৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৬৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৬৭১
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)
তিনি ‘লাইলাতুল কদর’ বা কদরের রাত সম্পর্কে বলেন: আল্লাহর কসম! আমি রাতটি সম্পর্কে জানি এবং এ ব্যাপারে আমি যা জানি তা হচ্ছে, যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন সেটিই অর্থাৎ সাতাশ তারিখের রাতই কদরের রাত। হাদীসটির ঐ অংশ সম্পর্কে (যে রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন) শু‘বাহ সন্দেহ পোষণ করেছেন। বর্ণনাকারী শু‘বাহ বলেছেন: আমার এক বন্ধু (আবদা ইবনু আবু লুবাবা) তার থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।
১৬৭২
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রহঃ)
একই সনদে হাদিসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে শু‘বাহ এ বর্ণনাতে সন্দেহ পোষণ করেছেন এবং এর পরের কথাগুলো উল্লেখ করেননি।
১৬৭৩
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি এক রাতে আমার খালা মাইমুনা (রাঃ)-এর [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীর] ঘরে কাটালাম। (আমি দেখলাম) নবী (ﷺ) রাতের বেলা উঠলেন এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন সেরে এসে মুখমণ্ডল এবং দুই হাত ধুলেন। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমালেন।পরে পুনরায় উঠে মশকের পাশে গেলেন এবং এর বন্ধন খুলে ওজু করলেন। ওজুতে তিনি (ﷺ) মধ্যমপন্থা অবলম্বন করলেন (অর্থাৎ ওজু করতে খুব যত্নও নিলেন না আবার একেবারে খুব হালকাভাবেও ওজু করলেন না)। তিনি (ﷺ) বেশি পানি ব্যবহার করলেন না। তবে পূর্ণাঙ্গ ওজু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন।আমি সে সময় উঠলাম এবং তাঁর কাজকর্ম দেখার জন্য জেগে ছিলাম বা সতর্কভাবে তা লক্ষ্য করছিলাম, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এটা যেন না ভেবে বসেন তাই আড়মোড়া ভাঙ্গলাম। এবার আমি ওজু করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন, অতঃপর আমিও তাঁর বাঁ পাশে দাঁড়ালাম। তিনি (ﷺ) আমাকে আমার হাত ধরে ঘুরিয়ে এনে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। এভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাতের সালাত তেরো রাকাত শেষ হল। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি (ঘুমের মধ্যে তাঁর) নাক ডাকতে শুরু করল। তিনি (ﷺ) স্বভাবত যখনই ঘুমাতেন তখন নাক ডাকত।পরে বিলাল (রাঃ) তাঁকে সালাতের কথা বলে গেলেন। তিনি (ﷺ) বললেনঃ “আল্লাহুম্মাজ‘আল ফি কালবি নূরান ওয়া ফি বাসারি নূরান, ওয়া ফি সামই নূরান, ওয়া আন ইয়ামিনি নূরান, ওয়া আন ইয়াসারি নূরান, ওয়া ফাওকি নূরান, ওয়া তাহতি নূরান, ওয়া আমামি নূরান, ওয়া খালফি নূরান, ওয়া ‘আজিম লি নূরা”—(অর্থাৎ হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়ে আলো দান কর, আমার চোখে আলো দান কর, আমার কানে বা শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর। আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাঁ দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নিচের দিকে আলো দান কর, আমার সামনে আলো দান কর, আমার পিছনে আলো দান কর এবং আমার আলোকে মহান করে দাও।)বর্ণনাকারী কুরাইব বলেছেনঃ তিনি এরূপ আরো সাতটি কথা বলেছিলেন যা আমি ভুলে গিয়েছি। হাদীসের বর্ণনাকারী সালামা ইবনে কুহাইল বলেনঃ এরপর আমি আব্বাস (রাঃ)-এর এক পুত্রের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐগুলো (অবশিষ্ট সাতটি) আমার কাছে বর্ণনা করলেন। তাতে তিনি উল্লেখ করলেন: আমার স্নায়ুতে, আমার শরীরের গোশতে, আমার রক্তে, আমার চুলে এবং আমার গাত্রচর্মে আলো দান কর। এছাড়াও তিনি আরো দুইটি বিষয় উল্লেখ করে বললেনঃ এ দুইটিতেও তিনি আলো চেয়েছেন।
১৬৭৪
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
তিনি একদিন উম্মুল মুমিনীন মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মূনা (রাঃ) তাঁর খালা। আমি বিছানাতে আড়াআড়ি ভাবে শুলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পর তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমণ্ডলের উপর হাত রগড়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরা আলে ইমরান-এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওজু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন।আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন: তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মুচড়াতে থাকলেন। তিনি (ﷺ) দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দুই রাকাত, এরপর আরো দুই রাকাত এবং পরে আরো দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিতর পড়লেন। তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়ায্জিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (ﷺ) উঠে সংক্ষেপে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ি থেকে (মসজিদে) গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন।
১৬৭৫
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
মাখরামাহ্ ইবনু সুলাইমান (রহঃ)
একই সনদে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি এতটুকু অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর তিনি (ﷺ) একটি পুরনো মশকের কাছে গেলেন এবং মিসওয়াক করে ওজু করলেন। তিনি বেশি পানি খরচ না করেই উত্তমরূপে ওজু করলেন, তারপর আমাকে ঝাঁকুনি দিলেন। তখন আমি উঠলাম। এরপর তিনি হাদীসের অবশিষ্ট অংশটুকু মালিক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
১৬৭৬
