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করে না, কেয়ামতের দিন তাদের এ সম্পদ জাহান্নামের আগুনে গরম করে পাত তৈরি করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের দেহের উভয় পার্শ্ব ও ললাটে দাগ দেয়া হবে। তার শাস্তি বান্দাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। এ সময়কার একটি দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে।আর যে সব উটের মালিকেরা যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে একটি মাঠে উপুড় করে শুইয়ে রাখা হবে এবং ঐ সব উট স্থূলদেহ নিয়ে আসবে যেমনটি তারা পৃথিবীতে ছিল এবং এগুলো তাদের পা দিয়ে মাড়াতে মাড়াতে অগ্রসর হবে। এভাবে যখনই সে দলটি অতিক্রম করবে পুনরায় এর প্রথম দল এসে পৌঁছবে। এগুলো এভাবে তাদেরকে মাড়াতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দাদের বিচার শেষ না করবেন। আর এ কাজ এমন একদিন করা হবে, যা পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান হবে। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে- হয় জান্নাতের দিকে না হয় জাহান্নামের দিকে।আর যে সব ছাগলের মালিকরা তার যাকাত আদায় করবে না, তাদেরকে একটি সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে এবং তার সে ছাগলগুলো যেমনটি পৃথিবীতে ছিল তার চেয়ে মোটা তাজা অবস্থায় এসে তাদের খুর দিয়ে দলিত করতে এবং শিং দিয়ে আঘাত করতে করতে অগ্রসর হবে। অথচ সেদিন কোন একটি শিং বাঁকা, শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না। যখন এদের শেষ দল অতিক্রম করবে পুনরায় প্রথম দল এসে পৌঁছবে। আর এভাবে ‘আজাব চলতে থাকবে যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা তার বান্দাদের বিচার সমাপ্ত করেন। এ শাস্তি এমন দিনে হবে যার পরিমাণ হবে তোমাদের হিসাবানুসারে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর কেউ তার পথ ধরবে জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে।বর্ণনাকারী সুহাইল বলেন, তিনি গরুর কথা বলেছেন কিনা তা আমি জানি না। এবার সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়া সম্পর্কে কী হবে? উত্তরে তিনি বললেন, ঘোড়ার ললাটে কল্যাণ রয়েছে; অথবা বললেন, ঘোড়া তার কপালের সাথে আবদ্ধ করা হয়েছে। বর্ণনাকারী সুহাইল বলেন, আমার সন্দেহ হচ্ছে তিনি হয়ত বলেছেন: ঘোড়ার মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ থাকবে। অতঃপর তিনি বলেন, ঘোড়া তিন প্রকার। ঘোড়া কারো জন্য গুনাহের কারণ, কারো জন্য আবরণ, আবার কারো জন্য সওয়াবের বিষয়। ঘোড়া সওয়াবের কারণ হবে সে ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে পোষে এবং এজন্য প্রস্তুত রাখে। এ ঘোড়া যা কিছু খাবে বা পান করবে তার মালিকের জন্য সওয়াবের কারণ হবে। যদি সে এটাকে কোন মাঠে চরায় তাহলে এ ঘোড়া যা খাবে তা তার আমলনামায় সওয়াব হিসেবে লেখা হবে। আর যদি কোন জলাশয়ে এ ঘোড়া পানি পান করে তবে এর প্রতি ফোঁটা পানির বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর প্রস্রাব ও পায়খানার পরিবর্তেও মালিক সওয়াব পাবে বলে উল্লেখ করেছেন। আর যদি এটি দুই একটি টিলা অতিক্রম করে তাহলে প্রত্যেক কদম অতিক্রমের বিনিময়েও সওয়াব লেখা হবে।আর সেই ঘোড়া মালিকের জন্য আবরণ স্বরূপ যা সে অপরের উপকার করার জন্য এবং নিজের সৌন্দর্যের জন্য লালন পালন করেছে এবং সে সকল সময়ই এর পেট ও পিঠের হক আদায় করেছে (অর্থাৎ ঘোড়ার পানাহারের প্রতি যত্নবান ছিল এবং বন্ধু ও গরীবদেরকে মাঝে মাঝে চড়তে ও ব্যবহার করতে দিয়েছে)। আর যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হবে তা হলো- যে একে লোক দেখানো, গর্ব এবং অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য লালন পালন করেছে।