৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২০৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২০৮১
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করে এবং লাশের অনুসরণ করে না তার জন্য রয়েছে এক কিরাত সওয়াব। আর যে ব্যক্তি লাশের অনুসরণ করে তার জন্য রয়েছে দুই কিরাত। কেউ জিজ্ঞেস করল “দুই কিরাত” বলতে কতটুকু বোঝানো হয়েছে? তিনি বললেন, এর ছোটটি উহুদ পাহাড় সমতুল্য।
২০৮২
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করে তার জন্য এক কীরাত সওয়াব, আর যে ব্যক্তি মৃতকে কবরে রাখা পর্যন্ত এর অনুসরণ করে, তার জন্য রয়েছে দুই কীরাত সওয়াব। আবু হাজিম বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, কীরাতের পরিমাণ কতটুকু? তিনি বললেন, উহুদ পাহাড়ের সমতুল্য।
২০৮৩
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি জানাজার অনুসরণ করে তার জন্য রয়েছে এক ক্বীরাত সওয়াব। এটা শুনে ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) আমাদের কাছে অতিরঞ্জিত করেছেন। এরপর তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে তাঁকে এর সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। আয়িশা (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর কথাটি সত্যায়িত করলেন। এরপর ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আমরা তো বহু সংখ্যক কীরাত থেকে বঞ্চিত হলাম।
২০৮৪
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
২০৮৪
তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর নিকট বসা ছিলেন। এমন সময় খাব্বাব (রাঃ) (মাকসূরাহ ওয়ালা) এসে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, হে আবদুল্লাহ ইবন উমর! আপনি কি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর কথা শুনছেন না? তিনি বললেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি জানাজার সাথে ঘর থেকে বের হয় এবং জানাজার সালাত আদায় করে, অতঃপর দাফন করা পর্যন্ত জানাজার সাথে থাকে, তাকে দুইটি কিরাত সওয়াব দান করা হবে। প্রতিটি কিরাত উহুদ পাহাড় সমতুল্য সওয়াব লাভ করবে।ইবন উমর (রাঃ) এ কথা যাচাই করার জন্য খাব্বাবকে আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট পাঠিয়ে দিলেন। খাব্বাব (রাঃ) চলে গেলে ইবন উমর (রাঃ) মসজিদের কাঁকর থেকে এক মুষ্টি কাঁকর হাতে নিলেন এবং খাব্বাব ফিরে না আসা পর্যন্ত তা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। খাব্বাব ফিরে এসে বললেন, আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, আবূ হুরায়রা (রাঃ) ঠিকই বলেছেন। ইবন উমর (রাঃ) তাঁর কাঁকর জমিনের উপর ছুঁড়ে মেরে বললেন, আমরা অবশ্যই বহু সংখ্যক কিরাত বরবাদ করে দিয়েছি।
২০৮৫
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গোলাম সাওবান (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি জানাজার সালাত আদায় করে তাকে এক কিরাত সওয়াব দান করা হয়। আর সে যদি দাফন কার্যেও শরীক থাকে, তবে দুই কিরাত সওয়াব লাভ করবে। এক কিরাত উহুদ সমতুল্য।
২০৮৬
মাইয়্যিতের জানাযার সালাত আদায় করা এবং (কবরস্থানে নেয়ার সময়) তার পিছে পিছে যাওয়া পরিচ্ছেদ নাই
(হাম্মাদ) ইবনু বাশ্শার, ইবনুল মুসান্না, যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) ..... সকলে ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। সা‘ঈদ ও হিশাম-এর বর্ণিত হাদীসে আছে, নবী (ﷺ)-কে কীরাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, তা উহুদ পাহাড় সমতুল্য।
২০৮৭
যার ওপর একশ’ জনের (মুসলিমের) জানাযাহ্‌ পড়বে তার জন্য এ সুপারিশ করা হবে পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: কোন মৃত ব্যক্তির ওপর যখন একদল মুসলিম যাদের সংখ্যা একশ’ হবে, জানাজার সালাত আদায় করে এবং সবাই তার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে, তবে তার জন্য এ সুপারিশ কবুল করা হবে। তিনি (সাল্লাম ইবনু আবূ মুতী’) বলেন, আমি এ হাদীসটি শু‘আয়ব ইবনু হাবহাব-এর কাছে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, আমাকে এ হাদীস আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
২০৮৮
যার ওপর চল্লিশ জন (মুসলিম) জানাযাহ্‌ পড়বে তার জন্য এ সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
‘কুদাইদ’ অথবা ‘উসফান’ নামক স্থানে তাঁর একটি পুত্র সন্তান মারা গেল। তিনি আমাকে বললেন, “হে কুরাইব! দেখ কিছু লোক একত্রিত হয়েছে কিনা?” আমি বের হয়ে দেখলাম কিছু লোক একত্রিত হয়েছে। আমি তাঁকে খবর দিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “বল তাদের সংখ্যা কি চল্লিশ হবে?” বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তাহলে লাশ বের করে নাও। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: কোন মুসলিম মারা গেলে, তার জানাজায় যদি এমন চল্লিশজন দাঁড়িয়ে যায় যারা আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করে না তবে মহান আল্লাহ তার অনুকূলে তাদের প্রার্থনা কবুল করেন।”
২০৮৯
যে মাইয়্যিতের ভাল-মন্দ বর্ণনা করা হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একটি জানাজা বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। লোকেরা প্রশংসা করল। নবী (ﷺ) বললেন, ‘ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে।’ (আরেকবার) একটা জানাজা বয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কিন্তু লোকেরা তার দুর্নাম করল। নবী (ﷺ) তার সম্পর্কে বললেন, ‘ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে’ (তিনবার)।তখন উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর আমার মা-বাবা উৎসর্গ হোক! একটা জানাজা অতিক্রম করলে তার প্রতি ভাল মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে বললেন! আর একটা জানাজা অতিক্রমকালে তার প্রতি খারাপ মন্তব্য করা হলে আপনি ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে, ওয়াজিব হয়েছে-বললেন!’রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেনঃ ‘তোমরা যার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য করেছ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর তোমরা যার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করেছ তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী, তোমরা জমিনের বুকে আল্লাহর সাক্ষী।’
২০৯০
যে মাইয়্যিতের ভাল-মন্দ বর্ণনা করা হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর কাছ দিয়ে একটি জানাজা অতিক্রম করল। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে আবদুল আজিজ-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। তবে আবদুল আজিজ-এর হাদীসটি পূর্ণাঙ্গ।