৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৯৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৯৬১
পানি প্রার্থনার দু‘আয় হাত উত্তোলন প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) তাঁর কোন দোয়ায় হাত উঠাতেন না; কেবল ইস্তিসকায় হাত উঠাতেন। এমনকি এতে তাঁর বগলের শুভ্রতা পরিদৃষ্ট হতো। তবে আবদুল আ’লা তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, বগলের শুভ্রতা বা উভয় বগলের শুভ্রতা।
১৯৬২
পানি প্রার্থনার দু‘আয় হাত উত্তোলন প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
হাদীসটি ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ইয়াহিয়া ইবন সাঈদ (রহঃ) থেকে, তিনি ইবন আবু আরুবা (রহঃ) থেকে, তিনি কাতাদা (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবি (ﷺ) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৯৬৩
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি জুমু‘আর দিন মসজিদে নববীতে দারুল ক্বাযার দিকে স্থাপিত দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! (অনাবৃষ্টির ফলে) মাল সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন, “আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লাহুম্মা আগিসনা” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন)। [৩ বার]আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ সময় আসমানে কোনো মেঘ বা মেঘের চিহ্নও ছিল না। আর আমাদের ও সাল্‌’ই পাহাড়ের মাঝে কোনো ঘর-বাড়ি কিছুই ছিল না। (ক্ষণিকের মধ্যে) তাঁর পেছন থেকে ঢালের ন্যায় অখণ্ড মেঘ উদিত হলো। একটু পর তা মাঝ আকাশে এলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি শুরু হলো।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহর শপথ! আমরা সপ্তাহকাল যাবৎ আর সূর্যের মুখ দেখিনি।অতঃপর পরবর্তী জুমু‘আয় আবার এক ব্যক্তি ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! মাল সম্পদ সব বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন।বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন, “আল্লাহুম্মা হাওলানা ওয়ালা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়া যিরাবি ওয়া বুতূনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের অবস্থা পাল্টে দাও, আমাদের ওপর এ অবস্থা চাপিয়ে দিও না। হে আল্লাহ! পাহাড়ি এলাকায়, মালভূমিতে, মাঠের অভ্যন্তরে ও গাছপালা গজানো স্থলে তা ফিরিয়ে নিয়ে যাও)। এরপর বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল। আমরা বের হয়ে সূর্য তাপের মধ্যে চলাচল করতে লাগলাম।শরীক বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তি কি প্রথম ব্যক্তি? আনাস বলেন, আমার জানা নেই।
১৯৬৪
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় মানুষ দুর্ভিক্ষের শিকার হল। ঐ সময় একদিন জুমআর দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়িয়ে লোকদের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন। এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ বরবাদ হয়ে গেল এবং সন্তান-সন্ততি ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছে। অবশিষ্ট হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরো আছে: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে, আমাদের উপরে নয়। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত দিয়ে যেদিকেই ইশারা করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে সেদিকেই আকাশ ফর্সা হয়ে গেছে। এমনকি আমি মদিনাকে গর্তের ন্যায় দেখতে পেলাম। এদিকে 'কানাত' উপত্যকায় এক মাস যাবৎ পানির ধারা বয়ে গেল। যে কোন দিক থেকে যে কেউই এসেছে, সে অতিবৃষ্টির সংবাদ দিয়েছে।
১৯৬৫
