৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৮৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৮৩১
শঙ্কার (ভয়ের) সময় সালাত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জুহাইনা গোত্রের একদল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তারা আমাদের সাথে প্রচন্ড যুদ্ধে লিপ্ত হল। আমরা যখন যুহরের সালাত আদায় করলাম তখন মুশরিকরা বলল, আমরা যদি একযোগে আক্রমণ করতাম তাহলে মুসলিমদেরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতাম।জিবরীল (আঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনিও আমাদের অবহিত করেন। মুশরিকরা আরও বলেছে যে, মুসলিমদের নিকট শীঘ্রই এমন একটি সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হচ্ছে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয়।অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, ‘আসরের সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে তিনি আমাদের দুই কাতারে বিভক্ত করেন। আর মুশরিকরা আমাদের ও কেবলার মধ্যখানে অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবিরে তাহরিমা বললে আমরাও তাকবির বললাম এবং তিনি রুকু করলে আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর তিনি সিজদা করলে প্রথম কাতারটি সিজদায় গেল। অতঃপর তারা যখন দাঁড়াল তখন দ্বিতীয় কাতারটি সিজদায় গেল। অতঃপর প্রথম কাতার পিছনে সরে গেল এবং পিছনের কাতার সামনে এগিয়ে এসে প্রথম কাতারের স্থানে দাঁড়াল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবির দিলে আমরাও তাকবির দিলাম এবং তিনি রুকু করলে আমরাও রুকু করলাম। অতঃপর প্রথম কাতার তাঁর সাথে সিজদায় গেল এবং দ্বিতীয় কাতার দাঁড়িয়ে থাকল। দ্বিতীয় কাতার সিজদা করার পর সকলে বসে গেল এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। আবু যুবাইর (রহঃ) বলেন, এরপর জাবির (রাঃ) বিশেষভাবে বলেন, যেমন তোমাদের বর্তমান কালের শাসকগণ সালাত আদায় করেন।
১৮৩২
শঙ্কার (ভয়ের) সময় সালাত পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু আবূ হাসমাহ্‌ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে সালাতুল খাওফ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাদেরকে তাঁর পিছনে দুই কাতারে কাতারবন্দী করেন। তাঁর নিকটবর্তী কাতারের সাথে তিনি (ﷺ) এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাঁড়ালেন। তিনি (ﷺ) দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ যাবৎ না তাঁর পিছনের কাতার এক রাকাত সালাত আদায় করল, অতঃপর সামনে এগিয়ে আসল এবং তাঁর নিকটবর্তী দল পেছনে সরে গেল। অতঃপর তিনি (ﷺ) এদের নিয়ে আরেক রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি (ﷺ) বসে থাকলেন যতক্ষণ যাবৎ না পিছনে সরে যাওয়া কাতার এক রাকাত সালাত আদায় করল। অতঃপর তিনি (ﷺ) সালাম ফিরালেন।
১৮৩৩
শঙ্কার (ভয়ের) সময় সালাত পরিচ্ছেদ নাই
সালিহ ইবনু খাও্‌ওয়াত (রহঃ) 'যাতুর্‌ রিক্বা' যুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে সলাতুল খাওফ আদায়কারী এক সাহাবী
একটি দল কাতারবন্দী হয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করল এবং অপর দল শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত থাকল। তাঁর সাথের দলটিকে নিয়ে তিনি (ﷺ) এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরেক রাকাত আদায় করল। অতঃপর তারা সরে গিয়ে শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়াল। অতঃপর পরবর্তী দলটি এগিয়ে আসলে তিনি (ﷺ) তাদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর বসে থাকলেন এবং তারা নিজস্বভাবে আরও এক রাকাত আদায় করল।
১৮৩৪
শঙ্কার (ভয়ের) সময় সালাত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রওয়ানা হয়ে ‘যাতুর রিক্বা’ নামক স্থানে পৌঁছে গেলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা কোন ছায়াদার গাছের নিকট পৌঁছলে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য (বিশ্রামের) ছেড়ে দিতাম। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তরবারি একটি গাছের সাথে ঝুলন্ত থাকা অবস্থায় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে তাঁর তরবারি হস্তগত করে তা কোষমুক্ত করল। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলল, তুমি কি আমাকে ভয় কর? তিনি বললেন: না। সে বলল, কে তোমাকে আমার (আক্রমণ) থেকে রক্ষা করবে? তিনি বললেন: আল্লাহ আমাকে তোমার থেকে রক্ষা করবে। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীরা লোকটিকে হুমকি দিলে সে তরবারিটা খাপের মধ্যে ঢুকিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সালাতের জন্য আজান দেয়া হলে তিনি (ﷺ) এক দলের সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এ দলটি পিছনে সরে গেল এবং তিনি (ﷺ) অপর দলের সাথে আরো দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হল চার রাকাত এবং লোকদের হল দুই রাকাত।
১৮৩৫
শঙ্কার (ভয়ের) সময় সালাত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাযিঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাতুল খাওফ আদায় করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুই দলের একটির সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন, অতঃপর অপর দলের সাথে দুই রাকাত আদায় করলেন। অতএব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আদায় করলেন চার রাকাত এবং অন্য সকলে আদায় করলেন দুই রাকাত।
১৮৩৬
জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে এবং এ সম্পর্কে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কেউ জুমার সালাতে আসতে মনস্থ করলে সে যেন গোসল করে।
১৮৩৭
জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে এবং এ সম্পর্কে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জুমু‘আর সালাতে যায় সে যেন গোসল করে।
১৮৩৮
জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে এবং এ সম্পর্কে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
১৮৩৯
জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে এবং এ সম্পর্কে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি ..... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
১৮৪০
জুমু‘আর দিনে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত পুরুষের ওপর গোসল করা ওয়াজিব প্রসঙ্গে এবং এ সম্পর্কে যা নির্দেশ দেয়া হয়েছে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদা জুমার দিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) জনগণের উদ্দেশে খুতবা দিচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের মধ্যকার এক ব্যক্তি প্রবেশ করলে উমর (রাঃ) তাকে ডেকে বললেন, এটা কোন সময়? তিনি বলেন, আমি আজ খুব ব্যস্ত ছিলাম এবং বাড়িতে যাওয়ার অবসর পাইনি। এমতাবস্থায় আজান শুনতে পেলাম। তাই আমি ওজুর অতিরিক্ত কিছুই করতে পারিনি। উমর (রাঃ) বলেন, শুধু ওজুও চলে, তবে তুমি জানো যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) গোসল করার নির্দেশ দিতেন।