৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৭২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৭১১
নফল সালাত নিজ গৃহে আদায় করা মুস্তাহাব, মসজিদে আদায়ও জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ)
এক সময় নবী (ﷺ) চাটাই দ্বারা ঘিরে মসজিদের মধ্যে একটি কামরা বানালেন এবং কয়েক রাত পর্যন্ত সেখানে সালাত আদায় করলেন। তা দেখে কিছু লোক সেখানে সমবেত হল। এতটুকু বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী উপরে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। এর বর্ণনাতে এতটুকু অধিক বর্ণনা হয়েছে যে, এ সালাতে যদি তোমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া হত তাহলে তোমরা তা আদায় করতে সক্ষম হতে না।
১৭১২
রাতের সালাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়মিত 'আমলের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একখানা চাটাই ছিল। রাতের বেলা তিনি এ চাটাই দিয়ে একটি কামরা বানাতেন এবং তার মধ্যে সালাত আদায় করতেন। লোকজন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে এ সালাত আদায় করত এবং দিনের বেলা বিছিয়ে নিত। এক রাতে লোকজন বেশি ভিড় করলে তিনি (ﷺ) লোকজনকে সম্বোধন করে বললেনঃ “হে লোকজন! তোমরা যতটুকু আমল স্থায়ীভাবে করতে সক্ষম হবে, ততটুকু আমল করবে। কেননা আল্লাহ তোমাদের ইবাদতের সওয়াব দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমরাই ইবাদত বন্দেগি করতে করতে ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর কম হলেও আল্লাহর কাছে স্থায়ী আমল সর্বাপেক্ষা বেশি পছন্দনীয়।” (বর্ণনাকারী বলেন) মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসারী ও বংশধরেরা যে আমল করতেন, তা স্থায়ীভাবে সর্বদাই করতেন।
১৭১৩
রাতের সালাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়মিত 'আমলের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ মর্মে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, আল্লাহর কাছে কোন ধরনের আমল সবচাইতে বেশি প্রিয়। জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ কম হলেও যে আমল স্থায়ী (সে আমল আল্লাহর কাছে সবচাইতে বেশি প্রিয়)।
১৭১৪
রাতের সালাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়মিত 'আমলের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আলক্বামাহ্ (রহঃ)
আমি উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। বললামঃ হে উম্মুল মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আমল কেমন ছিল। তিনি কি কোন নির্দিষ্ট ইবাদতের জন্য কোন বিশেষ দিন নির্দিষ্ট করে নিতেন? জবাবে আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ না। তবে তাঁর আমল ছিল স্থায়ী প্রকৃতির। আর তোমাদের মধ্যে কে এমন আছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে কাজ করতে পারেন সেও সে কাজ করতে পারবে?
১৭১৫
রাতের সালাত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়মিত 'আমলের ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কাছে সেই আমল সবচেয়ে প্রিয় যা কম হলেও স্থায়ীভাবে করা হয়। হাদীসের বর্ণনাকারী কাসিম ইবনু মুহাম্মাদ বলেছেনঃ আয়িশা (রাঃ) কোন আমল শুরু করলে তা স্থায়ী ও অবশ্য করণীয় করে নিতেন।
১৭১৬
সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্‌রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে প্রবেশ করে দেখলেন মসজিদের দুইটি খুঁটির মাঝে রশি বেঁধে টানানো আছে। এ দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কিসের জন্য? সবাই বললঃ এটা যায়নাবের রশি। তিনি সালাত আদায় করতে করতে যখন ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে পড়েন তখন এ রশিটা দিয়ে নিজেকে আটকে রাখেন। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি খুলে ফেল। তোমরা সানন্দ সাগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে সালাত আদায় করবে। সালাত আদায় করতে করতে কেউ যখন ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে পড়বে তখন বসে আদায় করবে। যুহায়র বর্ণিত হাদীসে قَعَدَ শব্দ আছে যার অর্থ হলো সে যেন বসে পড়ে।
১৭১৭
সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্‌রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
১৭১৮
সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্‌রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায় পরিচ্ছেদ নাই
উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ)
নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বলেছেন যে, হাওলা বিনত তুওয়াইত ইবন হাবীব ইবন আসাদ ইবন আবদুল উয্জা একদিন তাঁর কাছে গেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন তাঁর কাছে গেলেন।আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম: এ হল হাওলা বিনত তুওয়াইত। লোকজন বলে থাকে যে, সে রাতে ঘুমায় না। অর্থাৎ সারারাত ইবাদত-বন্দেগী করে।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথায় বিস্মিত হয়ে বললেন: সে রাতেও ঘুমায় না? তোমরা নফল আমল ততটুকু কর যতটুকু তোমাদের সাধ্য আছে। আল্লাহর কসম, তিনি পুরস্কার দিতে ক্লান্ত হবেন না। বরং তোমরাই (ইবাদতে) ক্লান্ত হয়ে পড়বে।
১৭১৯
সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্‌রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আমার কাছে আসলেন যখন আমার কাছে একজন মহিলা উপস্থিত ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এ কে?” আমি বললামঃ এ সেই মহিলা যে রাতের বেলা না ঘুমিয়ে সালাত আদায় করে।(এ কথা শুনে) তিনি বললেনঃ “তোমরা ততটুকু পরিমাণ আমল করবে যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, আল্লাহ (তোমাদের আমলের) সওয়াব বা পুরস্কার দিতে অক্ষম হবেন না। বরং তোমরাই আমল করতে অক্ষম হয়ে পড়বে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দ্বীনের ততটুকু আমল অত্যধিক পছন্দনীয় ছিল আমলকারী যা স্থায়ীভাবে করতে পারবে। আবূ উসামাহ্ বর্ণিত হাদীসে উল্লেখিত আছে, উক্ত মহিলা ছিলেন বানী আসাদ গোত্রের একজন।
১৭২০
সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্‌রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে কেউ সালাত আদায়কালে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে শুয়ে ঘুমিয়ে নিবে এবং তন্দ্রা বা ঘুম দূর হলে পরে আবার সালাত আদায় করবে। কারণ, তোমরা কেউ হয়ত তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সালাত আদায় করলে দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনার স্থলে নিজেকে ভর্ৎসনা (বদ্‌দোয়া) করে ফেলবে।