৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৭৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭৮১
কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুই প্রকারের লোক ছাড়া কারো সাথে ঈর্ষা পোষণ করা যায় না। এক প্রকারের লোক হল- যাকে আল্লাহ অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন এবং হক পথে তা ব্যয় করার তাওফিক তাকে দিয়েছেন। আর অন্য ব্যক্তি হল যাকে আল্লাহ তা’আলা ‘হিকমা’ বা সঠিক জ্ঞান দান করেছেন। সে তদনুযায়ী কাজ করে এবং তা অন্যদের শিক্ষা দেয়।
১৭৮২
কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্‌ (রহঃ)
নাফি ইবন আবদুল হারিস (রাঃ) 'উসফান' নামক স্থানে উমর (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। উমর (রাঃ) তাকে মক্কায় (রাজস্ব আদায়কারী) নিয়োগ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন : তুমি প্রান্তরবাসীদের জন্য কাকে কাজে নিয়োগ করেছ? সে বলল- ইবন আবজা-কে।উমর (রাঃ) বললেন, ইবন আবজা কে? সে (নাফি) বলল, আমাদের আজাদকৃত ক্রীতদাসদের একজন। উমর (রাঃ) বললেন, তুমি একজন ক্রীতদাসকে তাদের জন্য তোমার স্থলাভিষিক্ত নিয়োগ করেছ? নাফি বললেন- সে (ক্রীতদাসটি) মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কিতাবের একজন ভাল কারী বা ‘আলিম। আর সে ফারায়েজ শাস্ত্রেও অভিজ্ঞ।তখন উমর (রাঃ) বললেনঃ তোমাদের নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা এ কিতাব দ্বারা অনেক জাতিকে মর্যাদায় উন্নীত করেন আর অন্যদের অবনতি করেন। অর্থাৎ যারা এ কিতাবের অনুসারী হবে তারা দুনিয়ায় মর্যাদাবান এবং আখিরাতে জান্নাত লাভ করবে। আর যারা একে অস্বীকার করবে তারা দুনিয়ায় লাঞ্ছিত ও পরকালে জাহান্নামে পতিত হবে।
১৭৮৩
কুরআন অধ্যয়ন ও শিক্ষায় নিমগ্ন ব্যক্তির ফযীলাত এবং যে ব্যক্তি ফিক্‌হ ইত্যাদির সূক্ষ্মজ্ঞান আহরণ করে তদনুসারে (নেক) 'আমাল করে ও শিক্ষা দেয় তার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্‌ আল লায়সী (রহঃ)
নাফি ইবন আবদুল হারিস আল খুযাঈ (রাঃ) 'উসফান' নামক স্থানে উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। ..... এভাবে তিনি যুহরী থেকে ইব্রাহীম ইবনু সা’দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
১৭৮৪
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু 'আবদুল ক্বারী (রহঃ)
আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি যেভাবে সূরা আল ফুরকান তিলাওয়াত করি হিশাম ইবন হাকিম ইবন হিজাম (রাঃ)-কে অন্যভাবে তিলাওয়াত করতে শুনলাম। অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ সূরাটি আমাকে এভাবে পড়িয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ আমি তাকে বাধা দিতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই আবার তাকে পড়ে শেষ করার অবকাশ দিলাম।তারপর তাকে গলায় চাদর জড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে গিয়ে বললাম : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে যেভাবে সূরা আল ফুরকান পড়তে শিখিয়েছিলেন এ লোকটি তার থেকে ভিন্ন রকম করে সূরাটি পড়তে শুনেছি। এ কথা শুনে তিনি বললেনঃ তাকে ছেড়ে দাও। তারপর তাকে লক্ষ্য করে বললেন—তুমি পড়। তখন সে আবার সেভাবে পড়ল যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনেছিলাম। তারপর পড়ার পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি পড়। সুতরাং আমি পড়লেও তিনি বললেনঃ এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে যতটুকু যেভাবে তোমাদের কাছে সহজ সেভাবেই পড়।
১৭৮৫
