৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৪৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৪৪১
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সালাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিয (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজর এবং মাগরিবের সালাতে কুনূত পড়তেন।
১৪৪২
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সালাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ফজর ও মাগরিবের সালাতে কুনুত পড়তেন।
১৪৪৩
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সালাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
খুফাফ ইবনু ঈমা আল গিফারী (রহঃ)
কোন এক সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ বলে বদ-দোয়া করলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি বনী লিহিয়ান, রি'ল, যাকওয়ান ও উসাইয়া গোত্রসমূহের ওপর লানাত বর্ষণ করো। তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করেছে। আর গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করুন এবং আসলাম গোত্রকে নিরাপদ রাখুন।”
১৪৪৪
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সালাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
হারিস ইবনু খুফাফ (রহঃ)
খুফাফ ইবন ঈমা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি (খুফাফ ইবন ঈমা) বলেন, একদিন সালাতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) রুকু করলেন এবং তারপর রুকু থেকে মাথা তুলে বললেনঃ গিফার গোত্রকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করুন। আসলাম গোত্রকে আল্লাহ নিরাপদে রাখুন। আর উসাইয়্যাহ গোত্র তো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নাফরমানী করেছে। এরপর তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি বানী লিহিয়ান গোত্রের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করো, রিল ও যাকওয়ান গোত্রদ্বয়ের ওপর লা‘নাত বর্ষণ করো। এরপর তিনি সিজদায় চলে গেলেন। খুফাফ ইবন ঈমা (রাঃ) বলেছেনঃ এ কারণেই কুনূতে কাফিরদের লা‘নাত করা হয়ে থাকে।
১৪৪৫
যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সালাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
খুফাফ ইবনু ঈমা (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তাতে “এ কারণেই কুনুত-এ কাফিরদের লা‘নাত করা হয়ে থাকে” কথাটি বলেননি।
১৪৪৬
যে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় রাতে সফররত ছিলেন। এক সময় রাতের শেষভাগে তাঁকে তন্দ্রায় পেয়ে বসলে তিনি সেখানেই অবতরণ করলেন। আর বিলালকে বললেনঃ ‘তুমি আজ রাতে আমাদের পাহারার কাজ করো’। সুতরাং বিলাল যতটা পারলেন রাতের বেলায় সালাত আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। কিন্তু ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে বিলাল পূর্ব দিকে মুখ করে তার উটের সাথে হেলান দিলেন। এ সময় ঘুমে বিলালের দুই চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ), বিলাল কিংবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের কারোরই নিদ্রা ভঙ্গ হলো না। এ অবস্থায় তাদের গায়ে সূর্যের আলো এসে পড়ল। প্রথমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠে বিলালকে ডাকলেন, ‘হে বিলাল!’ বিলাল বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যে কারণে জাগতে পারেননি আমিও ঐ একই কারণে জাগতে পারিনি’। