৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২০২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
২০১১
বিপদাপদের সময় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিমের ওপর মুসীবত আসলে যদি সে বলেঃ আল্লাহ যা হুকুম করেছেন- “ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না-ইলাইহি র-জিউন” (অর্থাৎ- আমরা আল্লাহরই জন্যে এবং তাঁরই কাছে ফিরে যাব) বলে এবং এ দোয়া পাঠ করে- “আল্লাহুম্মা-জুরনি ফি মুসীবাতি ওয়া আখলিফ লি খাইরাম মিনহা- ইল্লা- আখলাফাল্লাহু লাহু খাইরাম মিনহা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসীবতে সওয়াব দান কর এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর, তবে মহান আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করে থাকেন)।উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এরপর যখন আবু সালামা ইন্তিকাল করেন, আমি মনে মনে ভাবলাম, কোন মুসলিম আবু সালামা থেকে উত্তম? তিনি সর্বপ্রথম ব্যক্তি, যিনি হিজরত করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছে গেছেন। এতদসত্বেও আমি এ দোয়াগুলো পাঠ করলাম। এরপর মহান আল্লাহ আবু সালামার স্থলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মতো স্বামী দান করেছেন।উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিয়ের পয়গাম পৌঁছাবার উদ্দেশে হাতিব ইবনু আবু বালতা’আহকে পাঠালেন। আমি বললাম, আমার একটা কন্যা আছে আর আমার জিদ বেশি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার কন্যা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব যাতে তিনি তাকে তাঁর কন্যার দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন। আর (তার সম্পর্কে) দোয়া করব যেন আল্লাহ তার জিদ দূর করে দেন।
২০১২
বিপদাপদের সময় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ কোন বান্দার উপর মুসীবত আসলে যদি সে বলে “ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না- ইলাইহি র-জিউন, আল্লাহুম্মা’জুরনী ফী মুসীবাতী ওয়া আখলিফ লী খায়রাম মিনহা- ইল্লা- আজারাহুল্লাহু ফী মুসীবাতিহী ওয়া আখলাফা লাহূ খায়রাম মিনহা-” (অর্থাৎ- আমরা আল্লাহর জন্যে এবং আমরা তাঁরই কাছে ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমাকে এ মুসীবতের বিনিময় দান কর এবং এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান কর। তবে আল্লাহ তাকে তার মুসীবতের বিনিময় দান করবেন এবং তাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করবেন।)।উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এরপর যখন আবু সালামা ইন্তিকাল করলেন, আমি ঐরূপ দোয়া করলাম যেরূপ রসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ আমাকে তাঁর চেয়েও উত্তম নি‘আমত অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে স্বামীরূপে দান করলেন।
২০১৩
বিপদাপদের সময় যা বলতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, ..... পরবর্তী বর্ণনা উসামা (রাঃ)-এর হাদিস সদৃশ। তবে এ কথাটুকু বাড়িয়েছেনঃ উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এরপর যখন আবু সালামা (রাঃ) ইন্তেকাল করলেন, আমি মনে মনে বললামঃ আবু সালামা (রাঃ)-এর চেয়ে উত্তম মানুষ কে আছেন যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বিশিষ্ট সাহাবী? অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে দৃঢ়তা দান করলেন এবং আমি ঐরূপ দোয়া করলাম। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এরপর আমার বিয়ে হল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে।
২০১৪
রোগী ও মৃতের নিকট যা বলতে হয় পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমরা পীড়িত ব্যক্তি অথবা মৃত ব্যক্তির নিকট হাজির হও তখন তার সম্পর্কে ভাল মন্তব্য কর। কেননা তোমরা যেরূপ বল তার ওপর মালাকগণ (ফেরেশতামণ্ডলী) আমীন বলেন। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, এরপর যখন আবু সালামা (রাঃ) ইনতিকাল করলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বললাম। হে আল্লাহর রসূল! আবু সালামা (রাঃ) ইনতিকাল করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তুমি বল, হে আল্লাহ! আমাকে ও তাঁকে ক্ষমা কর এবং তাঁর পরে আমাকে উত্তম পরিণাম দান কর।” উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তা বললাম। আল্লাহ আমাকে তাঁর (আবু সালামা-এর) চেয়ে উত্তম প্রতিদান হিসেবে মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে দান করলেন।