অতঃপর সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে কী হবে? উত্তরে তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে আমার কাছে কোন আয়াত নাজিল হয়নি। তবে এ অতুলনীয় ও ব্যাপক অর্থবোধক আয়াতটি নাজিল হয়েছে, “যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ ভাল কাজ করবে সে তার প্রতিদান পাবে, আর যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সেও তার প্রতিফল ভোগ করবে"- (সূরা যিলযাল ৯৯: ৭-৮)।
২১৮৩
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ল (রাঃ)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২১৮৪
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
সুহায়ল ইবনু আবূ সালিহ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি عَقْصَاءُ এর স্থলে عَضْبَاءُ বলেছেন এবং ললাটে দাগ দেয়ার কথা উল্লেখ করা ছাড়া কেবল "পার্শ্ব এবং পার্শ্ব দাগ দেয়া হবে" কথাটি উল্লেখ করেছেন।
২১৮৫
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "যখন কোন ব্যক্তি তার আল্লাহর হক অথবা তার উটের সদাকা (যাকাত) আদায় করবে না ..... অবশিষ্ট বর্ণনা সুহাইল থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
২১৮৬
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু 'আবদুল্লাহ আনসারী (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: উটের যে কোন মালিক তার হক (যাকাত) আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন সে উপস্থিত হবে এবং উটগুলোও কয়েকগুণ বড় হয়ে আসবে। অতঃপর তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলা হবে। এসব পশু নিজ নিজ পা ও খুর দিয়ে তাকে পদদলিত করতে থাকবে।আর যে সব গরুর মালিক এর হক (যাকাত) আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন ঐ গরুগুলো অনেক মোটা তাজা হয়ে আসবে। তাকে এক সমতল মাঠে ফেলে এগুলো তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে এবং পা দিয়ে মাড়াবে। আর যে সব ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন এগুলো অনেক অনেকগুণ বড় দেহ নিয়ে এসে তাকে এক সমতল ময়দানে ফেলে শিং মারতে থাকবে এবং পা দিয়ে মারতে থাকবে আর এগুলোর কোন একটিও শিংহীন বা শিং ভাঙ্গা হবে না।যে সব ধনাগারের মালিক এর হক আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন তার গচ্ছিত সম্পদ একটি টাক মাথার বিষধর অজগর সাপ হয়ে মুখ হাঁ করে তার পিছু ধাওয়া করবে। মালিক পালাবার জন্য দৌড়াতে থাকবে আর পিছন থেকে ঐ সাপ তাকে ডেকে ডেকে বলতে থাকবে- তোমার গচ্ছিত সম্পদ নিয়ে যাও। কারণ এগুলো আমার প্রয়োজন নেই। অতঃপর যখন সে (মালিক) দেখবে এ সাপ তাকে ছাড়ছে না, তখন সে এর মুখে নিজের হাত ঢুকিয়ে দিবে। সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে।আবু যুবায়র বলেন, আমি উবাইদ ইবন উমায়েরকেও এই একই কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনিও উবাইদ ইবন উমায়েরের অনুরূপ কথা বললেন।আবু যুবায়র বলেন, আমি উবাইদ ইবন উমায়েরকে বলতে শুনেছি- এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! উটের হক কী?’ তিনি বললেন: পানির কাছে বসে দুধ দোহন করা, তার পানির বালতি ধার দেয়া, আর প্রয়োজনের জন্য উট চাইলে তাও ধার দেয়া, এর বীর্য (বীজ) দেয়া এবং আল্লাহর পথে এর পিঠে অপর লোকদেরকে (জিহাদের জন্য) আরোহণ করতে দেয়া।
২১৮৭
