৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৭০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৬৯১
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে সালাত আদায় করতে উঠলে সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত (প্রথম দুই রাকাত) সালাত শুরু করতেন।
১৬৯২
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ রাতের সালাত আদায় করতে শুরু করলে সে যেন সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত দিয়ে শুরু করে।
১৬৯৩
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাতের বেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ বলে দোয়া করতেনঃ “আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা নূরাস সামাওয়াতি ওয়াল আর্দি ওয়ালাকাল হামদু আনতা ক্বাইয়্যামুস সামাওয়াতি ওয়াল আর্দি ওয়ালাকাল হামদু আনতা রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আর্দি ওয়ামান ফীহিন্না আনতাল হাক্কু ওয়া ওয়াদুকাল হাক্কু ওয়া ক্বাউলুকাল হাক্কু ওয়ালিকাউকা হাক্কুন ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন ওয়ান্নারু হাক্কুন ওয়াস্ সাআতু হাক্কুন, আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু ওয়াবিকা আমানতু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া ইলাইকা আনাবতু ওয়াবিকা খাসামতু ওয়া ইলাইকা হাকামতু ফাগফিরলী মাক্বাদ্দামতু ওয়া আখ্খারতু ওয়া আসরারতু ওয়া আ’লানতু আনতা ইলাহী লা-ইলা-হা ইল্লা- আনতা”(অর্থাৎ - হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সব প্রশংসা। তুমি আসমান ও জমিনের নূর বা আলো। তোমার জন্যই সব প্রশংসা, তুমিই আসমান ও জমিনের ব্যবস্থাপক। তোমার জন্যই সব প্রশংসা তুমিই আসমান জমিনের এবং এ সবের মধ্যে অবস্থিত সবকিছুর প্রতিপালক। তুমিই হাক্ক বা সত্য। তোমার ওয়াদা সত্য, তোমার সব বাণী সত্য। তোমার সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি সত্য। জান্নাত সত্য, জাহান্নামও সত্য এবং কেয়ামতও সত্য।হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছেই আত্মসমর্পণ করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি, তোমার উপর তাওয়াক্কুল বা নির্ভর করেছি, তোমার কাছেই প্রত্যাবর্তন করেছি, তোমারই জন্যে অন্যদের সাথে বিবাদ করেছি এবং তোমার কাছেই ফায়সালা চেয়েছি। তাই তুমি আমার আগের ও পরের এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে কৃত সব পাপ ক্ষমা করে দাও। একমাত্র তুমিই আমার ইলাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই)।
১৬৯৪
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে উপরে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তবে শুধু দু’টি শব্দ ছাড়া ইবনু জুরায়জ বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহ মালিক বর্ণিত হাদীসের শব্দসমূহের অনুরূপ। দু’টি স্থানের একটিতে ইবনু জুরায়জ قَيَّامُ শব্দের পরিবর্তে قَيِّمُ শব্দ টি উল্লেখ করেছেন। আর অপর স্থানটিতে শুধু وَمَا أَسْرَرْتُ কথাটি উল্লেখ করেছেন। আর ইবনু উয়াইনাহ থেকে বর্ণিত। হাদীসটিতে কিছু অতিরিক্ত শব্দ আছে এবং অনেকগুলো শব্দের ব্যাপারে তিনি মালিক ও ইবনু জুরায়জের সাথে পার্থক্য করেছেন।
১৬৯৫
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
এই একই সনদে হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসের শব্দ উপরের বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
১৬৯৬
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আওফ (রাঃ)
আমি উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, নবী (ﷺ) রাতের বেলা যখন সালাত আদায় করতেন তখন কীভাবে তাঁর সালাত শুরু করতেন? জবাবে আয়িশা (রাঃ) বললেনঃ রাতে যখন তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করতে উঠতেন তখন এ দোয়াটি পড়ে সালাত শুরু করতেনঃ “আল্লাহুম্মা রব্বা জিবরাইল ওয়া মিকাইল ওয়া ইসরাফিল ফাতিরাস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরজি আলিমাল গাইবি ওয়াশ্ শাহাদাতি আনতা তাহ্‌কুমু বাইনা ইবাদিকা ফিমা কানু ফিহি ইয়াখতালিফূন, ইহদিনি লিমাখতুলিফা ফিহি মিনাল হাক্কি বি ইযনিক, ইন্নাকা তাহ্‌দি মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুস্তাকিম।” (অর্থাৎ - হে আল্লাহ! জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের প্রতিপালক, আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। তোমার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে তুমিই সেগুলোর ফায়সালা করবে। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে তুমি আমাকে পথ দেখাও। তুমিই তো যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকো)।
