৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭১
শিরক না করা অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, মুশরিক অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জাহান্নামী পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক না করে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তাঁর সম্মুখে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, সে আল্লাহর সাথে শরীক স্থির করে, তাহলে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
১৭২
শিরক না করা অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, মুশরিক অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জাহান্নামী পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, যার পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
১৭৩
শিরক না করা অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, মুশরিক অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জাহান্নামী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, জিবরীল (আঃ) আমার নিকট এসে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের যে কেউ শিরক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি (আবূ যার) বললাম, যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে। তিনি বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে।
১৭৪
শিরক না করা অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, মুশরিক অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জাহান্নামী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং তাঁর গায়ের উপর একখানা সাদা চাদর ছিল। আবার এসে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। পরে আবার এসে দেখি, তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন। আমি তাঁর নিকটে বসলাম। তারপর তিনি বললেন, যে কোন বান্দা (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) বলবে এবং এ বিশ্বাসের উপর মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি আরয করলাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? রসূল (ﷺ) বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে। এ কথাটি তিন তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হলো। চতুর্থবারে রসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, যদিও আবূ যার-এর নাক ধূলিমলিন হয়, (অর্থাৎ আবূ যার-এর অপছন্দ হলেও)। রাবী বলেন, আবূ যার (রাঃ) এ কথা বলতে বলতে বের হলেন, যদিও আবূ যার-এর নাক ধূলিমলিন হয়।
১৭৫
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ)
আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার মত কি? যদি আমি কোন কাফিরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হই, আর সে আমার উপর আক্রমণ করে তরবারি দ্বারা আমার এক হাত কেটে ফেলে, অতঃপর সে এক বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে আমার আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষা করে এবং বলে যে, ‘আমি আল্লাহর জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি’। হে আল্লাহর রসূল! তার এ কথা বলার পর আমি কি তাকে হত্যা করবো? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! সে তো আমার একটি হাত কেটে ফেলেছে আর এটা কাটার পরই সে ঐ কথা বলেছে? এমতাবস্থায় আমি কি তাকে হত্যা করবো? এবারও রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা যদি তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে তাকে হত্যা করার পূর্বে তুমি যে অবস্থায় ছিলে, সে তোমার সে অবস্থায় এসে যাবে এবং ঐ কালিমা বলার পূর্বে সে যে অবস্থায় ছিল, তুমি সে অবস্থায় এসে যাবে।
১৭৬
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
এ সানাদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে আওযাঈ ও ইবনু জুরাইজ তাদের হাদিসে বলেন, সে লোকটি বলেছিল, "আমি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ইসলাম গ্রহণ করলাম", যেমন পূর্বোক্ত হাদিসে লাইস বর্ণনা করেছেন। আর মা'মার বর্ণিত হাদিসে, "যখন আমি তাকে হত্যা করার জন্য উদ্যত হলাম তখন সে বলল", কথাটির উল্লেখ আছে।
১৭৭
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
মিকদাদ ইবনু ‘আমর ইবনু আসওয়াদ আল কিন্দী (রহঃ)
যুহরী গোত্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন এবং বদরের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! যদি আমি যুদ্ধের ময়দানে কোন কাফিরের সম্মুখীন হই। বাকী অংশ লায়স বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।
১৭৮
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এক জিহাদ অভিযানে পাঠালে আমরা প্রত্যুষে ‘জুহাইনার’ (একটি শাখা গোত্র) ‘আল-হুরাকায়’ গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময়ে আমি এক ব্যক্তির পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে ধরে ফেলি। অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলল, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কিন্তু তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। কালিমা পড়ার পর আমি তাকে হত্যা করেছি বিধায়, আমার মনে সংশয়ের উদ্রেক হলো। তাই ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি তাকে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পর হত্যা করেছো? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে অস্ত্রের ভয়ে জান বাঁচানোর জন্য এরূপ বলেছে। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, তুমি তার অন্তর চিরে দেখেছো, যাতে তুমি জানতে পারলে যে, সে এ কথাটি ভয়ে বলেছিল? (রাবী বলেন), তিনি এ কথাটি বার বার আবৃত্তি করতে থাকলেন। আর আমি মনে মনে অনুশোচনা করতে লাগলাম, ‘হায়! যদি আমি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম! বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো কোনো মুসলিমকে হত্যা করব না, যেভাবে এ ভুঁড়িওয়ালা (উসামা) মুসলিমকে হত্যা করেছে। রাবী বলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ তা’আলা কি এ কথা বলেননি যে, “তোমরা তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে জিহাদ করো, যে পর্যন্ত ফিতনা দূরীভূত না হয়, আর আল্লাহর দ্বীন পরিপূর্ণ না হয়ে যায়? এর জবাবে সা’দ (রাঃ) বললেন, আমরা জিহাদ করি, যাতে ফিতনা না থাকে, কিন্তু তুমি আর তোমার সঙ্গীগণ এ উদ্দেশ্যে যুদ্ধ কর, যাতে ফিতনা সৃষ্টি হয়।
১৭৯
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ ইবনু যায়দ ইবনু হারিসাহ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) জুহাইনা গোত্রের হুরাকা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের পাঠালেন। আমরা খুব ভোরে সে সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ করলাম এবং তাদের পরাজিত করলাম। আমি এবং একজন আনসার এক ব্যক্তির পিছু নিলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলল, "লা-ইলা-হা ইল্লাল-লাহ"। আনসার তার মুখে “লা-ইলা-হা ইল্লাল-লাহ” কালিমা শুনে নিবৃত্ত হলেন। কিন্তু আমি তাকে বল্লম দ্বারা এমন আঘাত করলাম যে, তাকে মেরেই ফেললাম।আমরা যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে ফিরে এলে নবী (ﷺ)-এর নিকট এ খবরটি পৌঁছলো। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, ‘হে উসামা! তুমি কি তাকে “লা-ইলা-হা ইল্লাল-লাহ” বলার পরেও হত্যা করে ফেলেছো? আমি আরয করলাম ‘হে আল্লাহর রসূল! সে ব্যক্তি তো আত্মরক্ষার জন্য এ কথা বলেছিল। রসূল (ﷺ) আবার বললেন, তুমি কি তাকে “লা-ইলা-হা ইল্লাল-লাহ” বলার পরেও হত্যা করেছো? এভাবে রসূলুল্লাহ (ﷺ) বার বার আমার প্রতি এ কথা বলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে এ আকাঙ্ক্ষা উদয় হলো যে, হায়! আজকে এ দিনের আগে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম।
১৮০
যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
জুনদাব ইবনু ‘আবদুল্লাহ আল বাজালী (রাঃ)
তিনি আবদুল্লাহ ইবন যুবাইর-এর ফিতনার যুগে আসআস ইবন সালামাকে বলে পাঠালেন যে, তুমি তোমার কিছু বন্ধুকে আমার জন্য একত্র করবে, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। আসআস তাদের কাছে লোক পাঠালেন। তারা যখন সমবেত হলো, জুনদাব তখন হলুদ বর্ণের বুরনুস (এক ধরনের টুপি) পরে উপস্থিত হলেন এবং বললেন, তোমরা আগের মত কথাবার্তা বলতে থাক। এক পর্যায়ে যখন জুনদাব বললেন, তখন তিনি তাঁর মাথার বুরনুসটি নামিয়ে ফেললেন। বললেন আমি তোমাদের নিকট এসেছি। আমি তোমাদের কাছে নবী (ﷺ)-এর কিছু হাদিস বর্ণনা করতে চাই।তা হলো, রসুলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের একটি বাহিনী মুশরিক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পাঠালেন। উভয় দল পরস্পর সম্মুখীন হলো এবং মুশরিক বাহিনীতে এক ব্যক্তি ছিল। সে যখন কোন মুসলিমকে হামলা করতে ইচ্ছা করত, সে তাকে লক্ষ্য করে ঝাপিয়ে পড়ত এবং শহীদ করে ফেলত। একজন মুসলিম তার অসতর্ক মুহূর্তের অপেক্ষা করতে লাগলেন। জুনদাব বলেন আমাদের বলা হলো যে, সে ব্যক্তি ছিলেন উসামা ইবন যায়দ (রাঃ)। তিনি যখন তার উপর তলোয়ার উত্তোলন করলেন তখন সে বলল, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ। তবুও উসামা (রাঃ) তাকে হত্যা করলেন।দূত যুদ্ধে জয়লাভের সুসংবাদ নিয়ে নবী (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হলো। তিনি তার যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। সে সব ঘটনাই বর্ণনা করে, এমনকি সে ব্যক্তির ঘটনাটিও বলল যে, তিনি কি করেছিলেন। নবী (ﷺ) উসামাকে ডেকে পাঠালেন এবং প্রশ্ন করলেন, তুমি সে ব্যক্তিকে হত্যা করলে কেন?উসামা (রাঃ) বললেন হে আল্লাহর রসূল! সে অনেক মুসলিমকে আঘাত করেছে এবং অমুক অমুককে শহীদ করে দিয়েছে। এ বলে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করলেন। আমি যখন তাকে আক্রমণ করলাম এবং সে তলোয়ার দেখল অমনি বলে উঠল, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ।রসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে মেরে ফেললে? তিনি বললেন: জি হ্যাঁ। রসুল (ﷺ) বললেন কেয়ামতের দিবসে যখন সে (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তিনি আরজ করলেন: ইয়া রসুলুল্লাহ! আমার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করুন। রসুল (ﷺ) বললেন, কেয়ামতের দিন যখন সে (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তারপর তিনি কেবল এ কথাই বলছিলেন, কেয়ামতের দিন যখন (কালিমা) নিয়ে আসবে তখন তুমি কি করবে? তিনি এর অতিরিক্ত কিছু বলেন নি।