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) জুমুআর দিন খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় কিছু লোক দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, হে আল্লাহর নবী! বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেছে। গাছপালা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। পশুরা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। এরপর অবশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ‘মেঘ মদিনা থেকে সরে গেছে।’ এরপর মদিনার চতুর্দিকে বৃষ্টিপাত হতে লাগল, মদিনায় একবিন্দু বৃষ্টিও বর্ষিত হচ্ছে না। আমি মদিনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম তা যেন পট্টির ন্যায় চতুর্দিকে পরিবেষ্টিত বা মুকুটের ন্যায় শোভা পাচ্ছে।
১৯৬৬
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে তবে এতে এ কথাও আছে যে, আল্লাহ তা‘আলা মেঘরাশিকে পুঞ্জীভূত করে দিয়েছেন আর তা আমাদেরকে প্লাবিত করে দিয়েছে। এমনকি দেখলাম বেশ শক্তিশালী ব্যক্তিও তার বাড়িতে ফিরে আসতে চিন্তায় পড়ে গেল।
১৯৬৭
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
হাফ্‌সাহ্‌ ইবনু ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তিনি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমআর দিন মিম্বারে উপবিষ্ট অবস্থায় তাঁর নিকট একজন বেদুঈন আসল ..... বাকী হাদীস পূর্ববৎ বর্ণনা করেন। তবে এ কথাটুকু বাড়িয়ে বলেছেন- আমি দেখলাম মেঘমালা ছড়িয়ে পড়েছে, যেন গোছানো চাদরকে প্রসারিত করা হয়েছে।
১৯৬৮
পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম, এমন সময় বৃষ্টি নামল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাপড় খুলে দিলেন। ফলে এতে বৃষ্টির পানি পৌঁছল। আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! এরূপ কেন করলেন? তিনি (ﷺ) বললেন, কেননা এটা মহান আল্লাহর নিকট থেকে আসার সময় খুবই অল্প।
১৯৬৯
ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আত্বা ইবনু আবূ রবাহ (রহঃ)
তিনি নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অবস্থা এরূপ ছিল যে, যখন কোন সময় দমকা হাওয়া ও মেঘের ঘনঘটা দেখা দিত, তাঁর চেহারায় একটা আতঙ্কের ভাব ফুটে উঠত এবং তিনি আগে পিছনে উদ্বিগ্ন হয়ে চলাফেরা করতেন।এরপর যখন বৃষ্টি হতো খুশি হয়ে যেতেন, আর তাঁর থেকে এ অস্থিরতা দূর হয়ে যেত। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা হয় যে, আমার উম্মতের ওপর কোন ‘আযাব এসে পতিত হয় নাকি। তিনি বৃষ্টি দেখলে বলতেন, এটা (আল্লাহর) রহমত।
১৯৭০
ঝঞ্ঝাবায়ু ও মেঘ দেখে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা আর বৃষ্টি বর্ষনে খুশি হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
যখন বাতাস প্রবল আকার ধারণ করত, তখন নবী (ﷺ) এভাবে দোয়া করতেন : “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা ওয়া খাইরা মা ফীহা ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা ফীহা ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহি”- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে মেঘের কল্যাণ কামনা করছি ও এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে এবং যে কল্যাণের সাথে প্রেরিত হয়েছে তাও এবং তোমার কাছে এর অকল্যাণ ও এর মধ্যে যে অকল্যাণ নিহিত আছে এবং যে অকল্যাণ নিয়ে এসেছে তা থেকে আশ্রয় চাই।)আয়িশা (রাঃ) বলেন, যখন আসমানে মেঘ বিদ্যুৎ ছেয়ে যেত তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত এবং তিনি ভিতরে বাইরে আগে পিছনে ইতস্তত চলাফেরা শুরু করে দিতেন। এরপর যখন বৃষ্টি হতো তাঁর এ অবস্থা দূর হয়ে যেত।আয়িশা (রাঃ) বলেনঃ এ অবস্থা বুঝতে পেরে আমি তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন, হে আয়িশা! আমার আশঙ্কা এরূপ হয় নাকি যেরূপ আদ সম্প্রদায় বলেছিল। যেমন কুরআনে উদ্ধৃত হয়েছে, “যখন তারা এটাকে তাদের প্রান্তর অভিমুখে মেঘের আকারে এগিয়ে আসতে দেখল, তারা বলল, এ মেঘ আমার ওপর বৃষ্টি বর্ষাবে (পক্ষান্তরে তা ছিল আসমানী গজব)”- (সূরা আল আহ্কাফ ৪৬:২৪)।