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুকুম দিলেন তাড়াতাড়ি যাত্রা করো। সুতরাং সবাই উটগুলো হাঁকিয়ে কিছু দূরে নিয়ে গেলে এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওযু করলেন এবং বিলালকে সালাতের জন্য আদেশ করলেন। বিলাল সালাতের জন্য ইকামত দিলে তিনি তাদের সবাইকে সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে গেলে যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নিবে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- “আমার স্মরণের জন্য সালাত আদায় করো” – (সূরা ত্বা-হা ২০:১৪)। ইউনুস বলেছেনঃ ইবনু শিহাব لِذِكْرِي (লিযিক্‌রী)-এর স্থানে لِلذِّكْرَى (লিয্‌যিক্‌রা-) আদায় করলেন।
১৪৪৭
যে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আমরা একদিন নবী (ﷺ)-এর সাথে শেষ রাতে বিশ্রামের জন্য ঘুমালাম। কিন্তু সূর্যোদয়ের পূর্বে আমরা জাগিনি (নিদ্রা থেকে জেগে উঠে) নবী (ﷺ) বললেনঃ প্রত্যেকে নিজের উটের লাগাম টেনে নিয়ে যাও। কারণ এই স্থানে আমাদের মাঝে শয়তান এসে হাজির হয়েছে।বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেন, আমরা তাই করলাম। অতঃপর তিনি পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করলেন এবং দু’টি সিজদা করলেন (অর্থাৎ দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন)। ইয়াকুব বলেছেনঃ অতঃপর নবী (ﷺ) (ফজরের দুই রাকাত) সুন্নাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাতের ইকামত দেওয়া হলে তিনি ফজরের (ফরজ) সালাত আদায় করলেন।
১৪৪৮
যে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবু ক্বাতাদাহ্ (রাঃ)
একদিন (যুদ্ধ থেকে ফেরার সময়) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে বক্তৃতা করলেন। তিনি বললেনঃ “আজকের বিকাল থেকে তোমাদের সারারাত পথ চলতে হবে এবং ইনশাআল্লাহ আগামীকাল সকালে পানির কাছে উপস্থিত হবে।” সুতরাং লোকজন সেখান থেকে এভাবে যাত্রা করল যে, কেউ কারো দিকে ফিরেও তাকাচ্ছিল না।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও পথ চলছিলেন। এক সময় রাত্রি দ্বিপ্রহর হয়ে গেল। আমি তাঁর পাশে পাশেই চলছিলাম। এ সময় রাসূল (ﷺ) তন্দ্রায় ঝিমুচ্ছিলেন। ঘুমের প্রভাবে এক সময় তিনি (ﷺ) তাঁর সাওয়ারির উপর একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। ঠিক সে সময় আমি তাঁর পাশে গিয়ে তাঁকে ঠেলে ধরলাম (অর্থাৎ-ঠেকনা দিলাম)। তিনি (ﷺ) সাওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন, কিন্তু তাঁকে জাগালাম না। এরপর তিনি (ﷺ) চলতে থাকলেন এবং এ অবস্থায় রাতের অধিকাংশ সময় অতিক্রান্ত হলে সাওয়ারির উপর থেকে আবার একদিকে ঝুঁকে পড়লেন। তখন আমি আবার তাঁকে সাওয়ারির উপর তাঁকে না জাগিয়ে ঠেলে ধরলাম। এভাবে তিনি (ﷺ) সাওয়ারীর উপর সোজা হয়ে বসলেন।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- এরপর তিনি (ﷺ) আবার চলতে থাকলেন। রাত ভোর হয়ে আসলে তিনি (ﷺ) এবার প্রথম দু’বারের চেয়ে বেশি করে একদিকে ঝুঁকে পড়লেন, এমনকি পড়ে যাওয়ার উপক্রম হল। তখন আমি পুনরায় ঠেস লাগিয়ে ধরলাম। এবার তিনি মাথা উঠিয়ে জিজ্ঞেস করেন- “কে?”আমি বললাম- “আবু কাতাদা।”তিনি (ﷺ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, “এভাবে আমার পাশে পাশে কতক্ষণ চলছ?”আমি বললাম, “আমি রাতের প্রথম থেকেই এভাবে আপনার সাথে চলছি।”তিনি (ﷺ) তখন বললেনঃ “আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করুন। কারণ তুমি তাঁর নবীকে দেখাশুনা করেছ।”তারপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ “তুমি কি কাউকে দেখতে পাচ্ছ?”আমি বললাম, “হ্যাঁ এই তো একজন আরোহী।”তারপর বললাম, “এই তো আরও একজন আরোহী উপস্থিত হল।”