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন তাকে এক সমতল মাঠে উপুড় করে ফেলে রাখা হবে; অতঃপর খুরবিশিষ্ট জন্তু তাকে খুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিংবিশিষ্ট জন্তু তাকে শিং দিয়ে আঘাত করবে। আর সেদিন এর কোন একটি জন্তুই শিংবিহীন বা শিংভাঙ্গা হবে না।আমরা (সাহাবীগণ) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! এদের হক কী? তিনি বললেন: এদের নরগুলো (মাদীগুলোর জন্য) বীর্য গ্রহণের জন্য দেয়া, পানি পানের জন্য বালতি চাইলে দেয়া, দুধ পান করতে চাইলে পান করানো, পানি পান করার সময় দুধ দোহন করা এবং গরিব মিসকিনকে দেয়া, আর আল্লাহর পথে পিঠে অপরকে আরোহণ করানো এবং মুজাহিদ বহনের জন্য চাইলে দেয়া।আর যে সম্পদের মালিক তার মালের যাকাত আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন তার এ মাল সম্পদকে একটি টাকপড়া বিষধর অজগর সাপে রূপান্তরিত করা হবে এবং সে তার মালিকের পিছে ধাওয়া করবে। মালিক পালানোর উদ্দেশ্যে যেখানে যাবে এটাও সেখানে গিয়ে উপস্থিত হবে। তাকে বলা হবে, এ হল তোমার সে সম্পদ যাতে তুমি কৃপণতার আশ্রয় নিয়েছিলে এবং যাকাত দেয়া থেকে বিরত ছিলে। অতঃপর যখন সে দেখবে যে সাপের কবল থেকে আর পালানোর কোনো উপায় নেই তখন সে তার মুখে হাত ঢুকিয়ে দিবে এবং সাপ তার হাত উটের মত চিবাতে থাকবে।
২১৮৮
যাকাত আদায়কারীকে সন্তুষ্ট করা পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
কয়েকজন গ্রাম্য লোক এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে অভিযোগ করলেন যে, কোন কোন যাকাত আদায়কারী আমাদের কাছে গিয়ে আমাদের উপরে জুলুম করে। (ভাল ভাল জন্তু ও মালামাল যাকাত হিসেবে নিয়ে আসে অথচ শরীয়তের বিধানানুযায়ী মধ্যম ধরনের বস্তু যাকাত হিসেবে গ্রহণ করা উচিত) বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমরা যাকাত আদায়কারীদেরকে সন্তুষ্ট করে দেবে (যদিও সে কিছু বাড়াবাড়ি করে)।” জারীর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এ কথা শোনার পর যখনই কোন যাকাত আদায়কারী আমার কাছে আসত আমি তাকে সন্তুষ্ট না করে ছাড়তাম না।
২১৮৯
যাকাত আদায়কারীকে সন্তুষ্ট করা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু আবূ ইসমা’ঈল (রহঃ) তারা সকলেই মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা’ঈল (রহঃ)
এ সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
২১৯০
যারা যাকাত আদায় করবে না তাদেরকে কঠোর শাস্তি দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাবার ছায়ায় বসা ছিলেন। এমন সময় আমি গিয়ে তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখে বললেন, “কাবার প্রভুর শপথ! তারাই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত।”বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমি গিয়ে তাঁর কাছে বসলাম, কিন্তু অনতিবিলম্বে দাঁড়িয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক, সে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা কারা?”তিনি বলেনঃ “এরা হল সব ধনাঢ্য ব্যক্তি; তবে তারা নয়, যারা এদিকে ওদিকে, সামনে থেকে, পিছন থেকে, ডান দিক থেকে ও বাম দিক থেকে অকাতরে (আল্লাহর পথে) খরচ করে। তবে সংখ্যায় এরা খুব কম। আর যে সব উট, গরু ও ছাগলের মালিক এর যাকাত আদায় করবে না, কেয়ামতের দিন উট, গরু, ছাগল মোটা-তাজা অবস্থায় মালিকের নিকট আসবে এবং তাকে (মালিককে) ওদের পা ও ক্ষুর দিয়ে দলিত মথিত করবে এবং শিং দিয়ে আঘাত করবে। এর শেষ পশুটি অতিক্রম করলে প্রথমটি পুনরায় এসে ঐরূপ করতে আরম্ভ করবে। আর এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না বান্দাদের বিচার শেষ হবে।”