৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২০৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২০৩১
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ক্বায়স (রাঃ)
যখন উমর (রাঃ) গুরুতরভাবে আহত হন, সুহাইব (রাঃ) আক্ষেপ করে বলতে লাগলেন, আহ! ভাই উমর! উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন, হে সুহাইব! তোমার কি মনে নেই, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেওয়া হয়?
২০৩২
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
যখন উমর (রাঃ) গুরুতরভাবে আহত হন, সুহাইব (রাঃ) তাঁর গৃহ থেকে রওয়ানা হয়ে উমর-এর কাছে এলেন এবং তার সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। উমর (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কেন কাঁদছ, আমার জন্য কাঁদছ?” তিনি বললেন, “কসম আল্লাহর! হে আমীরুল মু’মিনীন! হ্যাঁ, আপনার জন্যই কাঁদছি।” উমর (রাঃ) বললেন, “আল্লাহর কসম! তুমি তো অবশ্যই জান রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যার জন্য কান্নাকাটি করা হবে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।” তিনি [আবু মূসা (রাঃ)] বলেন, এরপর আমি এ কথাটি মূসা ইবনু তালহার কাছে বললাম। তিনি বললেন, আয়েশা (রাঃ) বলতেন, যাদের ‘আযাবের কথা বলা হয়েছে, তারা ছিল ইয়াহূদী সম্প্রদায়।
২০৩৩
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) যখন আহত হলেন, হাফসা (রাঃ) সশব্দে কাঁদতে লাগলেন। তখন উমর (রাঃ) বললেন, ওগো হাফসা! তুমি কি শোননি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার জন্য উচ্চৈঃস্বরে ক্রন্দন করা হয় তাকে শাস্তি দেয়া হবে? তাঁর প্রতি সুহায়ব (রাঃ)-ও কাঁদতে থাকলে উমর (রাঃ) তাকেও বললেন, হে সুহায়ব! তুমি কি জান না যার জন্য চিৎকার করে কান্নাকাটি করা হয় তাকে ‘আযাব দেয়া হবে?
২০৩৪
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ্‌ (রাঃ)
আমি ইবনু উমর (রাঃ)-এর পাশে বসা ছিলাম এবং আমরা উসমানের কন্যা উম্মু আবান-এর জানাজা পড়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আর তাঁর (ইবনু উমর) নিকটেই ছিলেন আমর ইবনু উসমান (রাঃ)।এমন সময় ইবনু আব্বাস (রাঃ) আসলেন, তাঁকে একজন পথ নির্দেশনাকারী হাতে ধরে নিয়ে আসছে। আমার ধারণা সে তাঁকে ইবনু উমরের উপস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে। তিনি এসে আমার পাশে বসলেন। আমি উভয়ের মাঝখানে ছিলাম। হঠাৎ ঘর থেকে একটা (কান্নার) আওয়াজ শোনা গেল।তখন ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, মনে হয় তিনি আমরের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন যেন তিনি উঠে তাদেরকে (কান্না থেকে) বিরত রাখেন-আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) এ কথাটা সাধারণভাবে বলেই ছেড়ে দিলেন।
২০৩৫
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমরা একবার আমীরুল মু’মিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা 'বাইদা' নামক স্থানে পৌঁছলাম, হঠাৎ জনৈক ব্যক্তিকে একটা গাছের ছায়ায় অবস্থানরত দেখলাম। উমর (রাঃ) আমাকে বললেন, এগিয়ে যাও তো! গিয়ে দেখ আমাকে জানাও ঐ ব্যক্তি কে? আমি গিয়ে দেখলাম তিনি সুহাইব (রাঃ)।আমি ফিরে এসে বললাম, আপনি আমাকে আদেশ করেছেন, ঐ ব্যক্তির পরিচয় জেনে আপনাকে জানাতে। তিনি হচ্ছেন, সুহাইব (রাঃ)। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন, তাঁকে আমাদের সাথে মিলিত হতে বল। আমি বললাম, তার সাথে তার পরিবারবর্গ রয়েছে। তিনি বললেন, তার সাথে পরিবারবর্গ থাকলে তাতে কি আছে। কখনও আইয়ুব বলেছেন- “তাকে বল- সে যেন আমাদের নিকট আসে।”এরপর যখন আমরা মদীনায় পৌঁছলাম, অল্প সময়ের মধ্যেই আমীরুল মু’মিনীন উমর (রাঃ) আহত হলেন। সুহাইব (রাঃ) তাঁকে দেখতে এসে দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, আহ! ভাই উমর! আহ! সঙ্গী উমর! উমর (রাঃ) শুনে বললেন, সুহাইব! তুমি কি অবহিত নও, অথবা শোননি- (আইয়ুব) বলেছেনঃ অথবা বলেছেন, “তুমি কি জান না, তুমি কি শোন না।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি এ কথাটা সাধারণভাবে বলেছিলেন। কিন্তু উমর (রাঃ) “কোন কোন লোকের” শব্দ উল্লেখ করেছেন।
২০৩৬
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
