৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২২২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২২১১
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ‘উরওয়াহ
উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
২২১২
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস’’ঊদ আল বাদরী (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন: মুসলিম ব্যক্তি সওয়াবের আশায় তার পরিবার-পরিজনের জন্য যা কিছু খরচ করবে তা সবই তার জন্য সদাকা অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য হবে।
২২১৩
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্ (রহঃ)
উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২২১৪
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আসমা (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার আম্মা এসেছেন। তবে তিনি আমাদের দ্বীনের অনুসারী হতে আগ্রহী নন অথবা ইসলাম গ্রহণে বিমুখ, এখন আমি কি তার সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করব? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
২২১৫
নিকটাত্মীয়, স্বামী, সন্তান ও পিতামাতার জন্য ব্যয় করার ফাযীলাত যদিও তারা মুশরিক হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকরের কন্যা আসমা (রাঃ)
আমার আম্মা আমার কাছে এসেছেন, যে সময় কুরায়শদের সাথে সন্ধি বলবৎ ছিল আর তখন তিনি মুশরিক ছিলেন। আসমা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললাম, আমার মা আমার কাছে এসেছেন আশা নিয়ে। আমি কি আমার আম্মার সাথে সদ্ব্যবহার করব? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, “তুমি তোমার আম্মার সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ কর।”
২২১৬
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করে তার জন্য সাওয়াব পৌছানো পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার মা হঠাৎ করে মারা গেছেন এবং কোন ওসিয়ত করতে পারেননি। আমার মনে হয়, তিনি যদি কথা বলতে পারতেন তাহলে ওসিয়ত করে যেতেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সদকা করি তাহলে কি তিনি সওয়াব পাবেন? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ।
২২১৭
মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান করে তার জন্য সাওয়াব পৌছানো পরিচ্ছেদ নাই
যুহায়র ইবনু হারব, আবূ কুরায়ব, ‘আলী ইবনু হুজ্‌র ও হাকাম ইবনু মূসা (রহঃ)
বর্ণনাকারী হিশাম এ সানাদের মাধ্যমে উপরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর আবু উসামার হাদিসে “তিনি ওয়াসিয়্যাত করেননি” বলা হয়েছে যেমনটি ইবনু বিশর এর বর্ণনায় রয়েছে। কিন্তু বাকী রাবীগণ এ কথা বর্ণনা করেননি।
২২১৮
সকল প্রকার সৎ কাজই সদাক্বাহ্ পরিচ্ছেদ নাই
হুজায়ফাহ্‌ (রাঃ)
তবে কুতায়বা (রহঃ)-এর হাদীসে রয়েছে যে, “তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন।” আর ইবনু শাইবা (রহঃ)-এর হাদীসে আছে যে, নবী (ﷺ) বলেন, “প্রতিটি ভাল কাজই সদাকা অর্থাৎ দান হিসেবে গণ্য।”
২২১৯
সকল প্রকার সৎ কাজই সদাক্বাহ্ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবী তাঁর কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! ধন সম্পদের মালিকরা তো সব সওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে সালাত আদায় করি, তাঁরাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম পালন করি, তাঁরাও সেভাবে সিয়াম পালন করে। কিন্তু তাঁরা তাঁদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সওয়াব লাভ করছে, অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না।তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ তা’আলা কি তোমাদেরকে এমন কিছু দান করেননি যা সদাকা করে তোমরা সওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) একটি সদাকা, প্রত্যেক তাকবীর (আল্লাহু আকবার) একটি সদাকা, প্রত্যেক তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ) বলা একটি সদাকা, প্রত্যেক ‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ বলা একটি সদাকা, প্রত্যেক ভাল কাজের আদেশ দেয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেয়া একটি সদাকা। এমনকি তোমাদের শরীরের অংশে সদাকা রয়েছে। অর্থাৎ আপন স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও একটি সদাকা।সাহাবীগণ বললেন, ‘‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদের কেউ তার কাম প্রবৃত্তিকে চরিতার্থ করবে বৈধ পথে আর এতেও কি তার সওয়াব হবে?’’তিনি বললেন, ‘‘তোমরা বল তো, যদি তোমাদের কেউ হারাম পথে নিজের চাহিদা মেটাতে বা যিনা করত তাহলে কি তার গুনাহ হত না? অনুরূপভাবে যখন সে হালাল বা বৈধ পথে কামাচার করবে তাতে তার সওয়াব হবে।’’
২২২০
সকল প্রকার সৎ কাজই সদাক্বাহ্ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক আদম সন্তানকেই ৩৬০টি গ্রন্থি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সংখ্যা পরিমাণ ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে, ‘‘আলহামদু লিল্লাহ’’ বলবে, ‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’’ বলবে, ‘‘সুবহানাল্লাহ’’ বলবে, ‘‘আস্তাগফিরুল্লাহ’’ বলবে, মানুষের চলার পথ থেকে একটি পাথর বা একটি কাঁটা বা একটি হাড় সরাবে, সৎ কাজের আদেশ দিবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, সে কেয়ামতের দিন এমনভাবে চলাফেরা করবে যে, সে নিজেকে ৩৬০ (গ্রন্থি) সংখ্যা পরিমাণ জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে অর্থাৎ বেঁচে থাকবে। আবূ তাওবাহ তাঁর বর্ণনায় এ কথাও উল্লেখ করেছেন যে, সে এ অবস্থায় সন্ধ্যা করবে।