৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৯৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৯৪১
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু ‘আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ)
আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদেশ করেছেন—আমরা যেন মহিলাদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে বের করে দেই—পরিণত বয়স্কা, ঋতুবতী ও গৃহবাসিনী সবাইকে। তবে ঋতুবতী মহিলারা সালাত থেকে বিরত থাকবে। বাকি পুণ্যের কাজে ও মুসলিমদের দোয়ায় শরীক হবে।আমি বললাম : হে আল্লাহর রসূল! আমাদের কারো কারো চাদর ওড়না নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তার জন্য বোন তাকে নিজ চাদর বা ওড়না পরিয়ে দিবে।
১৯৪২
ঈদের সালাতের পূর্বে ও পরে ঈদগাহে সুন্নাত সালাত আদায় না করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হলেন এবং দু’ রাকাত সালাত আদায় করলেন। এর পূর্বে ও পরে কোনো সালাত আদায় করেননি। অতঃপর তিনি মহিলাদের নিকট আসলেন। এ সময় তাঁর সাথে বিলাল (রাঃ) ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে সদাকা করতে আদেশ করলেন। মহিলারা নিজ নিজ কানের রিং ও গলার হার বিলিয়ে দিতে লাগল।
১৯৪৩
ঈদের সালাতের পূর্বে ও পরে ঈদগাহে সুন্নাত সালাত আদায় না করা পরিচ্ছেদ নাই
আম্‌র আন্‌ নাক্বিদ, আবূ বাক্‌র ইবনু নাফি’ ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ) ..... তারা শু‘বাহ্‌ (রহঃ)
একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৯৪৪
দু’ ঈদের সালাতে কোন্‌ সূরাহ পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ)
উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আবু ওয়াকিদ আল লাইসি (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও আযহার সালাতে কি কিরাআত পাঠ করতেন? আবু ওয়াকিদ (রাঃ) বললেন, তিনি এতে “কাফ, ওয়াল কুরআনিল মাজীদ” (সূরা কাফ) এবং “ইক্তারাবাতিস্ সা‘আতু ওয়ানশাক্কাল কামার” (সূরা কামার) পাঠ করতেন।
১৯৪৫
দু’ ঈদের সালাতে কোন্‌ সূরাহ পাঠ করবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়াক্বিদ আল লায়সী (রাঃ)
আমাকে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদের দিনে কোন সূরা পড়েছেন? আমি উত্তরে বললাম, তিনি (ﷺ) “ইকতারাবাতিস সা'আতু” (সূরা ক্বামার) এবং “ক্বাফ, ওয়াল কুরআনিল মাজীদ” (সূরা ক্বাফ) পাঠ করেছেন।
১৯৪৬
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আবু বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমার কাছে আনসার সম্প্রদায়ের দুইটি মেয়ে গান গাইছিল। আনসাররা বু’আস যুদ্ধের সময় এ গানটি গেয়েছিল। আয়েশা (রাঃ) বলেন, তারা অবশ্য (পেশাগত) গায়িকা ছিল না।আবু বকর (রাঃ) বললেন, একি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসবের ব্যবস্থা আছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের উৎসবের দিন।
১৯৪৭
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্‌ইয়া ইবনু ইয়াহ্‌ইয়া ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ..... উভয়ে হিশাম (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- দুইটি বালিকা দফ বাজিয়ে খেলা করছিল।
১৯৪৮
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আবু বকর (রাঃ) আইয়্যামে তাশরীকের দিনে আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে দেখেন যে, তাঁর কাছে দুইটি বালিকা গান করছে এবং দফ বাজাচ্ছে। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চাদর দিয়ে মাথা ঢাকা অবস্থায় ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) এটা দেখে বালিকাদ্বয়কে খুব শাসালেন বা ধমক দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে বলেন, “হে আবু বকর! এদেরকে ছেড়ে দাও। এ দিনগুলো হলো ঈদের দিন!”আয়িশা (রাঃ) আরও বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি। তিনি (ﷺ) আমাকে তাঁর চাদর দ্বারা ঢেকে দিচ্ছিলেন, যখন আমি আবিসিনিয়ার যুবকদের (কৃষ্ণাঙ্গ) খেলার দৃশ্য অবলোকন করছিলাম। তখন আমি সবেমাত্র বালিকা। অতএব তোমরা অল্পবয়স্কা বালিকাদের সখের মূল্যায়ন কর। অল্পবয়স্কা বালিকারা অনেকক্ষণ আমোদ-ফূর্তিতে মেতে থাকে।”
১৯৪৯
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
আল্লাহর শপথ! আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখলাম, তিনি আমার হুজরার দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন আর আবিসিনিয়ার যুবকেরা তাদের অস্ত্র দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মসজিদে তাদের যুদ্ধের কলাকৌশল দেখাচ্ছে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁর চাদর দ্বারা আড়াল করে দিচ্ছেন যাতে আমি তাদের খেলা দেখতে পারি। অতঃপর তিনি (ﷺ) আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকলেন, যতক্ষণ আমি নিজে ফিরে না আসি। অতএব অল্পবয়স্কা বালিকাদের খেলা-তামাশার প্রতি যে লোভ রয়েছে তার মূল্যায়ন কর (তার সখ পূর্ণ কর)।
১৯৫০
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, আমার কাছে দুইটি বালিকা জাহিলিয়্যাত যুগে সংঘটিত বু‘আস যুদ্ধের গান গাইছে। তিনি বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে দিলেন। এমন সময় আবু বকর (রাঃ) প্রবেশ করলেন। তিনি (এ দৃশ্য দেখে) আমাকে ধমক দিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে শয়তানের বাদ্য চলছে? (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দিকে ফিরে বললেন, হে আবু বকর! এদের ছেড়ে দাও।এরপর তিনি যখন অন্যমনস্ক হলেন, আমি বালিকাদ্বয়কে আস্তে খোঁচা দিলাম। তারা বের হয়ে চলে গেল। এটা ঈদের ঘটনা।কৃষ্ণাঙ্গ যুবকেরা ঢাল-বল্লম দ্বারা রণকৌশল ও খেল-তামাশা করছিল। তখন হয়ত আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আবেদন করেছি না হয় তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন তুমি কি তা দেখতে আগ্রহী? আমি বললাম- জি হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) আমাকে তাঁর পিছনে এমনভাবে দাঁড় করিয়ে দিলেন যে, আমার গণ্ডদেশ তাঁর গণ্ডদেশের উপর সংলগ্ন হলো। এরপর তিনি (ﷺ) তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, হে বনী আরফিদা! তোমরা তোমাদের খেলা চালিয়ে যাও। অনেকক্ষণ পর আমি যখন একটু বিরক্তবোধ করলাম, তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, হয়েছে তো? আমি বললাম, জি হ্যাঁ! তিনি বললেন, তাহলে এবার যাও।