৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৬৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৬৬১
শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দু‘আ কবূল হওয়ার আলোচনা পরিচ্ছেদ নাই
সা‘দ ইবনু সা‘ঈদ (রহঃ)
সা’দ ইবনু সাঈদ (রহঃ) থেকে এই একই সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি অতিরিক্ত এতটুকু বর্ণনা করেছেন যে, অতঃপর মহান ও বরকতময় আল্লাহ নিজের দুই হাত প্রসারিত করে বলেনঃ যিনি কখনো দরিদ্র হবেন না, কিংবা জুলুম করেন না এমন সত্তাকে ঋণ দেয়ার জন্য কে আছ?
১৬৬২
শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দু‘আ কবূল হওয়ার আলোচনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী ও আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা অবকাশ দেন বা দেরি করেন না। এভাবে যখন রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশ অতিক্রম হয়ে যায় তখন তিনি দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে বলতে থাকেন : কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি (যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আর আমি তাকে ক্ষমা করব)? কোন তাওবাকারী আছে কি (যে তাওবা করবে আর আমি তার তাওবা কবুল করব)? কোন প্রার্থনাকারী আছে কি (যে প্রার্থনা করবে আর আমি তার প্রার্থনা কবুল করব)? কোন আহ্বানকারী আছে কি (আমি যার আহ্বানে দিব)? এভাবে ফজরের সময় পর্যন্ত তিনি বলতে থাকেন।
১৬৬৩
শেষ রাতে যিক্‌র ও প্রার্থনা করা এবং দু‘আ কবূল হওয়ার আলোচনা পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্-এর মাধ্যমে আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
একই সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে মানসূর (রহঃ) বর্ণিত হাদিসটি পূর্ণাঙ্গ ও বেশি স্পষ্ট।
১৬৬৪
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানের সাথে ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে তারাবি পড়ে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
১৬৬৫
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দৃঢ় বা কঠোরভাবে নির্দেশ না দিয়ে রমজান মাসের তারাবিহ পড়তে উৎসাহিত করে বলতেন: যে ব্যক্তি ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে রমজান মাসের তারাবিহ পড়ল তার পূর্বের সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখনও এ অবস্থা চলছিল (অর্থাৎ মানুষকে তারাবিহ পড়তে নির্দেশ না দিয়ে শুধু উৎসাহিত করা হত)। আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতকালে এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এ নীতি কার্যকর ছিল।
১৬৬৬
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রমযান মাসে ঈমান ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কদরের রাতে ঈমানসহ ও একান্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে সালাত আদায় করবে তারও পূর্ববর্তী সব পাপ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
১৬৬৭
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কদরের রাতে জাগরণ করতে গিয়ে তা পেয়ে গেল, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে। (রাবী বলেন) আমার মনে হয় তিনি ‘ঈমান ও সাওয়াবের আশায়’ কথাটি বলেছেন।
১৬৬৮
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে সালাত আদায় করলেন। তাঁর সাথে কিছু সংখ্যক লোকও সালাত আদায় করল। পরের রাতেও তিনি মসজিদে সালাত আদায় করলেন। লোকজন সংখ্যায় অনেক বেশি হয়ে গেল। অতঃপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতেও অনেক লোক এসে একত্র হল। কিন্তু রসূলুল্লাহ (ﷺ) আর তাদের সাথে যোগ দিলেন না। সকাল বেলা তিনি সবাইকে বললেনঃ (গত রাতে) তোমরা যা করেছ তা আমি দেখেছি। তবে শুধু এ আশঙ্কায় আমি তোমাদের সাথে যোগদান করিনি যে, তোমাদের ওপর তা ফরজ করে দেয়া হতে পারে। আয়িশা (রাঃ) বলেছেনঃ ঘটনাটি রমজান মাসে সংঘটিত হয়েছে।
১৬৬৯
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাড়ি থেকে মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করলেন, অনেক লোকও তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। পরদিন লোকজন এ ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করল। সুতরাং ঐ দিন রাতে আরও বেশি লোক (মসজিদে) একত্রিত হল। ঐ দ্বিতীয় রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে তাদের মাঝে উপস্থিত হলেন। সবাই তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। পরদিনও লোকজন এ ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করল।সুতরাং তৃতীয় রাতে লোকের সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। রাতেও তিনি (ﷺ) মসজিদে তাদের মাঝে গেলেন। লোকজন তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। কিন্তু চতুর্থ রাতে লোক সংখ্যা এত বেশি হল যে, মসজিদে জায়গা সংকুলান হল না। কিন্তু রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে আসলেন না। তাঁদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যক লোক সালাত বলে ডাকতে শুরু করল। কিন্তু তিনি ঐ রাতে আর বের হলেন না। বরং ফজরের ওয়াক্তে বের হলেন। ফজরের সালাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ঘুরলেন, তাশাহহুদ পড়লেন, তারপর “আম্মাবাদ” বলে শুরু করলেন। তিনি বললেন: গতরাতে তোমাদের ব্যাপারটা আমার অজানা নয়। কিন্তু আমি আশঙ্কা করেছিলাম যে, রাতের এ সালাতটি তোমাদের জন্য ফরজ করে দেয়া হতে পারে। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে।
১৬৭০
রমাযানে তারাবীহ সালাত আদায় করা প্রসঙ্গে উৎসাহ প্রদান করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস'উদ (রাঃ)
যে ব্যক্তি সারা বছর রাত জেগে সালাত আদায় করবে সে কদরের রাত প্রাপ্ত হবে। এ কথা শুনে উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) বললেন: যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই সে মহান আল্লাহর কসম! নিশ্চিতভাবে লাইলাতুল কদর রমজান মাসে। এ কথা বলতে তিনি কসম করলেন কিন্তু ইন-শা-আল্লাহ বললেন না (অর্থাৎ তিনি নিশ্চিতভাবেই বুঝলেন যে, রমজান মাসের মধ্যেই ‘লাইলাতুল কদর’ আছে)।এরপর তিনি আবার বললেন: আল্লাহর কসম! কোন রাতটি কদরের রাত তাও আমি জানি। সেটি হল এ রাত, যে রাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সালাত আদায় করতে আদেশ করেছেন। সাতাশ রমজান তারিখের সকালের পূর্বের রাতটিই সে রাত। আর ঐ রাতের আলামত বা লক্ষণ হল—সে রাত শেষে সকালে সূর্য উদিত হবে, তা উজ্জ্বল হবে কিন্তু সে সময় (উদয়ের সময়) তার কোন তীব্র আলোকরশ্মি থাকবে না (অর্থাৎ দিনের তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ থাকবে)।