৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৬৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৬৮১
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি আমার খালা মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। অতঃপর পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন কিন্তু হাতের কব্জিদ্বয় ও মুখমণ্ডল ধোয়ার কথা উল্লেখ করেননি। বর্ণনাতে তিনি বলেছেনঃ পরে তিনি (ﷺ) মশকের পাশে গেলেন, এটির বাঁধন খুললেন এবং দুই ওজুর মাঝামাঝি ওজু করলেন। এরপর বিছানায় গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর আবার উঠে মশকের পাশে গিয়ে ওটির বন্ধন খুললেন এবং ওজু যেমনটি হওয়া দরকার তেমনি করলেন। আর তিনি আমাকে এতে বলেছেন, “আ’যিম লী নূরান” অর্থাৎ ‘(হে আল্লাহ!) আমার আলোকে বড় করে দাও।’ তবে এতে তিনি “ওয়াজ্‘আলনী নূরান” অর্থাৎ- ‘আমাকে নূর বা আলো বানিয়ে দাও’ কথাটি উল্লেখ করেননি।
১৬৮২
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
কুরায়ব (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) একদিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (তাঁর ঘরে) রাত্রি যাপন করলেন। রাতের বেলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে একটি মশকের পাশে গেলেন এবং তা থেকে পানি ঢেলে ওযু করলেন। এতে তিনি অধিক পানি ব্যবহার করলেন না বা ওযু সংক্ষিপ্তও করলেন না। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদিসটি পূর্বের হাদিসটির অনুরূপ বর্ণনা করলেন। তবে এতে তিনি এ কথাও বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ রাতে উনিশটি কথা বলে দু‘আ করলেন।সালামা ইবনু কুহায়ল বলেছেন, কুরায়ব ঐ কথাগুলো সব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। আমি তার বারোটি মাত্র মনে রাখতে পেরেছি আর অবশিষ্টগুলো ভুলে গিয়েছি। তিনি তাঁর দু‘আয় বলেছিলেন: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার হৃদয়ে আলো দান করো, আমার জিহ্বা বা বাকশক্তিতে আলো দান করো, আমার শ্রবণশক্তিতে আলো দান করো, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো দান করো, আমার উপর দিকে আলো দান করো, আমার নিচের দিকে আলো দান করো, আমার ডান দিকে আলো দান করো, আমার বাম দিকে আলো দান করো, আমার সামনে আলো দান করো, আমার পিছন দিকে আলো দান করো, আমার নিজের মধ্যে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার আলোকে বিশালতা দান করো।
১৬৮৩
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি এক রাতে আমার খালা [নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী] মায়মূনার ঘরে ঘুমালাম। উক্ত রাতে নবী (ﷺ) রাতে কিভাবে সালাত আদায় করেন তা দেখা ছিল আমার উদ্দেশ্য। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেনঃ তিনি তাঁর স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বললেন এবং তারপর ঘুমিয়ে পড়লেন। .......এতটুকু বলার পর পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এতে এতটুকু কথা অধিক আছে যে, তিনি উঠে ওজু ও মিসওয়াক করলেন।
১৬৮৪
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
একদিন রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক ও ওজু করলেন। এ সময় তিনি (কুরআন মাজিদের এ আয়াতগুলো) পড়ছিলেন :إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لآيَاتٍ لأُولِي الأَلْبَابِ“আসমান ও জমিনের সৃষ্টি কৌশলে এবং রাত ও দিনের পালাক্রমে আগমন নির্গমনে সুধী ও জ্ঞানীজনদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে”- (সূরা আলি ইমরান ৩ : ১৯০)। এভাবে তিনি সূরার শেষ পর্যন্ত পড়লেন।এরপর উঠে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। এতে তিনি (ﷺ) কিয়াম, রুকু ও সিজদা দীর্ঘায়িত করলেন এবং শেষ করে ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাক ডেকে ঘুমালেন। তিনবার তিনি এরূপ করলেন এবং এভাবে তিনি ছয় রাকাত সালাত আদায় করলেন, প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করলেন, ওজু করলেন এবং এ আয়াতগুলো পড়লেন। সর্বশেষে তিন রাকাত বিতর পড়লেন।