৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২১৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২১৭১
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা’ খেজুর বা যব দিয়ে সদাকায়ে ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে লোকেরা দুই মুদ গমের মূল্য এক সা’ খেজুর বা যবের সমান ধরে নেয়।
২১৭২
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সা’ খেজুর বা যব রমজানের পরে সদকাতুল ফিতর ফরজ করেছেন- সে (মুসলিম ব্যক্তি) স্বাধীন হোক বা ক্রীতদাস, পুরুষ বা মহিলা, ছোট বা বড় (অর্থাৎ সকলকেই ফিতরা দিতে হবে)।
২১৭৩
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
আমরা এক সা' খাদ্য অর্থাৎ গম, অথবা এক সা' যব, অথবা এক সা' খেজুর, অথবা এক সা' পনির অথবা এক সা' কিশমিশ সদাকায়ি ফিতরা হিসেবে বের করতাম।
২১৭৪
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আমরা ছোট, বড়, স্বাধীন, ক্রীতদাস- প্রত্যেকের পক্ষ থেকে এক সা’ খাদ্য (অর্থাৎ গম) বা এক সা’ পনির, বা এক সা’ যব বা এক সা’ খেজুর বা এক সা’ শুকনো আঙ্গুর ফিতরা হিসেবে বের করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন মু‘আবিয়া (রাঃ) হজ্জ বা উমরার উদ্দেশে আমাদের মাঝে গমন করলেন, তিনি লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করলেন এবং বললেনঃ আমি জানি যে, সিরিয়ার দুই মুদ্দ লাল গম এক সা’ খেজুরের সমান। সুতরাং লোকেরা তার এ অভিমত গ্রহণ করল। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি যতদিন জীবিত থাকব ততদিন পূর্বের ন্যায় যে পরিমাণে ও যে নিয়মে দিচ্ছিলাম সেভাবেই দিতে থাকব।
২১৭৫
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে বর্তমান থাকা অবস্থায় আমরা ছোট-বড়, আজাদ-গোলাম প্রত্যেকের পক্ষ থেকে তিন ধরনের জিনিস যথা- এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ পনির অথবা এক সা’ বার্লি (যব) দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম। আমরা এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছিলাম। অতঃপর মু’আবিয়া রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে রায় দিলেন যে, দুইটি মুদ গম এক সা’ খেজুরের সমান (বিনিময়ের দিক থেকে)। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের নিয়মেই ফিতরা আদায় করে আসছি।
২১৭৬
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
আমরা তিন প্রকারের জিনিস যথা— পনির, খেজুর ও বার্লি দিয়ে ফিতরা আদায় করতাম।
২১৭৭
সদাক্বাতুল ফিত্‌র বা ফিত্‌রার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
মু'আবিয়া (রাঃ) এক সা' খেজুরের পরিবর্তে অর্ধ সা' গম (ফিতরার জন্য) নির্ধারণ করলে আবু সাঈদ (রাঃ) এর বিরোধিতা করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় যেভাবে এক সা' খেজুর বা শুকনা আঙ্গুর বা যব বা পনির দিতাম এখনো আমি সে পরিমাণেই দিব।
২১৭৮
ঈদুল ফিত্‌রের সালাতের পূর্বে যাকাতুল ফিত্‌র আদায়ের নির্দেশ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু 'উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদেরকে ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
২১৭৯
ঈদুল ফিত্‌রের সালাতের পূর্বে যাকাতুল ফিত্‌র আদায়ের নির্দেশ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বেই সাদাকাতুল ফিতর পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
২১৮০
