৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
২০০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৯৯১
সুর্যগ্রহণের সালাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আসমা বিনতু আবূ বাক্‌র (রাঃ)
নবী (ﷺ) একদিন অর্থাৎ যেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল, এরূপ আতঙ্কগ্রস্ত হলেন যে, চাদর নিতে গিয়ে ভুলে (মহিলাদের) বড় চাদর উঠিয়ে নিলেন। পরে তাঁর চাদরই তাঁকে পৌঁছে দেয়া হলো। অতঃপর তিনি লোকদের নিয়ে সালাত শুরু করে দিলেন এবং বেশ লম্বা কিয়াম করলেন। যদি কোন লোক তাঁর কাছে আসত, বুঝতে পারত না যে, নবী (ﷺ) রুকু করেছেন দীর্ঘ কিয়ামের কারণে, যে পর্যন্ত কেউ প্রকাশ না করে দিত যে, তিনি রুকু করেছেন।
১৯৯২
সুর্যগ্রহণের সালাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এতে আসমা (রাঃ) বলেছেন, দীর্ঘ সময় কিয়াম করে পরে রুকূ করেছেন। বর্ণনাকারী এ কথাটুকু বাড়িয়েছেন- “আমি মহিলাদের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, আমার চেয়ে বয়স্কা মহিলাও আছে আর আমার চেয়ে অধিক রুগণা মহিলাও রয়েছে”।
১৯৯৩
সুর্যগ্রহণের সালাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আসমা বিনতু আবূ বাক্‌র (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর যামানায় একবার সূর্যগ্রহণ হলে তিনি (ﷺ) ঘাবড়ে গেলেন। যে কারণে তিনি ভুল করে নিজের চাদর নিতে গিয়ে (মহিলাদের) বড় চাদর নিয়ে গেলেন। অবশ্য পরে তাঁর চাদর পৌঁছিয়ে দেয়া হলো।আসমা (রাঃ) বলেন, আমি আমার প্রয়োজন সেরে আসলাম এবং এসে মসজিদে প্রবেশ করলাম। ঢুকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখলাম দাঁড়িয়ে আছেন। আমিও তাঁর সাথে দাঁড়ালাম, তিনি (ﷺ) দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি আমি মনে মনে ভাবছিলাম বসে পড়ব কিনা, অতঃপর তাকিয়ে দেখলাম একটি দুর্বল মহিলা। তখন মনে মনে বললাম, এ মহিলা তো আমার চেয়েও দুর্বল। অতএব দাঁড়িয়ে থাকলাম। দীর্ঘ সময় পর তিনি রুকুতে গেলেন এবং রুকুও দীর্ঘ করলেন, অতঃপর তিনি মাথা উঠালেন। রুকু থেকে উঠেও দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি কোন ব্যক্তি এসে দেখলে মনে করত তিনি রুকুই করেননি।
১৯৯৪
সুর্যগ্রহণের সালাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের সাথে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শুরু করে তিনি লম্বা কিয়াম করলেন প্রায় সূরা বাকারা পড়ার সমপরিমাণ সময়। অতঃপর রুকু করলেন লম্বা রুকু। অতঃপর (রুকু থেকে) মাথা উঠালেন। আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা ছোট। অতঃপর লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকুর অপেক্ষা কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন।সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। আবার লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকুর চেয়ে কিছু কম। অতঃপর সিজদা করলেন। সিজদা থেকে উঠে আবার লম্বা কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কিছু কম। তারপর মাথা উঠিয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম করলেন যা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা কম। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকু করলেন যা প্রথম রুকুর অপেক্ষা সংক্ষিপ্ত। অতঃপর সিজদা করে সালাত সমাপ্ত করলেন। এতক্ষণে সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল।এরপর তিনি (ﷺ) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুটো নিদর্শন। এগুলো কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে গ্রাসপ্রাপ্ত হয় না। অতএব তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখ, তখন আল্লাহকে স্মরণ কর।সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা আপনাকে দেখলাম, আপনি এ স্থানে দাঁড়িয়ে হাত বাড়িয়ে নিতে যাচ্ছেন। আবার একটু পর দেখলাম হাত ফিরিয়ে নিলেন?রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি জান্নাত দেখতে পেলাম। অতএব জান্নাত থেকে ফলের একটি ছড়া নিতে যাচ্ছিলাম। যদি তা নিয়ে নিতাম তাহলে তোমরা তা পৃথিবী কেয়ামত থাকা পর্যন্ত খেতে পারতে। আমি জাহান্নামও দেখতে পেলাম এবং আজকের ন্যায় এমন ভয়াবহ দৃশ্য আর কখনও দেখিনি। আমি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে বেশি অংশ দেখলাম নারী।সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, কী কারণে হে আল্লাহর রাসূল!রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাঁদের অকৃতজ্ঞতার কারণে।তারা স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে এবং অনুগ্রহকে অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো সারাজীবনও উপকার কর, অতঃপর যদি কখনও তোমার থেকে কোন ত্রুটি দেখে তখন বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন কল্যাণ দেখতে পাইনি।
১৯৯৫
সুর্যগ্রহণের সালাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জান্নাত ও জাহান্নামের যা কিছু উত্থাপন করা হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। কেবল ব্যতিক্রম এই যে, তিনি বলেছেনঃ “অতঃপর আপনাকে দেখলাম হাত গুটিয়ে নিলেন”।
১৯৯৬
যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার সাজদায় আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় আটটি রুকু ও চারটি সিজদা সহকারে সালাত আদায় করেছেন। আলী (রাঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
১৯৯৭
যে ব্যক্তি বলে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চার সাজদায় আট রাক‘আত সালাত আদায় করেছেন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সময় সালাত শুরু করে প্রথমে কিরাআত পাঠ করেছেন, তারপর রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পড়েছেন, আবার রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পাঠ করে আবার রুকু করেছেন। আবার কিরাআত পাঠ করে আবার রুকু করেছেন। অতঃপর সিজদা করেছেন। দ্বিতীয় রাকাতও অনুরূপভাবে আদায় করেছেন।
১৯৯৮
সূর্যগ্রহণের সালাতের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মি‘আহ্‌” (সলাতের জামা‘আত) বলা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র ইবনুল ‘আস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ লাগল, তখন ঘোষণা করা হলো, “আস-সালাতু জামি‘আহ” (সালাতের জামা‘আত) অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই রুকু ও এক সিজদা সহকারে এক রাকাত আদায় করলেন। অতঃপর সূর্য স্পষ্ট হয়ে গেল। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি কখনও এর চেয়ে লম্বা রুকু ও লম্বা সিজদা আদায় করিনি।
১৯৯৯
সূর্যগ্রহণের সালাতের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মি‘আহ্‌” (সলাতের জামা‘আত) বলা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস‘ঊদ আল আনসারী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুইটি নিদর্শন। এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন। আর এ দুইটি কোন মানুষের মৃত্যুর জন্য গ্রহণ লাগে না। অতএব, তোমরা যখন এরূপ কিছু দেখতে পাও, তখন তোমরা সালাত আদায় কর এবং দোয়া করতে থাক যে পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের এ অবস্থা দূর না করেন।
২০০০
সূর্যগ্রহণের সালাতের জন্য আহবান করা এবং “আস্‌সলা-তু জা-মি‘আহ্‌” (সলাতের জামা‘আত) বলা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ অবশ্যই কোনো মানুষের মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। বরং এগুলো আল্লাহর দুইটি নিদর্শন। অতএব তোমরা যখন তা (গ্রাস) দেখ তখন উঠে গিয়ে সালাত আদায় কর।