৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৯৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৯৩১
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবুর রাবী’ আয্ যাহরানী, ইয়া‘কুব আদ্ দাওরাক্বী (রহঃ) ..... উভয়েই আইয়ূব (রহঃ)
একই সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৯৩২
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আত্বা (রহঃ)
আমি জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, নবী (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দিন দাঁড়ালেন, অতঃপর সালাত আদায় করলেন। তিনি খুতবা দেয়ার আগে প্রথমে সালাত আদায় করেছেন, পরে জনতার উদ্দেশে খুতবা দিয়েছেন। নবী (ﷺ) খুতবা শেষ করে মহিলাদের কাছে এসে উপদেশ দিলেন। এ সময় তিনি (ﷺ) বিলালের হাতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বিলাল তাঁর কাপড় প্রসারিত করে রেখেছিলেন। মহিলারা এতে দান বস্তু ফেলছিল। আমি (ইবনু জুরায়জ) আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কি ঈদুল ফিতরের জাকাত (সাদাকায়ে ফিতর)? আতা বললেন, না, বরং তা সাধারণ সদাকাই ছিল। মহিলারা তাদের মূল্যবান আংটি (দানপাত্রে) ফেলছিল এবং সম্ভব সবকিছু বিলিয়ে দিচ্ছিল।আমি আতা (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, বর্তমানে কি ইমামের জন্য খুতবা সমাপ্ত করার পর মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে উপদেশ শুনানোর বিধিসম্মত? আতা বললেন, হ্যাঁ। আমার জীবনের রবের শপথ! এটা ইমামদের ওপর অবশ্য কর্তব্য। তাদের এ কাজ না করার কি কারণ থাকতে পারে?
১৯৩৩
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি ঈদের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি খুতবার আগে প্রথমে সালাত আদায় করলেন—আজান ইকামাত ছাড়া।অতঃপর তিনি বিলালের উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং “আল্লাহভীতি” অর্জন করার আদেশ করলেন ও তাঁর আনুগত্য করার জন্য অনুপ্রাণিত করলেন। তিনি সমবেত জনতাকে উপদেশ দিলেন।তারপর বললেন, তোমরা সদাকা কর। কেননা তোমাদের বেশির ভাগ মহিলাই জাহান্নামের জ্বালানি হবে।(এ কথা শুনে) মহিলাদের মধ্য থেকে উভয় গালে কালো দাগ বিশিষ্ট একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, কেন আল্লাহর রাসূল?রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কেননা তোমরা বেশি অজুহাত ও অভিযোগ পেশ করে থাক এবং স্বামীর অবাধ্যতা করো।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মহিলাগণ তাদের অলঙ্কারাদি দান করতে শুরু করল। তারা তাদের কানের দুল ও আংটিসমূহ বিলালের কাপড়ে ফেলতে লাগল।
১৯৩৪
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস ও জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ)
তাঁরা উভয়ে বলেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়) ঈদুল ফিতরের দিন এবং ঈদুল আজহার দিন (ঈদের জন্য) আজান দেয়া হত না।ইবনু জুরাইয বলেন, কিছু সময় পর আমি আতাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাকে বলেন, আমাকে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ আল আনসারী (রাঃ) জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আজানও নেই, ইকামাতও নেই। কোন ডাক বা কোন প্রকার ধ্বনিও নেই। ঐ দিন ঈদের জন্য কোন আজান ও ইকামাতের নিয়ম নেই। ইমাম (সালাতের উদ্দেশে) বের হওয়ার সময় এবং বের হওয়ার পরেও আজানের কোন প্রয়োজন নেই।
১৯৩৫
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আত্বা (রহঃ)