যাকাত আদায় করতে বাধাদানকারীর অপরাধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সোনা-রূপার অধিকারী যেসব লোক এ হক (যাকাত) আদায় করে না, কেয়ামতের দিন তার ঐ সোনা-রূপা দিয়ে তার জন্য আগুনের অনেক পাত তৈরী করা হবে, অতঃপর তা জাহান্নামের আগুনে গরম করা হবে। অতঃপর তা দিয়ে কপালদেশ ও পার্শ্বদেশ ও পিঠে দাগ দেয়া হবে। যখনই ঠাণ্ডা হয়ে আসবে পুনরায় তা উত্তপ্ত করা হবে। এরূপ করা হবে এমন একদিন যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। আর তার এরূপ শাস্তি লোকদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। অতঃপর তাদের কেউ পথ ধরবে জান্নাতের আর জাহান্নামের দিকে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! উটের (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি বললেন, যে উটের মালিক তার উটের হক আদায় করবে না তার উটের হকগুলোর মধ্যে পানি পানের তারিখে তার দুধ দোহন করে অন্যদেরকে দান করাও একটি হক, যখন কেয়ামতের দিন আসবে তাকে এক সমতল ময়দানে উপুড় করে ফেলা হবে। অতঃপর তার উটগুলো মোটাতাজা হয়ে আসবে। এর বাচ্চাগুলোও এদের অনুসরণ করবে। এগুলো আপন আপন খুর দ্বারা তাকে পায়ে মাড়াতে থাকবে এবং মুখ দ্বারা কামড়াতে থাকবে। এভাবে যখন একটি পশু তাকে অতিক্রম করবে অপরটি অগ্রসর হবে। সারাদিন তাকে এরূপ শাস্তি দেয়া হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে। তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো- হে আল্লাহর রসূল! গরু-ছাগলের (মালিকদের) কী অবস্থা হবে? উত্তরে তিনি বললেন, যেসব গরু ছাগলের মালিক এর হক আদায় করবে না কেয়ামতের দিন তাকে এক সমতল ভূমিতে উপুর করে ফেলে রাখা হবে। আর তার সে সব গরু ছাগল তাকে শিং দিয়ে আঘাত করতে থাকবে এবং খুর দিয়ে মাড়াতে থাকবে। সেদিন তার একটি গরু বা ছাগলের শিং বাঁকা বা শিং ভাঙ্গা থাকবে না এবং তাকে মাড়ানোর ব্যাপারে একটিও অনুপস্থিত দেখতে পাবে না। যখন এদের প্রথমটি অতিক্রম করবে দ্বিতীয়টা এর পিছে পিছে এসে যাবে। সারাদিন তাকে এভাবে পিষা হবে। এ দিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। অতঃপর বান্দাদের বিচার শেষ হবে এবং তাদের কেউ জান্নাতের দিকে আর কেউ জাহান্নামের দিকে পথ ধরবে।অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! ঘোড়ার (মালিকের) কী অবস্থা হবে? তিনি (উত্তরে) বললেন, ঘোড়া তিন প্রকারের- (ক) যে ঘোড়া তার মালিকের জন্য গুনাহের কারণ হয়, (খ) যে ঘোড়া তার মালিকের পক্ষে আবরণ স্বরূপ এবং (গ) যে ঘোড়া মালিকের জন্য সওয়াবের কারণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সে ঘোড়াই তার মালিকের জন্য বোঝা বা গুনাহের কারণ হবে, যা সে লোক দেখানোর জন্য অহংকার প্রকাশের জন্য এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে শত্রুতা করার উদ্দেশে পোষে। আর যে ব্যক্তি তার ঘোড়াকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের জন্য পোষে এবং এর পিঠে সওয়ার হওয়া এবং খাবার ও ঘাস দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর হক ভুলে না, এ ঘোড়া তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার জন্য আবরণ হবে।আর যে ব্যক্তি মুসলিমদের সাহায্যের জন্য আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া পোষে এবং কোন চরণভূমি বা ঘাসের বাগানে লালন পালন করতে দেয় তার এ ঘোড়া তার জন্য সওয়াবের কারণ হবে। তার ঘোড়া চারণভূমি অথবা বাগানে যা কিছু খাবে তার সমপরিমাণ তার জন্য সওয়াব লেখা হবে। এমনকি এর গোবর ও প্রস্রাবে সওয়াব লেখা যাবে। আর যদি তা রশি ছিঁড়ে একটি বা দু’টি মাঠেও বিচরণ করে তাহলে তার পদচিহ্ন ও গোবরের সমপরিমাণ নেকী তার জন্য লেখা হবে। এছাড়া মালিক যদি কোন নদীর তীরে নিয়ে যায়- আর সে নদী থেকে পানি পান করে অথচ তাকে পানি পান করানোর ইচ্ছা মালিকের ছিল না তথাপি পানির পরিমাণ তার ‘আমলনামায় সওয়াব লেখা হবে।অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! গাধা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, গাধা সম্পর্কে কোন আয়াত আমার কাছে অবতীর্ণ হয়নি। তবে ব্যাপক অর্থবোধক এ আয়াতটি আমার উপর অবতীর্ণ হয়েছে, যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ একটি ভাল কাজ করবে সে তার শুভ প্রতিফল পাবে আর যে এক অণু পরিমাণ মন্দ কাজ করবে সে তার মন্দফল ভোগ করবে (অর্থাৎ আলোচ্য আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, গাধার যাকাত দিলে তারও সওয়াব পাওয়া যাবে)।