২০১৫
মাইয়্যিতের দৃষ্টি বন্ধ করা এবং মৃত্যু উপস্থিত হলে তার জন্য দু‘আ করা পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু সালামা-কে দেখতে এলেন, তখন চোখ খোলা ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন, যখন রূহ কবজ করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে। আবু সালামার পরিবারের লোকেরা কান্না শুরু করে দিল। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে ভাল কথা ছাড়া কোনো খারাপ কিছু বলো না। কেননা, তোমরা যা কিছু বল তার স্বপক্ষে ফেরেশতা ‘আমীন’ বলে থাকে।এরপর তিনি এভাবে দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! আবু সালামাকে ক্ষমা কর এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর মর্যাদাকে উঁচু করে দাও, তুমি তাঁর বংশধরদের অভিভাবক হয়ে যাও। হে রাব্বুল ‘আলামীন! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তাঁর কবরকে প্রশস্ত কর এবং তা জ্যোতির্ময় করে দাও।”
২০১৬
মাইয়্যিতের দৃষ্টি বন্ধ করা এবং মৃত্যু উপস্থিত হলে তার জন্য দু‘আ করা পরিচ্ছেদ নাই
খালিদ আল হায্‌যা (রহঃ)
একই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ব্যতিক্রম এই যে, এ সূত্রে বলেছেন, “তার পরিবার পরিজনদের অভিভাবক হও।” এছাড়া বলেছেন, ‘তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও’ কিন্তু “আফসিহ” শব্দটি এ বর্ণনায় নেই। খালিদ আল হায্যা এ কথাটুকুও বর্ণনা করেছেন, সপ্তম অন্য আরেকটি দোয়া আছে যা আমি ভুলে গেছি।
২০১৭
(রূহ ক্ববয হওয়ার পর) রূহের দিকে মাইয়্যিতের অপলক দৃষ্টিতে তাকানো পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমরা কি দেখ না, মানুষ যখন মারা যায় তার চোখ খোলা থেকে যায়? লোকেরা বলল, হ্যাঁ দেখেছি। যখন তার চোখ তার রূহকে অনুসরণ করে তখন এ অবস্থা হয়।
২০১৮
(রূহ ক্ববয হওয়ার পর) রূহের দিকে মাইয়্যিতের অপলক দৃষ্টিতে তাকানো পরিচ্ছেদ নাই
আলা (রহঃ)
একই সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।
২০১৯
মৃতের নিকট কাঁদা পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
যখন আবু সালামা (রাঃ) ইন্তেকাল করলেন, আমি (আক্ষেপ করে) বললাম, আহ! নির্বাসিত ব্যক্তি! আহ! বিদেশ ভূমিতে মারা গেল! আমি তাঁর জন্য এমনভাবে (বুক ফাটিয়ে) কান্নাকাটি করব যা মানুষের মাঝে চর্চা হতে থাকবে। আমি কান্নার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় একজন মহিলা আমাকে সঙ্গ দেয়ার মনোভাব নিয়ে মদীনার উঁচু এলাকা থেকে আসলেন। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সামনে এগিয়ে এসে বললেনঃ আরে! তুমি কি শয়তানকে ঐ ঘরে ঢুকাতে চাচ্ছ যেখান থেকে মহান আল্লাহ তাকে দু’বার তাড়িয়ে দিয়েছেন? (উম্মু সালামা বলেন) এ কথা শুনামাত্র আমি কান্না বন্ধ করলাম এবং আর কাঁদলাম না।
২০২০
মৃতের নিকট কাঁদা পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ্‌ ইবনু যায়দ (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ) এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় তাঁর এক কন্যা তাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তাঁর একটা শিশু অথবা ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, তিনি যেন এখানে আসেন। নবী (ﷺ) সংবাদ বাহককে বললেন, তুমি গিয়ে তাকে বল, আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা তাঁরই আর যা দান করেছেন তাও তাঁরই। আর প্রত্যেক বস্তুর জন্য তাঁর কাছে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তাকে বলে দাও যেন সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করে।সংবাদদাতা ফিরে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আল্লাহর কসম দিয়ে বলেছেন, যাতে আপনি একটু আসেন। উসামা (রাঃ) বলেন, এরপর নবী (ﷺ) উঠে রওয়ানা হলেন। সা‘দ ইবন উবাদা (রাঃ) ও মু‘আয ইবন জাবাল (রাঃ) তার সাথে গেলেন আমিও তাদের সাথে গেলাম।সেখানে পৌছলে শিশুটিকে তাঁর কাছে উঠিয়ে আনা হল। বাচ্চাটির রূহ এমনভাবে ধড়ফড় করছে যেন পুরাতন মশকের মধ্যে ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। এ করুণ অবস্থা দেখে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সা‘দ (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, একি হে আল্লাহর রসূল? তিনি উত্তরে বললেন, এ হচ্ছে দয়া, যা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের অন্তঃকরণে সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালু ও স্নেহপরায়ণদের প্রতি দয়া করেন।