১৬৯৭
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, তিনি (ﷺ) যখন সালাত আদায় করতে দাঁড়াতেন তখন এ বলে শুরু করতেনঃ “ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতরাস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরজা হানীফাওঁ ওয়ামা– আনা-মিনাল মুশরিকীনা ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রব্বিল 'আলামীনা লা শরীকা লাহু ওয়াবি যালিক উমিরতু ওয়া আনা- মিনাল মুসলিমীন, আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু লা- ইলাহা ইল্লা – আন্তা আন্তা রব্বি ওয়া আনা- আবদুকা যলান্তু নাফসি ওয়া‘তারাফতু বিদাম্বি ফাগফিরলী যুনূবি জামী’আন ইন্নাহু লা- ইয়াগফিরুয্‌ যুনূবা ইল্লা-আন্তা ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলাকি লা-ইয়াহদি লিআহসানিহা- ইল্লা- আনতা ওয়াসরিফ ‘আন্নি সাইয়্যিআহা-লা- ইয়াসরিফু ‘আন্নী সাইয়্যিআহা- ইল্লা- আনতা লাব্বায়কা! ওয়া সা’দায়কা! ওয়াল খায়রু কুল্লুহূ ফি ইয়াদায়কা ওয়াশ্‌ শারু লাইসা ইলায়কা আনা –বিকা ওয়া ইলইয়া তাবারাকতা ওয়া তা‘আলাইতা আসতাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক” (অর্থাৎ- আমি একনিষ্ঠ হয়ে আমার মুখ সে মহান সত্তার দিকে ফিরিয়ে দিলাম যিনি আসমান ও জমিনকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছুই আল্লাহর জন্য যিনি সারা বিশ্বজাহানের প্রতিপালক। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি এ জন্যই আদিষ্ট হয়েছি। আমি মুসলিম বা আত্মসমর্পণকারী। হে আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম বাদশাহ। তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তুমি আমার প্রতিপালক, আর আমি তোমার বান্দা। আমি নিজে আমার প্রতি যুলুম করেছি। আমি আমার পাপ স্বীকার করছি। সুতরাং তুমি আমার সব পাপ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না। আমাকে সর্বোত্তম আখলাক বা নৈতিকতার পথ দেখাও। তুমি ছাড়া এ পথ আর কেউ দেখাতে সক্ষম নয়। আর আখলাক বা নৈতিকতার মন্দ দিকগুলো আমার থেকে দূরে রাখ। তুমি ছাড়া আর কেউ মন্দগুলোকে দূরে রাখতে সক্ষম নয়। আমি তোমার সামনে হাজির আছি – তোমার আনুগত্য করতে প্রস্তুত আছি। সব রকম কল্যাণের মালিক তুমিই। অকল্যাণের দায় দায়িত্ব তোমার নয়। আমার সব কামনা বাসনা তোমার কাছেই কাম্য। আমার শক্তি-সামর্থ্যও তোমারই দেয়া। তুমি কল্যাণময়, তুমি মহান। আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার কাছেই তাওবাহ করছি)। আর রুকু করার সময় বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা লাকা রাকা’তু ওয়াবিকা আমান্তু ওয়ালাকা আসলামতু খশা‘আ লাকা সাম’ঈ ওয়া বাসারী ওয়া মুখ্চী ওয়া আজ্যমী ওয়া আসাবী” -(অর্থাৎ -হে আল্লাহ! তোমার উদ্দেশ্যেই আত্মসমর্পণ করলাম। আমার কান, চোখ, মগজ, হাড় এবং সব স্নায়ুতন্ত্রী তোমার কাছে নত ও বশীভূত হল)।আর রুকু থেকে বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা রব্বানা– লাকাল হামদু মিলআস সামা-ওয়াতি ওয়ামিল আল আরজি ওয়ামিলআ মা-বাায়নাহুমা ওয়ামিলআ মা-শি’তা মিন শাইয়িন্‌ বাদু”-( অর্থাৎ - হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক, সব প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। আসমান ভর্তি প্রশংসা একমাত্র তোমারই প্রাপ্য)।আর যখন সিজদায় যেতেন তখন বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা আমান্তু ওয়ালাকা আসলামতু সাজাদা ওয়াজহী লিল্লাহি খালাক্বাহু ওয়াসাওয়ারাহু ওয়াশাক্মা সাম’আহু ওয়া বাসারাহু তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন”- (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমারই উদ্দেশে আমি সিজদা করলাম। তোমারই প্রতি আমি ঈমান পোষণ করেছি। তোমার উদ্দেশে আমি আত্মসমর্পণ করেছি। আমার মুখমণ্ডল সে মহান সত্তার উদ্দেশে সিজদা করল যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আকৃতি দান করেছেন আর কান ও চোখ ফুটিয়ে শোনা ও দেখার উপযোগী করে তৈরী করেছেন। মহা কল্যাণময় আল্লাহ, তিনি কতই না উত্তম সৃষ্টিকারী)।