৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৭৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭৪১
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ‘সাকীনাহ্‌’ বা প্রশান্তি অবতরণ পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাযিঃ)
জনৈক ব্যক্তি সূরা আল কাহফ পড়ছিল। সে সময় তাঁর কাছে মজবুত লম্বা দুইটি রশি দিয়ে একটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। এ সময় একখণ্ড মেঘ তাঁর মাথার উপরে হাজির হল। মেঘখণ্ডটি ঘুরছিল এবং নিকটবর্তী হচ্ছিল। এ দেখে তার ঘোড়াটি ছুটে পালাচ্ছিল। সকাল বেলা সে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে ঐ বিষয়টি বর্ণনা করল। এসব কথা শুনে তিনি বললেন: এটি ছিল (আল্লাহর তরফ থেকে) রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের কারণে অবতীর্ণ হয়েছিল।
১৭৪২
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ‘সাকীনাহ্‌’ বা প্রশান্তি অবতরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
আমি বারা ইবনু আজিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, জনৈক ব্যক্তি সূরা আল কাহফ পড়ছিল। তখন লোকটি দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাঁকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আজিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ হে অমুক! তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমত বা প্রশান্তি যা কুরআন তিলাওয়াতের কারণে বা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল।
১৭৪৩
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ‘সাকীনাহ্‌’ বা প্রশান্তি অবতরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
আমি বারা ইবনু আজিব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। এতটুকু বর্ণনা করার পর উভয়েই পূর্ব বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা تَنْقُزُ শব্দ উল্লেখ করেছেন।
১৭৪৪
কুরআন তিলাওয়াতের সময় ‘সাকীনাহ্‌’ বা প্রশান্তি অবতরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাযিঃ)
একরাতে উসাইদ ইবন হুযাইর (রাঃ) তাঁর ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তাঁর ঘোড়া লাফঝাঁপ দিতে শুরু করল। তিনি (কিছুক্ষণ পর) পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাঁপ দিতে শুরু করল। (কিছুক্ষণ পর) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল।উসাইদ ইবন হুযাইর (রাঃ) বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহিয়া কে পদপৃষ্ঠ করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মত কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মত জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না।পরদিন সকালে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন মাজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়াটি হঠাৎ লাফঝাঁপ দিতে শুরু করল।এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ইবন হুযাইর! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহিয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মত কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মত কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল।রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব শুনে বললেনঃ ওসব ছিল মালায়িকা (ফেরেশতাগণ)। তারা তোমার কুরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তারা থাকত। আর লোকজন তাদেরকে দেখতে পেত। তারা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না।
১৭৪৫
হাফিযুল (মুখস্থকারী) কুরআনের মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে মুমিন আল কুরআন মাজীদ পাঠ করে তার উদাহরণ হলো কমলালেবু যা স্বাদে ও গন্ধে উত্তম। আর যে মুমিন আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো খেজুর যার সুগন্ধি না থাকলেও স্বাদে মিষ্ট। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে তার উদাহরণ হলো রায়হানা ফুল যার সুগন্ধ আছে এবং স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক আল কুরআন পাঠ করে না তার উদাহরণ হলো হানজালা (মাকাল) যার কোন সুগন্ধ নেই এবং স্বাদও খুব তিক্ত।
১৭৪৬
হাফিযুল (মুখস্থকারী) কুরআনের মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
হাদ্দাব ইবনু খালিদ, মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না (রহঃ) ..... উভয়ে ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
একই সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তবে হাম্মাম বর্ণিত হাদিসে الْمُنَافِقِ শব্দটিকে الْفَاجِرِ শব্দ দ্বারা বদল করা হয়েছে।
১৭৪৭
কুরআন শিক্ষায় অভিজ্ঞ ও যে তা ঠেকে ঠেকে অধ্যয়ন করে তাদের মর্যাদা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাযি)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কুরআন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঐসব ফেরেশতাগণের সাথে থাকবে যারা আল্লাহর অনুগত, মর্যাদাবান এবং লেখক। আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেন এবং তার জন্য কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও বারবার পড়েন সে ব্যক্তির জন্য দুইটি পুরস্কার নির্দিষ্ট আছে।
১৭৪৮
কুরআন শিক্ষায় অভিজ্ঞ ও যে তা ঠেকে ঠেকে অধ্যয়ন করে তাদের মর্যাদা। পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না, আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ..... উভয়ে ক্বাতাদাহ্ (রহঃ)
একই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ওয়াকী বর্ণিত হাদীসে এ কথাটি আছে “আর যে ব্যক্তি তার জন্য কঠোর ও কষ্টকর হওয়া সত্ত্বেও কুরআন তিলাওয়াত করে তার জন্য দুইটি পুরস্কার আছে।”
১৭৪৯
বিশিষ্ট ও দক্ষ লোকদেরকে কুরাআন তিলাওয়াত করে শোনানো মুস্তাহাব, তিলাওায়াতকারী শ্রোতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেও পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনুল মালিক (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবনু কা‘বকে লক্ষ্য করে বললেন: মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে তোমার সামনে কুরআন পড়ে শুনাতে আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবনু কা‘ব বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ তা‘আলা কি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করেছেন?রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ তা‘আলা আমার কাছে তোমার নাম উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বলেন, এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা‘ব কাঁদতে শুরু করলেন।
১৭৫০
বিশিষ্ট ও দক্ষ লোকদেরকে কুরাআন তিলাওয়াত করে শোনানো মুস্তাহাব, তিলাওায়াতকারী শ্রোতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেও পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন: মহান আল্লাহ তোমার সামনে আমাকে সূরা لَمْ يَكُنِ الَّذِينَ كَفَرُوا‏ পড়ার জন্য আদেশ করেছেন। (এ কথা শুনে) উবাই ইবন কা’ব (রাঃ) বললেন: তিনি আপনার কাছে আমার নাম উল্লেখ করে বলেছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। তিনি (হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস ইবন মালিক (রাঃ)) বলেন, এ কথা শুনে তিনি (উবাই ইবন কা’ব (রাঃ)) কেঁদে ফেললেন।