৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২১৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২১৪১
কবরের উপর বসা এবং সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবু মারসাদ আল গানাবী (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা কবরের দিকে সালাত আদায় করো না এবং কবরের উপর বসো না।
২১৪২
মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আব্বাস ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্‌ যুবায়র (রাঃ)
আয়িশা (রাঃ) সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস-এর লাশ মসজিদে নিয়ে আসতে ও মসজিদের ভিতরে জানাজার সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিলেন। উপস্থিত লোকেরা তাঁর আদেশ পালনে অসম্মতি প্রকাশ করল। তিনি বললেন, লোকেরা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহাইল ইবনু বাইযা-এর জানাজার সালাত মসজিদেই আদায় করেছিলেন।
২১৪৩
মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
যখন সা‘দ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) ইন্তিকাল করলেন, নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণ তাঁর লাশ মসজিদে নিয়ে আসার জন্য বলে পাঠালেন যাতে তাঁরাও তাঁর জানাজা আদায় করতে পারেন। উপস্থিত লোকেরা তাই করলো। তাঁকে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ঘরের সামনে রাখা হল এবং তাঁরা তাঁর জানাজার সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তাঁকে বাবুল জানায়িয (জানাজা বের করার দরজা) দিয়ে যা মাকায়ীদের দিকে ছিল, বের করা হল।লোকেরা এ খবর জানতে পেয়ে বলল, কি ব্যাপার! জানাজা মসজিদে ঢুকানো হয়েছে? আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি বললেন, লোকেরা কেন এত শীঘ্র সমালোচনায় প্রবৃত্ত হল, যে সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নাই? মসজিদে জানাজা নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে লোকেরা সমালোচনা করল, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সুহাইল ইবনু বাইযা-এর সালাতে জানাজা মসজিদের ভিতরেই আদায় করেছেন। ইমাম মুসলিম বলেন, সুহাইল বিন ওয়াদা বাইযা-এর পুত্র। তার মায়ের নাম বাইযা।
২১৪৪
মসজিদে জানাযার সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সালামাহ্ ইবনু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
যখন সা’দ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) ইন্তিকাল করলেন, আয়িশা (রাঃ) বললেন, তোমরা তাঁর লাশ নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করাও। আমি তাঁর জানাজার সালাত আদায় করব। তখন লোকেরা অস্বীকৃতি জানালে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বায়জার দুই ছেলে সুহাইল ও তার ভাইয়ের (সাহলের) জানাজার সালাত মসজিদেই আদায় করেছেন।
২১৪৫
কবরে প্রবেশের সময় কি বলবে এবং কবরবাসীর জন্য দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রা্যিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অভ্যাস ছিল, যেদিন তাঁর কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাত্রিযাপনের পালা আসত, তিনি শেষ রাতে উঠে (জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে) চলে যেতেন এবং এভাবে দোয়া করতেন : “আসসালামু ‘আলায়কুম দারা কওমিন মুমিনীনা ওয়া আতা-কুম মা-তু‘আদূনা গদাঁ মুআজ্‌জালূন ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু লা-হিকূন, আল্লাহুম্মাগফিরলি আহলি বাকীইল গারক্বদ” (অর্থাৎ- তোমাদের উপর সালাম ও শান্তি বর্ষিত হোক, ওহে ইমানদার কবরবাসীগণ! তোমাদের কাছে পরকালে নির্ধারিত যেসব বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা তোমাদের নিকট এসে গেছে। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। হে আল্লাহ! বাকী গারক্বদ কবরবাসীদেরকে ক্ষমা করে দাও।)। কিন্তু কুতাইবা-র বর্ণনায় “তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে” কথাটি নাই।
