৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৮০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭৯১
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গিফার গোত্রের জলাশয়ের (কূপের) নিকট ছিলেন। তখন জিবরীল (আঃ) তাঁর নিকট এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি আপনার উম্মতকে এক হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। নিশ্চয় আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না।জিবরীল (আঃ) তৃতীয়বার এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মতকে তিন হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ান। নিশ্চয় আমার উম্মত এতে সমর্থ হবে না। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা প্রার্থনা করি। জিবরীল (আঃ) চতুর্থবার তাঁর নিকট এসে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনি যেন আপনার উম্মতকে সাত হরফে (পদ্ধতিতে) কুরআন শিক্ষা দেন। তারা এর যে কোন একটি পদ্ধতিতে পাঠ করলে তা যথার্থ হবে।
১৭৯২
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
শু'বাহ্ (রাযিঃ)
একই সনদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
১৭৯৩
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)
নাহীক ইবনু সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলেন, “হে আবদুর রহমানের পিতা! নিম্নোক্ত শব্দটি আপনি কিভাবে পড়েন, ‘আলিফ’ সহযোগে না ‘ইয়া’ সহযোগে, অর্থাৎمِنْ مَاءٍ غَيْرِ آسِنٍ অথবা مِنْ مَاءٍ غَيْرِ يَاسِنٍ বর্ণনাকারী আবূ ওয়াইল (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, “এ শব্দটি ছাড়া তুমি কি কুরআনের সবটুকু আয়ত্ত করে ফেলেছ?” সে বলল, “আমি তো মুফাসসাল (সূরাসমূহ) এক রাকাতে পড়ি।” আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, “দ্রুত গতিতে অর্থাৎ কবিতা পড়ার ন্যায় দ্রুত গতিতে? কোন কোন লোক কুরআন পড়ে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করে না। বরং (সুষ্ঠুভাবে পড়লে) তা যখন অন্তরে প্রবেশ করে তখন তা হৃদয়ে বদ্ধমূল হয় এবং উপকারে আসে। সালাতের মধ্যে রুকু-সিজদা হল সর্বাধিক ফজিলতপূর্ণ। আমি অবশ্যই জানি যে, এই দৃষ্টান্তটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেখে গেছেন। তিনি প্রতি রাকাতে দুইটি সূরা মিলিয়ে পড়তেন।” অতঃপর আবদুল্লাহ (রাঃ) উঠে দাঁড়ান, আলকামা (রহঃ)-ও তার পিছনে পিছনে প্রবেশ করেন। অতঃপর তিনি বের হয়ে এসে বলেন, “আবদুল্লাহ (রাঃ) এ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন।” ইবনু নুমাইর-এর রিওয়ায়াতে আছে: বাজিলা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এলো। তার এ বর্ণনায় "নাহীক ইবনু সিনান" নাম উল্লেখ করেননি।
১৭৯৪
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)
নাহীক ইবন সিনান নামে কথিত জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এলো... (পূর্ববর্তী সানাদের) ওয়াকী (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় আছেঃ 'আলকামা (রহঃ) তার নিকট প্রবেশের জন্য এলেন। আমরা তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি রাকাতে যে সূরা পড়তেন তার দৃষ্টান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি তার নিকট প্রবেশ করে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, অতঃপর আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কুরআন সংকলনের বিশটি মুফাসসাল সূরা (সূরা ক্বাফ থেকে পরবর্তী সূরা সমূহ)।
১৭৯৫
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
আ'মাশ (রহঃ)
পূর্বোক্ত দুইজন এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আরো আছে, আমি অবশ্যই সে দৃষ্টান্তগুলো জানি যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতেন। প্রতি রাকাতে দুইটি করে সূরা, এভাবে দশ রাকাতে বিশটি সূরা।
১৭৯৬
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)
একদা আমরা ফজরের সালাত আদায় করার পর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমরা দরজার নিকট এসে সালাম করলে তিনি আমাদেরকে (ভিতরে প্রবেশের) অনুমতি দিলেন। আমরা কিছুক্ষণ দরজায় থেমে থাকলাম। তখন বাঁদী বের হয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি তাসবিহ পড়ছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অনুমতি দেয়ার পরও তোমাদের প্রবেশে কী বাধা ছিল? আমরা বললাম না, তেমন কোন বাধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়তো ঘরের মধ্যে কে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বললেন, তুমি উম্মু আবদের পুত্রের পরিবার সম্পর্কে অলসতার ধারণা করলে।বর্ণনাকারী বললেন, অতঃপর তিনি তাসবিহ পাঠে রত হলেন, শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাঁদী দেখ, সূর্য উদিত হল কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবিহ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাঁদী! দেখ তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? সে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এ দিনটি আমাকে ফেরত দিয়েছেন, অধস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ "এবং আমাদের অপরাধের কারণে আমাদের ধ্বংস করেননি।"বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের একজন বলল, গত রাতে আমি (সালাতে) মুফাসসাল সূরা সম্পূর্ণটা পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কবিতা পাঠের মত দ্রুত আমরা অবশ্যই কুরআনের সূরাসমূহের পাঠ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব সূরা (সালাতে) পড়তেন আমি সেসব সূরা মুখস্ত করে রেখেছিঃ মুফাসসাল সূরাসমূহ থেকে আঠারো সূরা এবং হা-মীম গ্রুপের দুইটি সূরা।
১৭৯৭
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
শাক্বীক্ব (রহঃ)
বজীলা গোত্রের নাহীক ইবন সিনান নামক জনৈক ব্যক্তি আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, “আমি এক রাকাতে মুফাসসাল সূরা পড়ে থাকি।” আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, “কবিতা আবৃত্তির মতো দ্রুত গতিতে সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব সূরা পড়তেন তার দৃষ্টান্তসমূহ আমার জানা আছে। তিনি প্রতি রাকাতে দুইটি সূরা পড়তেন।”
১৭৯৮
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক'আতে দু' বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
আম্‌র ইবনু মুর্‌রাহ (রহঃ)
তিনি আবু ওয়ায়েল (রহঃ)-কে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, জনৈক ব্যক্তি ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আমি আজ রাতে সমস্ত মুফাসসাল সূরা সালাতের এক রাকাতে পড়েছি। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কবিতা আবৃত্তির ন্যায় দ্রুত গতিতে। আবদুল্লাহ (রাঃ) আরো বলেন, আমি অবশ্যই সেসব দৃষ্টান্ত অবহিত আছি, যেসব সূরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একত্রে মিলিয়ে পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মুফাসসাল সূরাগুলো থেকে বিশটি সূরার উল্লেখ করলেন, যার দু’টি করে সূরা প্রতি রাকাতে পড়া হতো।
১৭৯৯
ক্বিরাআত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
আসওয়াদ ইবন ইয়াজিদ (রাঃ) মসজিদের মধ্যে কুরআন শিক্ষাদানরত অবস্থায় আমি জনৈক ব্যক্তিকে তার নিকট জিজ্ঞেস করতে দেখলাম যে, সে বলল, আপনি فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ আয়াত কিভাবে পড়েন- مُدَّكِرٍ শব্দে ‘দাল’ হরফ সহযোগে অথবা مُذكِرٍ ‘যাল’ হরফ সহযোগে? তিনি বলেন, বরং مُدَّكِرٍ ‘দাল’ সহযোগে।
১৮০০
ক্বিরাআত সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ শব্দটি পড়তেন।