এভাবে আমরা সাত জন একত্র হলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাস্তা থেকে কিছু সরে গিয়ে মাটিতে মাথা রাখলেন (অর্থাৎ- শুয়ে পড়লেন)। এ সময় তিনি (ﷺ) আমাদের বললেনঃ “সালাতের খেয়াল রেখো।”কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি নিদ্রা থেকে জাগ্রত হন, আর তখন সূর্যের আলো তাঁর পিঠের উপর এসে পড়েছিল। আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- এরপর আমরা সবাই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমরা সবাই যার যার সাওয়ারীতে সওয়ার হও।” তাই আমরা সাওয়ারীতে চেপে যাত্রা করলাম। সূর্য বেশ কিছু উপরে উঠলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাওয়ারী থেকে অবতরণ করে আমার কাছে অল্প পানিসহ যে ওযুর পাত্র ছিল তা চেয়ে নিয়ে অন্য সময়ের চেয়ে সংক্ষিপ্ত করে ওযু করলেন। আবু কাতাদা (রাঃ) বললেন- এরপরও ঐ পাত্রে কিছু পানি অবশিষ্ট থাকল। তিনি (ﷺ) আবু কাতাদা (রাঃ)-কে বললেনঃ “পাত্রটি রেখে দাও। দেখবে পরে বিস্ময়কর কাণ্ড ঘটবে।” তখন বিলাল (রাঃ) সালাতের আজান দিলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে দুই রাকাত (সুন্নাত) সালাত আদায় করলেন এবং প্রতিদিনের মত করে ফজরের ফরজ সালাত আদায় করলেন।আবু কাতাদা (রাঃ) বলেন- অতঃপর সাওয়ারীতে আরোহণ করলে আমরাও সাওয়ারিতে আরোহণ করে তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। এ সময়ে আমরা পরস্পর চুপিসারে বলাবলি করছিলাম যে, আমরা সালাতের ব্যাপারে যে অবহেলা প্রদর্শন করছিলাম তার কাফ্‌ফারা বা ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আমার জীবন ও কাজ-কর্ম কি তোমাদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ নয়?” এরপর তিনি (ﷺ) আবার বললেনঃ “ঘুমানোতে কোন দোষ বা অবহেলা নেই। অবহেলা তখনই বলা হবে যদি কোন ব্যক্তি সালাত আদায় না করে দেরি করে এবং অন্য সালাতের ওয়াক্ত হয়ে যায়। কোন সময় কারো যদি এরূপ হয়ে যায় সে যখন জাগ্রত হবে তখনই যেন সালাত আদায় করে নেয়। পরদিন সকালে যেন সে সময়মত সালাত আদায় করে।”পরে তিনি বললেনঃ “অন্য সবাই কী করছে তা কি জান?”সকালে লোকজন যখন তাদের নবীকে দেখতে পেল না তখন আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ) তাদের বললেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের পিছনে আছেন। তিনি তোমাদের পিছনে ফেলে যেতে পারেন না।” কিন্তু লোকজন বললঃ “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের সামনে আছেন।” (নবী ﷺ বললেন) “এ ব্যাপারে তারা যদি আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)-এর কথা মানতো তাহলে সঠিক কাজ করত।”আবু কাতাদা (রাঃ) বলেনঃ যখন বেলা বেড়ে দুপুর হল এবং সবকিছু সূর্যতাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠল তখন আমরা লোকজনের কাছে গিয়ে পৌঁছলাম। তখন তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে এসে বলছিলঃ “হে আল্লাহর রসূল! আমরা পিপাসায় মরে গেলাম।”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “না, তোমরা মরবে না।”এরপর তিনি বললেনঃ “আমার ছোট পেয়ালাটা আনো।” অতঃপর তিনি (ﷺ) ওযুর পাত্রটাও চেয়ে নিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালাতে পানি ঢালতে থাকলেন আর আবু কাতাদা (রাঃ) পান করাতে থাকলেন। লোকজন যখন দেখল যে, পানি মাত্র একপাত্র আর এতগুলো লোক, তখন তারা (পানি থেকে বঞ্চিত হওয়ার ভয়ে) ভিড় জমিয়ে তুলল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তোমরা ধীরে সুস্থে পানি পান করতে থাকো। সবাইকে তৃপ্তি সহকারে পানি পান করানো যাবে।” সুতরাং লোকজন তাই করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পানি ঢালছিলেন আর আমি (আবু কাতাদা) পান করাচ্ছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমি এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া পানি পান করার মত আর কেউ অবশিষ্ট রইল না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পেয়ালার পানি ঢেলে আমাকে বললেনঃ “পান করো।”