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাযিঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় হিশাম ইবন হাকিম (ইবন হিযাম)-কে সূরা আল ফুরকান পড়তে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি পরের অংশটুকু পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে এতটুকু কথা অতিরিক্ত আছে, আমি তাকে সালাতের মধ্যেই বাধা দিতে যাচ্ছিলাম। অবশেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করলাম।
১৭৮৬
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
ইউনুস (রহঃ) থেকে সানাদসহ হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৭৮৭
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরীল (আঃ) আমাকে একটি রীতিতে কুরআন মাজীদ পড়ালে আমি তা পড়ে নিলাম। আমি তার কাছে অতিরিক্ত চাইলে তিনি অতিরিক্ত বা অন্য রীতিতে পড়ে শুনাতেন। এভাবে তিনি সাত সাতটি রীতি বা আঞ্চলিক নিয়মে আমাকে কুরআন মাজীদ পড়ে শুনিয়েছেন।ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমি এ মর্মে অবহিত হয়েছি যে, এ সাতটি পদ্ধতি, রীতি বা নিয়মে কুরআন মাজীদ পড়ার কারণে হালাল হারামের ব্যাপারে কোন পার্থক্য সৃষ্টি হয় না বরং তা একই থাকে।
১৭৮৮
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
একই সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
১৭৮৯
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
উবাই ইবনু কা'ব (রাযিঃ)
আমি মসজিদে থাকা অবস্থায় জনৈক ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করে সালাত শুরু করল। সে এমন পদ্ধতিতে কিরাআত পড়ল যা আমার নিকট অভিনব মনে হল। অতঃপর আরেক ব্যক্তি প্রবেশ করে আগের ব্যক্তি থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরাআত পড়ল।আমরা সালাত শেষ করে সকলে নবী (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করলাম। আমি বললাম, এ ব্যক্তি এমন (পদ্ধতিতে) কিরাআত পড়েছে, যা আমার নিকট অভিনব মনে হয়েছে। অতঃপর আরেকজন প্রবেশ করে তার পূর্ববর্তী জনের থেকে ভিন্নতর (পদ্ধতিতে) কিরাআত পড়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়ের কিরাআত সম্পর্কে উত্তম মন্তব্য করলেন। এতে আমার মনে মিথ্যা অবিশ্বাসের উদ্রেক হল, এমনকি জাহিলিয়া যুগেও এমন তীব্র অবিশ্বাসের উদ্রেক হয়নি।আমাকে যে চিন্তা আচ্ছন্ন করেছিল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে আমার বক্ষস্থলে আঘাত করলেন। এতে আমি ঘর্মাক্ত হয়ে পড়লাম। যেন আমি ভীত-বিহ্বল হয়ে মহামহিম আল্লাহর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে উবাই! আমার নিকট বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, আমি যেন এক হরফে (উচ্চারণ পদ্ধতিতে) কুরআন পড়ি। আমি অনুরোধ করে বললাম, আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। আমাকে প্রত্যুত্তরে বলা হল, তা দুই হরফে (পদ্ধতিতে) পড়ুন। আমি তাঁকে পুনরায় অনুরোধ করলাম যে, আমার উম্মতের প্রতি সহজসাধ্য করুন। তৃতীয়বারে আমাকে বলা হল, তা সাত হরফে (পদ্ধতিতে) পাঠ করুন এবং আমার এ সাতবারের প্রতিবার প্রত্যুত্তরের পরিবর্তে আপনার জন্য একটি করে কিছু আমার নিকট প্রার্থনা করতে পারেন (যা আমি কবুল করব)।আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আমার উম্মতকে ক্ষমা করুন। আর তৃতীয় প্রার্থনাটি আমি সেদিনের জন্য স্থগিত করে রেখেছি, যেদিন সমগ্র সৃষ্টি, এমনকি ইব্রাহিম (আঃ) পর্যন্ত আমার প্রতি আগ্রহান্বিত হবেন।
১৭৯০
কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হওয়ার বিবরণ ও এর যথার্থতা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবূ লায়লা (রহঃ)
আমাকে উবাই ইবনু কাউব (রাঃ) অবহিত করেছেন যে, তিনি মসজিদে উপবিষ্ট থাকাবস্থায় জনৈক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল। তিনি এমন এক পদ্ধতিতে কিরাত পড়লেন... বর্ণনাকারী সংক্ষেপে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।