৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৯৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৯৭১
ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আমি কখনও নবী (ﷺ)-কে এরূপ পুরোপুরি হাসতে দেখিনি যাতে কণ্ঠনালী দেখা যায়। বরং তিনি (ﷺ) মুচকি হাসতেন।আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখন কালো মেঘ বা দমকা হাওয়া দেখতেন, তাঁর চেহারায় অস্থির ভাব ফুটে উঠত।আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি দেখি লোকেরা মেঘ দেখে বেশ খুশি হয়ে যায় এ আশায় যে এতে বৃষ্টি হবে। আর আপনাকে দেখি, আপনি যখন মেঘ দেখেন, আপনার চেহারায় আশঙ্কার ছাপ পরিলক্ষিত হয়।উত্তরে তিনি বলেন, হে আয়িশা! আমি এ কারণে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত বোধ করি না যে, হতে পারে এর মধ্যে কোন ‘আযাব থাকতে পারে। এক সম্প্রদায়কে দমকা হাওয়ার মাধ্যমে ‘আযাব দেয়া হয়েছে। আরেক সম্প্রদায় আসমানী ‘আযাব দেখে বলেছিল- এই যে মেঘ তা আমাদের ওপর বর্ষিত হবে।
১৯৭২
ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: আমাকে পূবালী হাওয়ার সাহায্যে বিজয়ী করা হয়েছে, অথচ আদ সম্প্রদায়কে পশ্চিমা বাতাসের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে।
১৯৭৩
ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৯৭৪
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে একবার সূর্য গ্রহণ হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। সালাতের মধ্যে তিনি বেশ দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকু করলেন এবং তা খুব দীর্ঘায়িত করলেন। অতঃপর আবার রুকু করলেন এবং রুকু বেশ দীর্ঘায়িত করলেন, যা রুকু থেকে কিছু কম, অতঃপর সিজদায় গেলেন।সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় কিয়াম (দণ্ডায়মান হওয়া) করলেন, যা প্রথমবার কিয়াম অপেক্ষা কিছুটা কম ছিল। অতঃপর রুকুতে গেলেন এবং এতে দীর্ঘ সময় কাটালেন। অবশ্য তা প্রথম রুকু অপেক্ষা কম ছিল। অতঃপর দীর্ঘ রুকু করলেন, অবশ্য তা প্রথম রুকুর চেয়ে কম ছিল। অতঃপর সিজদা করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শেষ করলেন। এতক্ষণে সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। তিনি লোকদের সামনে খুতবা দিলেন। খুতবা প্রসঙ্গে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন।অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দুইটি নিদর্শন। আর চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ কারো জন্ম ও মৃত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। অতএব তোমরা যখন চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ দেখতে পাও, তখন তাকবীর পড় আর আল্লাহর কাছে দোয়া কর এবং সালাত আদায় কর ও সদাকা কর।হে উম্মতে মুহাম্মদ! মনে রেখ, এমন কেউ নেই যে মহান আল্লাহ থেকে অধিক আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন, যখন তাঁর দাস বা দাসী ব্যভিচারে লিপ্ত হয় (তখন তিনি শাস্তি না দিয়ে থাকেন না)।হে উম্মতে মুহাম্মদ! আল্লাহর কসম, যদি তোমরা জানতে যা আমি জানি, তবে তোমরা অবশ্যই অধিক পরিমাণে কান্না-কাটি করতে এবং খুব কম হাসতে। আমি কি আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি? মালিকের রিওয়ায়াতে এ বাক্যটি এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে- সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর বিশেষ কুদরতের নিদর্শনাবলী।
১৯৭৫
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ)
তবে হিশাম এ কথাটুকু বাড়িয়েছেনঃ “অতঃপর সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত” এবং এ কথাটুকুও বাড়িয়েছেনঃ “অতঃপর তিনি উভয় হাত উঠিয়ে বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি তোমার বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি?”