২১৪৬
কবরে প্রবেশের সময় কি বলবে এবং কবরবাসীর জন্য দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ক্বায়স (রহঃ)
আমি আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেন, আমি কি তোমাদেরকে নবী (ﷺ) থেকে ও আমার তরফ থেকে হাদিস বর্ণনা করে শোনাব না? আমরা বললাম, অবশ্যই! ইমাম মুসলিম (রহঃ) হাজ্জাজ আল আ‘ওয়ার (রহঃ) থেকে শুনেছেন ..... জনৈক কুরায়শী আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে মুহাম্মাদ ইবনু কায়স ইবনু মাখরামা ইবনুল মুত্তালিব (রহঃ) একদিন আমাকে বলেন, আমি কি তোমাদেরকে আমার পক্ষ থেকে ও আমার আম্মাজান থেকে হাদিস বর্ণনা করে শুনাব? রাবী আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ধারণা করলাম তিনি তাঁর জননী মাকে বুঝাচ্ছেন। এরপর তিনি বললেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আমি কি তোমাদের আমার পক্ষ থেকে ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদিস বর্ণনা করে শুনাব? আমরা বললাম, হ্যাঁ অবশ্যই।যখন ঐ রাত আসত যে রাতে নবী (ﷺ) আমার কাছে থাকতেন। তিনি এসে তাঁর চাদর রেখে দিতেন, জুতা খুলে পায়ের কাছে রাখতেন। পরে নিজ তহবন্দের (লুঙ্গি) একদিক বিছানায় বিছিয়ে কাত হয়ে শুয়ে পড়তেন। অতঃপর মাত্র কিছু সময় যতক্ষণে তিনি ধারণা করতেন যে, আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, বিশ্রাম গ্রহণ করতেন। অতঃপর উঠে ধীরে ধীরে নিজ চাদর নিতেন এবং জুতা পরিধান করতেন। পরে আস্তে আস্তে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়তেন। অতঃপর দরজাটি আস্তে আস্তে বন্ধ করতেন।একদিন আমি আমার জামা মাথার উপর স্থাপন করে তা দিয়ে মাথাটা ঢেকে লুঙ্গি পরিধান করে, অতঃপর তাঁর পেছনে রওনা হলাম। যেতে যেতে তিনি বাকী‘তে (কবরস্থানে) পৌঁছলেন। তথায় তিনি দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর তিনি তিনবার হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন। এবার গৃহের দিকে ফিরে রওয়ানা করলে আমিও রওয়ানা হলাম। তিনি (ﷺ) দ্রুত রওয়ানা করলে আমিও দ্রুত চলতে লাগলাম। তাঁকে আরও দ্রুত পদক্ষেপে এগিয়ে আসতে দেখে আমি আরও দ্রুত চলতে লাগলাম। এরপর আমরা দৌড়াতে আরম্ভ করলে আমি দৌড়ে তাঁর আগেই ঘরে ঢুকে পড়লাম এবং বিলম্ব না করেই শুয়ে পড়লাম। একটু পরে তিনি গৃহে প্রবেশ করে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আয়িশা! তোমার কি হল? কেন হাঁপিয়ে পড়েছ?আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জবাব দিলাম না, তেমন কিছু না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হয় তুমি নিজে আমাকে ব্যাপারটা খুলে বলবে নতুবা মহান আল্লাহ আমাকে তা জানিয়ে দিবেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক! এরপর তাঁকে ব্যাপারটা জানিয়ে দিলাম। তিনি বললেন, তুমিই সেই কাল ছায়াটি যা আমি আমার সামনে দেখছিলাম। আমি বললাম: জি হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) আমার বুকে একটা থাপ্পড় মারলেন যাতে আমি ব্যথা পেলাম। অতঃপর বললেন, তুমি কি ধারণা করেছ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার ওপর অবিচার করবেন?আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখনই মানুষ কোন কিছু গোপন করে, আল্লাহ তা অবশ্যই জানেন। হ্যাঁ অবশ্যই জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যখন তুমি আমাকে দেখেছ এ সময় আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসেছিলেন এবং আমাকে ডাকছিলেন। অবশ্য তা তোমার কাছে গোপন রাখা হয়েছে। আর আমিও তা গোপন রাখা বাঞ্ছনীয় মনে করে তোমার নিকট গোপন রেখেছি। যেহেতু তুমি তোমার কাপড় রেখে দিয়েছ, তাই তোমার কাছে তিনি আসেননি। আমি ভেবেছিলাম তুমি ঘুমিয়ে পড়েছ। তাই তোমাকে জাগানো সমীচীন মনে করিনি। আর আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, তুমি ভীত বিহ্বল হয়ে পড়বে।এরপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনার প্রভু আপনার প্রতি আদেশ করেছেন, বাকী‘র কবরবাসীদের নিকট গিয়ে তাদের জন্য দোয়া ইসতিগফার করতে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাদের জন্য কীভাবে দোয়া করব? তিনি বললেনঃ তুমি বল, “এ বাসস্থানের অধিবাসী ঈমানদার মুসলিমদের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। আমাদের মধ্য থেকে যারা আগে বিদায় গ্রহণ করেছে আর যারা পিছনে বিদায় নিয়েছে সবার প্রতি আল্লাহ দয়া করুন। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব।
২১৪৭
কবরে প্রবেশের সময় কি বলবে এবং কবরবাসীর জন্য দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
সুলায়মান ইবনু বুরায়দাহ্ (রহঃ) তাঁর পিতা [বুরায়দাহ্ ইবনু হুসায়ব ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
তাঁরা যখন কবরস্থানে যেতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদেরকে দোয়া শিখিয়ে দিতেন। অতঃপর তাঁদের মধ্যে কোন ব্যাক্তি আবু বকর-এর বর্ণনানুযায়ী বলত “আসসালামু ‘আলা আহলিদ দিয়ার” (অর্থাৎ- কবরবাসীদের প্রতি আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক)।আর যুহাইর-এর বর্ণনায় আছে: “আসসালামু ‘আলাইকুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মু’মীনিনা ওয়াল মুসলিমীনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু লালাহিকূনা আসআলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল ‘আফিয়াহ” (অর্থাৎ- হে কবরবাসী ঈমানদার মুসলিমগণ! তোমাদের প্রতি সালাম। আল্লাহ চাহে তো আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। আমি আমাদের ও তোমাদের জন্য আল্লাহর নিকট নিরাপত্তার আবেদন জানাচ্ছি)।
২১৪৮
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাতার কবর যিয়ারাতের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাওয়া সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “আমি আমার রবের নিকট আমার মায়ের জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করার অনুমতি চাইলে আমার রব আমাকে অনুমতি দেননি। আর তাঁর কবর জিয়ারত করার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন।”
২১৪৯
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাতার কবর যিয়ারাতের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাওয়া সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাঁর মায়ের কবর যিয়ারত করতে গেলেন। তিনি (ﷺ) কাঁদলেন এবং আশেপাশের সবাইকে কাঁদালেন। তিনি (ﷺ) বললেন, “আমি আমার রবের নিকট মায়ের জন্য ইস্তেগফারের অনুমতি চাইলাম। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হল না। আমি তাঁর কবর যিয়ারত করার জন্য অনুমতি চাইলে আমাকে অনুমতি দেয়া হলো। অতএব তোমরা কবর যিয়ারত কর। কেননা কবর যিয়ারত তোমাদেরকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”
২১৫০
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর মাতার কবর যিয়ারাতের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাওয়া সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু বুয়ায়দাহ্ (রহঃ) তার পিতা
তিনি (বুরাইদা ইবন হুসাইব ইবন আব্দুল্লাহ (রাঃ)) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি তোমাদেরকে কবর জিয়ারত করতে নিষেধ করতাম। (এখন অনুমতি দিচ্ছি) তোমরা কবর জিয়ারত করতে পার। আমি ইতিপূর্বে তিনদিনের বেশি কুরবানির গোশত রাখার ব্যাপারে তোমাদেরকে নিষেধ করতাম। এখন তোমরা যতদিন ইচ্ছা রাখতে পার। এছাড়া আমি তোমাদেরকে পানির পাত্রে নাবীয তৈরি করতে নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা যে কোনো পানির পাত্রে তা তৈরি করতে পার। তবে নেশার বস্তু (মাদকদ্রব্য) পান করবে না।