৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৭৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭৫১
বিশিষ্ট ও দক্ষ লোকদেরকে কুরাআন তিলাওয়াত করে শোনানো মুস্তাহাব, তিলাওায়াতকারী শ্রোতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেও পরিচ্ছেদ নাই
ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
আমি আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে অনুরূপ বলেছেন।
১৭৫২
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযিঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে কুরআন পাঠ করে শোনাব? কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ অন্যের নিকট থেকে আমার কুরআন শুনতে ভালো লাগে। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন- তাই এরপর আমি সূরা আন নিসা পাঠ করলাম। যখন আমি এ আয়াত فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا‏ ‘হে নবী! একটু চিন্তা করুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করব’ (সূরা আন নিসা ৪:৪১)। তিলাওয়াত করা হলে আমি মাথা উঠালাম অথবা কেউ আমার পার্শ্বদেশ স্পর্শ করে ইঙ্গিত দিলে মাথা উঠালাম এবং দেখতে পেলাম রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (চোখ থেকে) অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
১৭৫৩
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা। পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
এই একই সনদে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে হান্নাদ তার বর্ণনায় এ কথা বৃদ্ধি করেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় একদিন আমাকে বললেন: আমাকে কুরআন পাঠ করে শোনাও।
১৭৫৪
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা। পরিচ্ছেদ নাই
ইব্‌রাহীম (রহঃ
একদিন নবী (ﷺ) আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-কে বললেনঃ তুমি আমাকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাও। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) বললেন- আমি আপনাকে কুরআন পড়ে শোনাব? অথচ কুরআন তো আপনার প্রতিই অবতীর্ণ হয়েছে। তিনি বললেনঃ আমি অন্যের মুখ থেকে কুরআন পাঠ শুনতে ভালোবাসি। হাদিস বর্ণনাকারী ইব্রাহিম বলেনঃ অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ) সূরা আন্ নিসার প্রথম থেকে فَكَيْفَ إِذَا جِئْنَا مِنْ كُلِّ أُمَّةٍ بِشَهِيدٍ وَجِئْنَا بِكَ عَلَى هَؤُلاَءِ شَهِيدًا “হে নবী! একটু ভেবে দেখুন তো সে সময় এরা কী করবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্য থেকে একজন করে সাক্ষী হাজির করব, আর এসব লোকের জন্য আপনাকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করব”- (সূরা আন্ নিসা ৪ : ৪১) এ আয়াত পর্যন্ত তাকে পড়ে শোনালেন। এতে তিনি (ﷺ) কেঁদে ফেললেন। বর্ণনাকারী মিসআর বলেছেনঃ মা'ন আমার কাছে হাদিসটি জাফর ইবনু আমর ইবনু হুরাইস তার পিতা হুরাইস-এর মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এ আয়াত পাঠের পর নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি যতক্ষণ তাদের মধ্যে আছি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য সাক্ষী। কিংবা বর্ণনাকারী মিসআরের সন্দেহ যে, তিনি বলেছেন, “যতক্ষণ তাদের মাঝে ছিলাম”।
১৭৫৫
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা। পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাযিঃ)
(এক সময়) আমি হিমসে ছিলাম। একদিন কিছু সংখ্যক লোক আমাকে বলল, আমাদেরকে কুরআন তিলাওয়াত করে শুনান। আমি তাদেরকে সূরা ইউসুফ পাঠ করে শুনালাম।এমন সময় সবার মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি বলে উঠলঃ আল্লাহর শপথ! সূরাটি এরূপ অবতীর্ণ হয়নি।আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি তাকে বললাম- তোমার জন্য দুঃখ। আল্লাহর শপথ, এ সূরাটি আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পড়ে শুনিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেনঃ ‘খুব সুন্দর পড়েছ’।এভাবে তখনও আমি তার (লোকটির) সাথে কথা বলছিলাম। এ অবস্থায় আমি তার মুখ থেকে শরাবের গন্ধ পেলাম। আমি তাকে বললাম- তুমি শরাব পান করে আল্লাহর কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চাও? আমার হাতে কোঁড়া না খেয়ে তুমি এখান থেকে যেতে পারবে না। অতঃপর আমি তাকে কোঁড়া মেরে শরাব পানের শাস্তি দিলাম।
১৭৫৬
কুরআন তিলাওয়াত শোনার ফযীলাত, তিলাওয়াত শোনার জন্য হাফিযুল কুরআনকে তিলাওয়াত করার অনুরোধ ও তিলাওয়াতকালে ক্রন্দন এবং মনোনিবেশ করা। পরিচ্ছেদ নাই
ইসহাক্ব ইবনু ইব্রাহীম, ‘আলী ইবনু খশ্‌রাম, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ ও আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... সকলেই আ’মাশ (রহঃ)
একই সনদে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে আবু মু‘আবিয়া বর্ণিত হাদিসে তিনি আমাকে বললেন: ‘খুব সুন্দর হয়েছে’ কথাটির উল্লেখ নেই।
১৭৫৭
সালাতে কুরআন তিলাওয়াত এবং কুরআন শিক্ষা করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ কি চায় যে, যখন বাড়ি ফিরবে তখন বাড়িতে গিয়ে তিনটি বড় বড় মোটাতাজা গর্ভবতী উটনী দেখতে পাবে? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তোমরা কেউ সালাতে তিনটি আয়াত পড়লে তা তার জন্য তিনটি মোটাতাজা গর্ভবতী উটনীর চেয়ে উত্তম।
১৭৫৮
সালাতে কুরআন তিলাওয়াত এবং কুরআন শিক্ষা করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
উক্ববাহ্‌ ইবনু ‘আমির (রাযিঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন। তখন আমরা সুফা বা মসজিদের চত্বরে অবস্থান করছিলাম। তিনি বললেন: তোমরা কেউ চাও যে, প্রতিদিন “বুত্বহান” বা আক্বীক্বের বাজারে যাবে এবং সেখান থেকে কোন পাপ বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা ছাড়াই বড় কুঁজ বা চুঁটবিশিষ্ট দুইটি উটনী নিয়ে আসবে?আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা এরূপ চাই। তিনি বললেন তাহলে কি তোমরা কেউ মসজিদে গিয়ে আল্লাহর কিতাবের দুইটি আয়াত শিখবে না কিংবা পাঠ করবে না? এটা তার জন্য ঐরূপ দুইটি উটনীর চেয়েও উত্তম। এরূপ তিনটি আয়াত তিনটি উটনীর চেয়েও উত্তম এবং চারটি আয়াত চারটি উটনীর চেয়েও উত্তম। আর অনুরূপ সমসংখ্যক উটনীর চেয়ে তত সংখ্যক আয়াত উত্তম।
১৭৫৯
কুরআন তিলাওয়াত এবং সূ্রাহ্ আল বাক্বারাহ্ তিলাওয়াতের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ উসামাহ্ আল বাহিলী (রাযিঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা কুরআন পাঠ কর। কারণ কেয়ামতের দিন তার পাঠকারীর জন্য সে শাফা’আতকারী হিসেবে আসবে। তোমরা দুইটি উজ্জ্বল সূরা অর্থাৎ সূরা আল বাকারা এবং সূরা আল ইমরান পড়। কেয়ামতের দিন এ দুইটি সূরা এমনভাবে আসবে যেন তা দুই খণ্ড মেঘ অথবা দুইটি ছায়াদানকারী অথবা দুই ঝাঁক উড়ন্ত পাখি যা তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে কথা বলবে। আর তোমরা সূরা আল বাকারা পাঠ কর। এ সূরাটিকে গ্রহণ করা বরকতের কাজ এবং পরিত্যাগ করা পরিতাপের কাজ। আর বাতিলের অনুসারীগণ এর মোকাবেলা করতে পারে না। হাদীসটির বর্ণনাকারী আবু মু’আবিয়াহ বলেছেন- আমি জানতে পেরেছি যে, বাতিলের অনুসারী বলে যাদুকরদের বলা হয়েছে।
১৭৬০
কুরআন তিলাওয়াত এবং সূ্রাহ্ আল বাক্বারাহ্ তিলাওয়াতের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মু’আবিয়াহ্ (রহঃ)
একই সনদে হাদীসটি অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি (তুলনায়) উভয় স্থানে ‘এবং সে দুইটি যেন’ বলেছেন এবং তিনি মুআবিয়া (রহঃ)-এর উক্ত ‘আমার কাছে তথ্য পৌঁছেছে’... উল্লেখ করেননি।