১৯৭৬
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রা.)
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় সূর্য গ্রহণ লেগেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে চলে গেলেন এবং দাঁড়িয়ে তাকবীর উচ্চারণ করলেন। আর লোকজন তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। অতঃপর তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন এবং লম্বা রুকু করলেন, অতঃপর মাথা উঠিয়ে "সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বললেন। এরপর দাঁড়িয়ে লম্বা কিরাআত পাঠ করলেন যা প্রথম কিরাআত অপেক্ষা ছোট ছিল। এরপর তাকবীর বলে রুকুতে গেলেন এবং লম্বা রুকু করলেন যা প্রথম রুকু অপেক্ষা ছোট ছিল। অতঃপর তিনি "সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ" বলে সিজদায় গেলেন। আবু তাহির-এর বর্ণনায় অবশ্য “সিজদা”র কথাটি উল্লেখ নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ করলেন। এভাবে তিনি চারটি রুকু ও চারটি সিজদা করলেন (দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন)। তিনি সালাত শেষ করার আগেই সূর্য পরিষ্কার হয়ে গেল। অতঃপর বললেন, চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুইটি নিদর্শন। কারো জন্মমৃত্যুর কারণে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয় না। অতএব, যখন তোমরা এ অবস্থা দেখতে পাও দ্রুত সালাতে ধাবিত হও।এরূপও বলেছেনঃ "এবং সালাত আদায় করতে থাক যে পর্যন্ত তোমাদের থেকে এ অবস্থার দূরীভূত না হয়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ প্রসঙ্গে বলেন, আমি আমার এ স্থানে দাঁড়িয়ে তোমাদের নিকট ওয়াদা-কৃত প্রতিটি বস্তু দেখতে পেলাম। এমনকি আমি নিজেকে যেন দেখতে পেলাম জান্নাতের এক ছড়া ফল নিতে যাচ্ছিলাম। এমনকি তোমরা আমাকে সামনে অগ্রসর হতে দেখেছ। রাবী মুরাদী (রহঃ) বলেছেন আমি অবশ্যই জাহান্নামকে (এরূপ ভয়াবহ অবস্থায়) দেখলাম যে, এর একাংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলছে, এমনকি তোমরা আমাকে দেখলে আমি পিছনে সরে যাচ্ছি। আমি জাহান্নামে ইবনু লুহাইকে দেখতে পেলাম। সে সর্বপ্রথম প্রতিমার উদ্দেশে পশু ছেড়েছিল। আবু তাহির-এর হাদীস তাঁর এ কথা পর্যন্ত শেষ হয়েছে- “ফাফযা-উ লিসসলা-ত" তিনি পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি।
১৯৭৭
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় একবার সূর্য গ্রহণ হয়েছিল। তিনি জনৈক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেয়ার উদ্দেশে পাঠিয়ে দিলেন: الصَّلاَةَ جَامِعَةً অর্থাৎ “সালাত জামাতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।” (ঘোষণা শুনে) সবাই একত্রিত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে তাকবির উচ্চারণ করলেন এবং দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। দুই রাকাতে চারটি রুকু ও চারটি সিজদা করলেন।
১৯৭৮
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
নবি (ﷺ) সূর্যগ্রহণের সালাতে কিরাত উচ্চস্বরে পাঠ করেছেন এবং দুই রাকাতের স্থলে চার রাকাত আদায় করেছেন এবং চারটি সিজদা করেছেন।
১৯৭৯
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই রাকাতের স্থলে চার রাকাত আদায় করেছেন এবং চারটি সিজদা করেছেন।
১৯৮০
সূর্যগ্রহণের সালাত পরিচ্ছেদ নাই
কাসীর ইবনু ‘আব্বাস (রহঃ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূর্যগ্রহণের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে ঠিক ঐরূপ বর্ণনা করেছেন যেরূপ উরওয়াহ্ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন।