৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২০৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২০৪১
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরের কান্নাকাটির দরুন আজাব দেয়া হয়।
২০৪২
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
আয়েশা (রাঃ)-এর কাছে ইবনু উমর-এর বক্তব্য “মৃত ব্যক্তিকে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন আজাব দেয়া হয়” উল্লেখ করা হলো। তিনি বললেন, আল্লাহ আবু আবদুর রহমান (ইবনু উমর)-এর প্রতি রহমত করুন। তিনি একটা কথা শুনেছেন, তবে স্মরণ রাখতে পারেননি। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দিয়ে এক ইহুদীর জানাজা যাচ্ছিল। তখন তার আত্মীয় স্বজনরা কাঁদছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কাঁদছ? অথচ তাকে এজন্য আজাব দেয়া হচ্ছে।
২০৪৩
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম তার পিতা [‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রহঃ)]
আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট উল্লেখ করা হল, ইবনু উমর (রাঃ) সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, “মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে তার স্বজনদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।” তিনি বললেন, ইবনু উমর (রাঃ) ভুলে গেছেন। আসলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কথা বলেছেন তা হচ্ছে এই: মৃত ব্যক্তিকে তার পাপের দরুন কবরে শাস্তি দেয়া হয়। আর তার পরিবার-পরিজনেরা তার জন্য কান্নাকাটি করছে। আর এটা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বদরের একটা কূপের পাশে দাঁড়িয়ে যাতে বদরের দিন নিহত কাফিরদের লাশ নিক্ষিপ্ত হয়েছিল- তাদেরকে সম্বোধন করে যেরূপ বলেছিলেন। তিনি তাদের সম্পর্কে বলেছিলেন, তারা অবশ্যই আমি যা কিছু বলছি তা শুনতে পাচ্ছে। অথচ তিনি (ইবনু উমর) এ কথার অর্থ ভুল বুঝেছেন। তিনি (ﷺ) যা বলেছেন তার সঠিক তাৎপর্য হচ্ছে এইঃ আমি যা কিছু তাদেরকে তাদের জীবদ্দশায় বলেছিলাম, তারা এখন ভালভাবে তা অনুধাবন করেছে যে, তা সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত ও সত্য।অতঃপর তিনি (আয়েশা) এই দুইটি আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “আপনি অবশ্যই মৃত ব্যক্তিদেরকে শুনাতে সক্ষম নন”- (সূরা নামল ২৭:৮০; সূরা রুম ৩০:৫২) এবং “আপনি কবরের অধিবাসীদেরকেও শুনাতে সক্ষম নন”- (সূরা ফাতির ৩৫:২২)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই কথাটা তখন বলেছিলেন যখন তারা জাহান্নামে নিজ ঠিকানায় পৌছে গেছে।
২০৪৪
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)
একই সূত্রে আবু উসামার হাদিসের সমর্থনে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু উসামা এর বর্ণিত হাদিসই পূর্ণাঙ্গ।
২০৪৫
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আমরাহ্ বিনতু ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
আয়েশা (রাঃ) এর কাছে শুনেছেন যখন তাঁর কাছে উল্লেখ করা হল যে, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার বংশধরদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।আয়েশা (রাঃ) বললেন, আল্লাহ আবু আব্দুর রহমানকে (ইবন উমর) ক্ষমা করুন, কথাটা ঠিক নয়। তবে তিনি মিথ্যা বলেননি। বরং তিনি (প্রকৃত কথাটা) ভুলে গেছেন অথবা ভুল বুঝেছেন। প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছেঃ একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ইয়াহুদী নারীর কবরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন তার জন্য কান্নাকাটি করা হচ্ছে। তিনি বললেন, তারা এর জন্য কান্নাকাটি করছে আর এ নারীকে তার কবরের শাস্তি দেয়া হচ্ছে।
২০৪৬
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আলী ইবনু রবী‘আহ্ (রহঃ)
সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির প্রতি বিলাপ করা হয়েছে, সে হচ্ছে কুফা নগরীর করজাহ ইবনে কা’ব। মুগিরা ইবনে শু’বা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: যার জন্য বিলাপ করে কান্না হয়, কেয়ামতের দিন তাকে এর জন্য ‘আযাব দেয়া হবে।
২০৪৭
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২০৪৮
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
মুগীরাহ্ ইবনু শু‘বাহ্ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
২০৪৯
বিলাপ করে কান্নাকাটি করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মালিক আল আশ‘আরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে জাহেলিয়াতের চারটি কু-প্রথা রয়ে গেছে যা লোকেরা পরিত্যাগ করতে চাইবে না।(১) বংশের গৌরব,(২) অন্যকে বংশের খোঁটা দেয়া,(৩) নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করা,(৪) মৃতের জন্য বিলাপ করে কান্নাকাটি করা।তিনি আরও বলেন, বিলাপকারী যদি মৃত্যুর পূর্বে তওবা না করে তাহলে কেয়ামতের দিন তাকে এভাবে উঠানো হবে যে, তার গায়ে আলকাতরার (চাদর) ও খসখসে চামড়ার ওড়না থাকবে।
২০৫০
বিলাপ করে কান্নাকাটি করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আমরাহ্ (রহঃ)
তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যায়দ ইবন হারিসা (রাঃ), জাফর ইবন আবু তালিব (রাঃ) ও আবদুল্লাহ ইবন রওয়াহা (রাঃ)-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিমর্ষচিত্তে বসে পড়লেন। তাঁর চেহারায় শোকের ছাপ ফুটে উঠল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমি দরজার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাদের লাশ দেখছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! জাফর-এর স্ত্রীগণ অথবা তার পরিবারের মহিলারা কান্নাকাটি করছে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে গিয়ে তাঁদেরকে কাঁদতে নিষেধ করার জন্য আদেশ করলেন। লোকটি গিয়ে ফিরে এসে জানাল যে, তারা তার কথা শুনছে না। তখন দ্বিতীয়বার তাকে আদেশ করলেন যেন গিয়ে তাদেরকে নিষেধ করে। লোকটি গিয়ে আবার ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! তারা আমাদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমার মনে হয় এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এবার গিয়ে তাদের মুখে কিছু মাটি ঢেলে দাও। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, আল্লাহ তোমার নাককে ভূলুণ্ঠিত করুক। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে যে আদেশ করেছেন, তা তুমি পালন করছ না বা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিরক্ত করা থেকেও রেহাই দিচ্ছ না।