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী মাইমূনা (রাঃ)-এর ঘরে আমি ঘুমালাম আর সেই রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে ছিলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ঘরে রাত্রিযাপন করলেন। রাতে তিনি ওজু করে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমাকে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। ঐ রাতে তিনি তের রাকাত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর ঘুমালেন। ঘুমের মধ্যে তিনি নাক ডাকলেন। আর তিনি যখনই ঘুমাতেন নাক ডাকত। পরে মুয়াজ্জিন তাঁর কাছে আসলেন, তিনি (মসজিদে) চলে গেলেন এবং নতুন ওজু না করেই সালাত আদায় করলেন। হাদীসের বর্ণনাকারী আমর বলেছেন, আমি বুকাইর ইবনুল আশাজ্জ-এর কাছে এ হাদীস বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ আমার কাছেও তিনি হাদীসটি অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন।
১৬৭৭
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
একদিন রাতে আমি আমার খালা মায়মূনা বিনতে হারিস (রাঃ)-এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম। আমি তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন (রাতে) উঠবেন তখন আপনি আমাকে জাগিয়ে দিবেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠলে আমিও উঠলাম এবং তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার হাত ধরে তাঁর ডান পাশে নিলেন। পরে যখনই আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম তখন তিনি আমার কানের নিচের অংশ ধরে টান দিচ্ছিলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন- তিনি এগারো রাকাত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি শুয়ে থাকলেন। আমি তাঁর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর ফজরের সময় স্পষ্ট হয়ে গেলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন।
১৬৭৮
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
তিনি তাঁর খালা মায়মুনা (রাঃ) [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী]-এর ঘরে রাত্রি যাপন করলেন। রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে ঝুলিয়ে রাখা একটি পুরনো মশক থেকে পানি নিয়ে হালকাভাবে ওযু করলেন। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর আযাদকৃত ক্রীতদাস কুরায়ব (রহঃ) বলেছেন: আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন আমিও উঠলাম এবং নবী (ﷺ) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম এবং পরে গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তিনি আমাকে তাঁর পিছন দিক দিয়ে ঘুরিয়ে ডান পাশে নিয়ে দাঁড় করালেন। এরপর সালাত আদায় করে তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন এবং ঘুমিয়ে পড়লেন। এমনকি নাকও ডাকলেন। পরে বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের সময়ের কথা জানালে তিনি গিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু নতুন ওযু করলেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী সুফিয়ান (রহঃ) বলেছেন, এ ব্যবস্থা শুধু (ঘুমানোর পর নতুন ওযু না করে সালাত আদায় করা) নবী (ﷺ)-এর জন্য নির্দিষ্ট। কেননা আমরা এ কথা জানি যে, তাঁর চোখ দুইটি ঘুমায় কিন্তু হৃদয় মন ঘুমায় না।
১৬৭৯
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
আমি একদা আমার খালা মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিভাবে সালাত আদায় করেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখলাম। তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস) বলেছেনঃ (রাতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে প্রস্রাব করলেন এবং মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।পরে আবার উঠে মশকের পাশে গেলেন, এর বাঁধন খুললেন এবং বড় থালা বা কাঠ নির্মিত প্লেটে পানি ঢাললেন। পরে হাত দিয়ে তা নিচু করলেন এবং দুই ওজুর মাঝামাঝি উত্তম ওজু করলেন (অর্থাৎ অত্যধিক যত্নের সাথে ওজু করলেন না, আবার খুব হালকাভাবেও করলেন না)। অতঃপর তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও উঠে গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম।তখন তিনি (ﷺ) আমাকে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মোট তের রাকাত সালাত দ্বারা তাঁর সালাত শেষ হল। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নাক ডাকতে শুরু করল। আমরা নাক ডাকানোর আওয়াজ শুনে তাঁর ঘুমানো বুঝতে পারতাম। তারপর সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। সালাতের মধ্যে অথবা সিজদায় গিয়ে তিনি (ﷺ) এ বলে দোয়া করতে থাকলেনঃ“আল্লাহুম্মাজআল ফি কলবি নুরা ওয়া ফি সাম'ই নুরা ওয়া ফি বাসারী নুরা ওয়া আন ইয়ামিনী নুরা ওয়া আন শিমালী নুরা ওয়া আমামী নুরা ওয়া খলফী নুরা ওয়া ফাওক্বী নুরা ওয়া তাহতী নুরা ওয়াজ আল্লি নুরান অথবা ক্বলা ওয়াজআলনি নুরা-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়-মনে আলো দান কর, আমার শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাম দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নিচের দিকে আলো দান কর এবং আমার জন্য আলো সৃষ্টি কর। অথবা তিনি বললেনঃ আমাকে আলোতে পরিণত করে দাও)।
১৬৮০
রাত্রিকালীণ সালাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
আমি আমার খালা মাইমূনা (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে আসলেন। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি গুনদার (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বিষয়বস্তু উল্লেখ করলেন। এতে তিনি “ওয়াজআলনি নূরান” অর্থাৎ আমাকে আলো বানিয়ে দাও কথাটি বলতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করলেন না।