আমি বললাম- “হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান না করা পর্যন্ত আমি পান করব না।”এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “যিনি পান করান তিনি সবার শেষে পান করেন।”আবু কাতাদা (রাঃ) বলেনঃ আমি তখন পানি পান করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পান করলেন। পরে অবশ্য লোকজন পানি পান করার ফলে শান্ত মনে তৃপ্তি সহকারে যেতে থাকল।হাদীসের বর্ণনাকারী সাবিত বলেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বলেন, “আমি জামে মসজিদে এই হাদীস বর্ণনা করছিলাম।” তখন ইমরান ইবন হুসাইনের (রাঃ) বললেন, “হে যুবক! দেখে শুনে বর্ণনা করো। কারণ, আমি সেই রাতের কাফেলার একজন ছিলাম।”আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বললেনঃ “তাহলে তো আপনি এ হাদীসটি সম্পর্কে ভাল জানেন।” তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “তুমি কোন কওমের লোক?”আমি বললাম, “আমি আনসারদের একজন।”তিনি বললেন, “তাহলে বর্ণনা কর। কেননা, তুমি তোমার হাদীস সম্পর্কে নিশ্চয়ই ভালোভাবে অবহিত আছ।” আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রাঃ) বলেন- “আমি ঐ রাতে কাফিলায় শরীক ছিলাম। তবে আমি জানতাম না যে, অন্য কেউও আমার মত হাদিসটি স্মরণ রেখেছেন।”
১৪৪৯
যে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-এর কোন এক সফরে তাঁর সাথে ছিলাম। এক রাতে আমরা রাতের বেলায়ই পথ চলছিলাম। রাতের শেষ দিকে বিশ্রামের জন্য আমরা একস্থানে অবতরণ করলে ঘুমের প্রভাবে আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে আসলো। এ অবস্থায় সূর্য উদিত হলো। ইমরান ইবনু হুসাইন বলেন, আমাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি ঘুম থেকে জেগে উঠলেন তিনি আবু বকর। আমাদের নীতি ছিল নবী (ﷺ) ঘুমানোর পর নিজে নিজেই যতক্ষণ না জাগতেন ততক্ষণ আমরা কেউ তাঁকে নিদ্রা থেকে জাগাতাম না। আবু বকরের পর যিনি প্রথম ঘুম থেকে জাগলেন তিনি উমর। তিনি নবী (ﷺ)-এর পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে তাকবীর বলতে শুরু করলেন। এতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি (ﷺ) মাথা উঠিয়ে দেখতে পেলেন সূর্য আগেই উদিত হয়েছে। তখন তিনি (ﷺ) সবাইকে বললেনঃ তোমরা এখান থেকে যাত্রা শুরু করো। এরপর তিনিও আমাদের সাথে যাত্রা করলেন।অতঃপর সূর্যের কিরণ আরো পরিস্কারভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তিনি সওয়ারী থামিয়ে অবতরণ করলেন এবং আমাদেরকে সাথে করে ফজরের সালাত আদায় করলেন। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি সবার থেকে দূরে থাকল এবং আমাদের সাথে সালাত আদায় করলেন না। সালাত শেষ করে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন তুমি কি কারণে আমাদের সাথে সালাত আদায় করলে না? সে বলল, হে আল্লাহর নবী, আমার জন্য গোসল ফরজ হয়েছে (তাই সালাত আদায় করতে পারলাম না)। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাকে মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করতে বললেন। অতঃপর সে তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করল। তারপর তিনি (ﷺ) আমাকে একদল লোকের সাথে সম্মুখের দিকে আগে আগে পাঠিয়ে দিলেন যাতে আমরা পানি খুঁজে বের করি। আমরা ইতিমধ্যে যার পর নাই তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলাম।আমরা পথ চলতে চলতে এক স্ত্রী লোককে দেখতে পেলাম। সে তার সাওয়ারীর উপর দুইটি চামড়ার মশকের উপর দুই দিকে পা ঝুলিয়ে বসেছিল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে পানি কোথায় পাওয়া যাবে? সে বলে উঠল হায়! হায়! এখানে পানি তোমরা কোথায় পাবে? আমরা তাকে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তোমার গোত্রের বসতি এলাকা থেকে পানি কত দূরে? সে বললঃ একদিন ও একরাতের পথের ব্যবধান। আমরা তাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে চলো। সে বললঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আবার কি? এরপর আমরা আর তাকে নিজের ইচ্ছামত কোন কিছুই করতে দিলাম না। বরং তাকে ধরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে আসলাম। তিনি (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, সে আমাদেরকে যা বলেছিল তাঁকেও তাই বলল। সে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে আরও জানাল যে, সে ইয়াতিম শিশুর অভিভাবিকা।অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর উটকে বসাতে আদেশ করলে সেটাকে বসানো হল এবং তিনি চামড়ার মশকের উপর দিকের মুখ দুইটিতে কুল্লি করে দিলেন। এরপর উটটিকে দাঁড় করানো হলো। আমরা তৃষ্ণার্ত চল্লিশ জনে সবাই এবার তৃষ্ণা দূর করে পানি পান করলাম। আমরা আমাদের মশক ও পানির পাত্রগুলি ভর্তি করে নিলাম।এবং আমাদের সঙ্গী লোকটিকেও গোসল করালাম। তবে কোন উটকে পানি পান করালাম না। অথচ মশক তখনও পানির চাপে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। এরপর নবী (ﷺ) আমাদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমাদের যার কাছে যা আছে নিয়ে এসো। সুতরাং আমরা ঐ মহিলার জন্য খেজুর ও খেজুরের টুকরা এনে জমা করলে সেগুলো দিয়ে তার জন্য একটি পুটলি বাঁধা হলো। (এগুলো দিয়ে) নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ এবার তুমি গিয়ে তোমার বাচ্চাদের খাওয়াও। আর মনে রেখ যে, তোমার পানি আমরা আদৌ নেই নি।সে তার লোকদের নিকট ফিরে গিয়ে বললঃ আমি সবচেয়ে বড় জাদুকরের সাক্ষাৎ পেয়েছি। অথবা সে সম্ভবত বলেছিল, একজন নবীর সাক্ষাৎ পেয়েছি। এমন-এমন বিস্ময়কর দেখলাম তার ব্যাপারটা আল্লাহ তা'আলা ঐ মহিলার দ্বারা উক্ত জনপদকে হেদায়েত দান করলেন। সুতরাং সেও ইসলাম গ্রহণ করল এবং উক্ত জনপদের লোকেরাও ইসলাম গ্রহণ করল।
১৪৫০
যে সালাত আদায় করা সম্ভব হয়নি এবং তা করার (সম্পাদনের) ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ)
কোন এক সফরে আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা রাতের বেলা পথ চললাম। রাতের শেষভাগে ভোরের অল্প কিছু পূর্বে আমরা এমনভাবে পড়লাম (অর্থাৎ ক্লান্তিতে শরীর এলিয়ে দিলাম) যার চেয়ে অন্য কোন পড়াই কোন মুসাফিরের কাছে অধিক পছন্দনীয় বা সুখকর নয়। একমাত্র সূর্যতাপে আমরা জেগে উঠলাম। এতটুকু বর্ণনা করার পর তিনি হাদীসটি সালাম ইবনু যারীর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ করে বর্ণনা করলেন। এ বর্ণনাতে তিনি হ্রাস-বৃদ্ধিও করলেন। হাদীসটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘উমর ইবনু খাত্তাব জেগে উঠে যখন লোকদের অবস্থা দেখলেন তখন উচ্চঃস্বরে তাকবীর শুরু করলেন। উমর ছিলেন উঁচু কণ্ঠস্বরের লোক। তাঁর গুরুগম্ভীর শব্দে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) জেগে উঠলেন। তিনি জেগে উঠলে লোকজন তাঁর কাছে তাদের অবস্থা জানিয়ে অভিযোগ করলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “এতে কোন ক্ষতি নেই, তোমরা এখান থেকে যাত্রা করো।” এরপর তিনি হাদীসটি বর্ণনা করলেন।