অতঃপর সবশেষে তাশাহুদ ও সালামের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বলতেনঃ “আল্লাহুম্মাগফির্লী মা- ক্বদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা- আসরারতু ওয়ামা- আ’লানতু ওয়ামা- আসরাফতু ওয়ামা- আনতা আ’লামু বিহী মিন্নী আনতাল মুক্বাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুয়াখখিরু লা- ইলাহা ইল্লা- আনতা” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের, গোপনে এবং প্রকাশ্যে কৃত গুনাহ ক্ষমা করে দাও। আর যে সব ব্যাপারে আমি বাড়াবাড়ি করেছি তাও ক্ষমা করে দাও। আমার কৃত যেসব পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চাইতে বেশী জান তাও ক্ষমা করে দাও। তুমিই আদি এবং তুমিই অন্ত, তুমি ছাড়া আর কেউ ইলাহ নেই)।
১৬৯৮
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আ’রাজ (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি বলেছেনঃ সালাত শুরু করার সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকবির বলতেন তারপরে “ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী” বলতেন। এরপর শেষের দিকে “ওয়া আনা- আওওয়ালুল মুসলিমীন” বলতেন। এ হাদীসে তিনি আরো বলেছেনঃ যখন তিনি রুকূ’ থেকে মাথা উঠাতেন তখন "সামি’আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ” এবং তিনি “ওয়া সাওওয়ারাহ ফা আহসানা সুওয়ারাহু”-ও বলতেন (অর্থাৎ- তিনি আকৃতি দান করেছেন এবং উত্তম আকৃতি দান করেছেন।)। এ বর্ণনাতে আরো আছে, তিনি যখন সালাম ফিরাতেন তখন “আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী মা- কুদ্দামতু” কথাটি থেকে শুরু করে পূর্বোক্ত হাদীসের শেষ পর্যন্ত বলতেন। আর তিনি তাশাহহুদ ও সালামের কথা বলেননি।
১৬৯৯
রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
হুযায়ফাহ্‌ (রাঃ)
এক রাতে আমি নবী (ﷺ)–এর সাথে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলাম। তিনি সূরা আল বাকারা পড়তে শুরু করলে আমি ভাবলাম তিনি হয়ত একশ আয়াত পড়ে রুকু করবেন। কিন্তু এর পরেও তিনি পড়ে চললেন। তখন আমি চিন্তা করলাম তিনি এর (সূরা আল বাকারা) দ্বারা পুরা দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরাবেন। কিন্তু তিনি এরপরেও পড়তে থাকলে আমি ভাবলাম সূরাটি শেষ করে তিনি রুকু করবেন।কিন্তু এরপর তিনি সূরা নিসা পড়তে শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন, অতঃপর তিনি সূরা আলে ইমরান শুরু করলেন এবং তা পাঠ করলেন। তিনি থেমে থেমে ধীরেধীরে পড়ছিলেন এবং তাসবিহের আয়াত আসলে তাসবিহ পড়ছিলেন আর কিছু চাওয়ার আয়াত আসলে চাইলেন। যখন আশ্রয় প্রার্থনা করার কোন আয়াত পড়ছিলেন তখন প্রার্থনা করছিলেন।অতঃপর তিনি রুকু করলেন। রুকুতে তিনি বলতে থাকলেন, “সুবহান রাব্বিয়াল আজীম” (আমার মহান প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর রুকু কিয়ামের মতই দীর্ঘ ছিল। এরপর “সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ” (আল্লাহ শুনেন যিনি তাঁর প্রশংসা করেন) বললেনঃ এরপর যতক্ষণ সময় রুকু করেছিলেন প্রায় ততক্ষণ সময় পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকলেন। এরপর সিজদা করলেন। সিজদাতে তিনি বললেন, “সুবহান রাব্বিয়াল আ’লা” (মহান সুউচ্চ সত্তা আমার প্রভু পবিত্র, আমি তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। তাঁর এই সিজদাও প্রায় কিয়ামের সময়ের মতো দীর্ঘায়িত হলো।হাদীসটির বর্ণনাকারী বলেন যে, জারীর বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অধিক আছেঃ তিনি [রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু থেকে উঠে] বললেন, “সামি'আল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা লাকাল হাম্দ” (আল্লাহ শুনেন যিনি তাঁর প্রশংসা করেন। হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সব প্রশংসা)।
১৭০০
রাতের সালাতে ক্বিরাআত দীর্ঘ করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। এ সালাতে তিনি কিরাআত এত দীর্ঘায়িত করলেন যে, আমি একটি মন্দ ইচ্ছা করে বসলাম। আবূ ওয়াইল বলেছেনঃ তাঁকে (আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদকে) জিজ্ঞাসা করা হল, আপনি কী ধরণের মন্দ ইচ্ছা করেছিলেন? জবাবে তিনি বললেনঃ আমি বসে পড়ার এবং তাঁর পিছনে এ সালাত পরিত্যাগ করার ইচ্ছা করেছিলাম।