অতঃপর আমি উঠে গিয়ে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে ইবন উমর (রাঃ)-এর উক্তি সম্পর্কে জানালে তিনি বললেনঃ না, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও এরূপ বলেননি যে, মৃত ব্যক্তিকে কারো কান্নার দরুন আজাব দেয়া হবে বরং তিনি বলেছেন, কাফির ব্যক্তির আজাব আল্লাহ তা'আলা তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আরও বাড়িয়ে দেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহই হাসান এবং কাঁদান। “আর কোন বহনকারীই অন্যের বোঝা বহন করবে না”- (সূরা আল ইসরা/ইসরাইল ১৭:১৫)।আইয়ূব (রহঃ) বলেন, ইবন আবূ মুলাইকা বলেছেন, আমাকে কাসিম ইবন মুহাম্মাদ জানিয়েছেন, তিনি বলেন, আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট যখন উমর (রাঃ) ও ইবন উমর-এর বক্তব্য পৌঁছল তখন তিনি বললেন, তোমরা আমাকে এমন দুই ব্যক্তির কথা শুনাচ্ছ, যারা মিথ্যাবাদী নন আর তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্নও করা যায় না। তবে কখনও শুনতে ভুল হয়ে যেতে পারে।
২০৩৭
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ মুলায়কাহ্‌ (রহঃ)
মক্কায় উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর এক কন্যা ইন্তিকাল করলে আমরা তার জানাজায় হাজির হওয়ার জন্য আসলাম। জানাজায় ইবন উমর (রাঃ) ও ইবন আব্বাস (রাঃ) উপস্থিত হলেন। বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ বলেন, আমি উভয়ের মাঝখানে বসে ছিলাম। অথবা তিনি বলেন, প্রথমে আমি একজনের পাশে বসে ছিলাম। অতঃপর অন্যজন এসে আমার পাশে বসে গেলেন।আবদুল্লাহ ইবন উমর তার সামনে বসা আমর ইবন উসমানকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা কান্নাকাটি করা থেকে কেন বারণ করছ না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হয়।
২০৩৮
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
উমর (রাঃ) তো কোন কোন লোকের কথা বলতেন। অতঃপর তিনি হাদিস বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি একবার উমর (রাঃ)-এর সাথে মাক্কা থেকে রওয়ানা হয়ে “বায়দা” নামক সমতল ভূমিতে পৌঁছলাম। দেখলাম, একটা গাছের ছায়ায় একদল আরোহী। তাদেরকে দেখে তিনি [উমর (রাঃ)] বললেন, গিয়ে দেখ তো, এরা কারা? আমি গিয়ে দেখলাম তথায় সুহায়ব (রাঃ)।বর্ণনাকারী বলেন, আমি এসে তাঁকে (উমর) খবর দিলাম। তিনি বললেন, তাঁকে আমার কাছে ডেকে আন। আদেশ পেয়ে আমি সুহায়ব (রাঃ)-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, চলুন, আমীরুল মু’মিনীন-এর সাথে সাক্ষাৎ করুন।এরপর যখন উমর (রাঃ) আহত হন, সুহায়ব (রাঃ) তাঁকে দেখতে এসে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আহ! ভাই উমর! আহ! সঙ্গী উমর! উমর (রাঃ) বললেন, হে সুহায়ব! আমার জন্য কাঁদছ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটির দরুন আজাব দেওয়া হয়।
২০৩৯
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
উমর (রাঃ) ইন্তিকাল করলে আমি অত্র হাদিসটি আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ব্যক্ত করলাম। তিনি বললেন, ‘উমর (রাঃ)-কে আল্লাহ রহমত করুন! কখনও না, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও এমন হাদিস ব্যক্ত করেননি যে, ঈমানদার ব্যক্তিকে কারো কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেয়া হবে। বরং তিনি বলেছেন: কাফির ব্যক্তির পরিবার-পরিজনের কান্নাকাটির দরুন আল্লাহ তা‘আলা তার আজাবকে আরো বাড়িয়ে দিবেন। এছাড়া আয়েশা (রাঃ) আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য আল্লাহর কুরআনই যথেষ্ট। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, “কোন ব্যক্তিই অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না।” বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, “এবং আল্লাহই হাসান, আল্লাহই কাঁদান।” ইবনু আবূ মুলাইকা বলেন, আল্লাহর কসম! ইবনু উমর (রাঃ)-এর ওপর আর কোন কথাই বলেননি।
২০৪০
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আবূ মুলায়কাহ্‌ (রহঃ)
আমরা উম্মু আবান বিনত উসমান (রাঃ)-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। অবশিষ্ট বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে তিনি এ হাদীস ইবনু উমর (রাঃ)-এর সূত্রে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু আইয়ূব ও ইবনু জুরায়জ এটাকে মারফূ‘ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের বর্ণনা আমর-এর বর্ণনার চেয়ে পূর্ণাঙ্গ।