অতঃপর মুয়াজ্জিন আজান দিলে তিনি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন। তখন তিনি এ বলে দোয়া করেছিলেন:“আল্লাহুম্মা আজ‘আল ফি কালবি নূরাওঁ ওয়াফি লিসানি নূরাওঁ ওয়াজ‘আল ফি সাম’ই নূরাওঁ ওয়াজ‘আল ফি বাসারি নূরাওঁ ওয়াজ‘আল মিন খলফি নূরাওঁ ওয়ামিন আমামি নূরাওঁ ওয়াজ‘আল মিন ফাওক্বী নূরাওঁ ওয়ামিন তাহ্‌তি নূরান, আল্লাহুম্মা আ‘ত্বিনী নূরা”-অর্থাৎ হে আল্লাহ আমার হৃদয় মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দাও, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দাও, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দাও এবং আমার নিচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দাও। হে আল্লাহ! আমাকে নূর বা আলো দান কর।
১৬৮৫
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
এক রাতে আমি আমার খালা [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী] মায়মুনা-এর কাছে (তাঁর ঘরে) রাত্রি যাপন করলাম। রাতের বেলা নবী (ﷺ) নফল সালাত আদায় করতে উঠলেন। তিনি মশকের পাশে গিয়ে ওজু করলেন এবং তারপর সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন।তাঁকে এরূপ করতে দেখে আমিও উঠে মশকের পানি দিয়ে ওজু করলাম। তারপর তাঁর বাম পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (ﷺ) তাঁর পিঠের দিক থেকে আমার হাত ধরে সোজা তাঁর পিঠের দিকে দিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আতাআ বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি নফল সালাত আদায়কালে এরূপ করেছিলেন? জবাবে তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস) বললেনঃ হ্যাঁ।
১৬৮৬
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
একদিন আমার পিতা আব্বাস (রাঃ) আমাকে নবী (ﷺ)-এর কাছে পাঠালেন। সেদিন তিনি আমার খালা মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন। উক্ত রাতে আমি তাঁর সাথে কাটালাম। রাতে তিনি সালাত আদায় করতে উঠলে আমিও উঠলাম এবং গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তাঁর পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন।
১৬৮৭
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি একদিন আমার খালা মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত্রি যাপন করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর বর্ণনাকারী ইবনু জুরায়জ ও কায়স ইবনু সাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন।
১৬৮৮
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতের বেলা তেরো রাকাত সালাত আদায় করতেন।
১৬৮৯
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ)
রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সালাত দেখব। রাতের বেলা প্রথমে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর অনেক অনেক দীর্ঘায়িত করে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাত থেকে কম দীর্ঘ ছিল। এরপর দুই রাকাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর দুই রাকাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাত থেকে কম দীর্ঘায়িত ছিল। পরে আরো দুই রাকাত আদায় করলেন যা পূর্বের দুই রাকাত থেকেও কম দীর্ঘায়িত ছিল। এরপর বিতর অর্থাৎ এক রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং এভাবে মোট তের রাকাত সালাত আদায় করলেন।
১৬৯০
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
কোন এক সফরে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। এক সময়ে আমরা এক (পানির কিনারে) ঘাটে গিয়ে পৌঁছলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন: জাবির তুমি কি ঘাট পার হবে না? আমি বললাম, হ্যাঁ। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ বলেছেন: রসূলুল্লাহ (ﷺ) অপর পারে গিয়ে অবতরণ করলে আমিও পার হলাম। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে গেলে আমি তাঁর ওজুর পানি প্রস্তুত করে রাখলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে ওজু করলেন এবং একখানা মাত্র কাপড় গায়ে জড়িয়ে সালাতে দাঁড়ালেন। কাপড় খানার আঁচল বিপরীত দিকের দুই কাঁধে দিলেন। তখন আমি গিয়ে তাঁর পিছনে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমার কান ধরে তাঁর ডান পাশে খাড়া করে দিলেন।