আমাকে মুহাম্মাদ ইবন রাফি (রহঃ) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবদুর রাযযাক (রহঃ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ইবনু জুরাইজ (রহঃ) আমাদের জানিয়েছেন, আতা (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর নিকট প্রথমে লোকেরা যখন বাইআত নিচ্ছিল- তাঁর কাছে এ সংবাদ পাঠালেন যে, ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের সালাতের জন্য আজান দেয়া হতো না। অতএব তুমি ঈদের সালাতের জন্য আজানের প্রচলন করবে না।বর্ণনাকারী বলেন, ইবনু যুবাইর (রাঃ) তাঁর সময় আজানের প্রচলন করেননি। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ কথাটুকু ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর নিকট বলে পাঠান যে, খুতবা সালাতের পরে হবে, আর এ নিয়ম পালিত হয়ে আসছে। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব ইবনু যুবাইর (রাঃ) খুতবার পূর্বে ঈদের সালাত সমাপন করেছেন।
১৯৩৬
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একবার দুইবার নয়, অনেকবার দুই ঈদের সালাত আজান ও ইকামাত ব্যতীত আদায় করেছি।
১৯৩৭
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ), আবূ বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করতেন।
১৯৩৮
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিন বের হতেন এবং প্রথমে সালাত আদায় করতেন। যখন সালাত সম্পন্ন করে সালাম ফিরাতেন, লোকদের দিকে মুখ করে দাঁড়াতেন। তারা নিজ নিজ সালাতের স্থানে বসে থাকত। তারপর যদি কোথাও সৈন্য পাঠানোর প্রয়োজন হতো, তবে তা লোকদের নিকট ব্যক্ত করতেন। অথবা যদি অন্য কোন প্রয়োজন হতো তবে সে সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং তিনি বলতেন, তোমরা সদাকাহ কর, সদাকাহ কর, সদাকাহ কর। দানের সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল নারীরা। অতঃপর তিনি ঘরে ফিরতেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হল, তখন একবার আমি তাঁর হাত ধরে চলতে চলতে ঈদগাহে এসে উপনীত হলাম। এসে দেখি কাসীর ইবন সালত শক্ত মাটি ও ইট দিয়ে একটা মিম্বার তৈরি করে রেখেছে। মারওয়ান আমার থেকে এমনভাবে হাত টেনে ছুটাচ্ছিল যেন আমাকে মিম্বারের দিকে টানা-হেঁচড়া করছে আর আমি তাকে সালাতের দিকে টানা-হেঁচড়া করছি। যখন আমি তাঁর এ মনোভাব দেখলাম, আমি জিজ্ঞেস করলাম, প্রথমে সালাত আদায়ের নিয়ম কি হল? মারওয়ান বলল, না হে আবূ সাঈদ! তুমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত তা রহিত হয়ে গেছে। আমি বললাম, কখনও না! সে সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ! আমি যে নিয়ম সম্পর্কে অবহিত এর চেয়ে উত্তম কিছু তোমরা কখনও করতে পারবে না। এ কথা তিনি তিনবার উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি চলে আসলেন।
১৯৩৯
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু ‘আত্বিয়্যাহ্‌ (রাঃ)
আমাদেরকে নবী (ﷺ) আদেশ করেছেন, আমরা যেন পরিণত বয়স্কা মেয়েদেরকে ও পর্দানশীন মেয়েলোকদেরকে ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য বলি এবং তিনি ঋতুবতী নারীদেরকে আদেশ করেছেন তারা যেন মুসলিমদের সালাতের স্থান থেকে কিছুটা পৃথক থাকে।
১৯৪০
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্‌বায় শরীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু ‘আতিয়্যাহ্‌ (রাঃ)
আমাদেরকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়) ঈদের ময়দানে বের হওয়ার আদেশ করা হতো, এমনকি গৃহবাসিনী পর্দানশীন মহিলা ও প্রাপ্তবয়স্কা কুমারীকেও অনুমতি দেওয়া হতো। উম্মু আতিয়া বলেন, ঋতুবতী মহিলারাও বের হয়ে আসত এবং সব লোকের সাথে তাকবির পাঠ করত।