৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৩৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৩৪১
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদের সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার না করে বসে। জেনে রাখো সালাতের নাম হলো ইশা। আর তারা উট দোহন করতে দেরি করে তাই এ সালাতকেও তারা ‘আতামাহ’ বলে।
১৩৪২
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদেরকে ইশার সালাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাবান্বিত না করে বসে। কেননা, আল্লাহর কিতাবে এ সালাতের নাম ‘ইশা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো তারা (গ্রাম্য লোকেরা) উট দোহনে অনেক বিলম্ব করে থাকে।
১৩৪৩
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
মুমিন মহিলারা নবী (ﷺ)-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করতেন এবং সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাঁদেরকে কেউ চিনতে পারত না।
১৩৪৪
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
ঈমানদার স্ত্রীলোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ফজরের সালাত আদায় করত। যেহেতু রসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সালাত আদায় করতেন, তাই সালাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত, তখনও তাদেরকে চেনা যেত না।
১৩৪৫
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় ফজরের সালাত আদায় করতেন যে, সালাত শেষে নারীরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এত অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না। আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে مُتَلَفِّعَاتٍ শব্দের স্থানে مُتَلَفِّفَاتٍ উল্লেখ করেছেন।
১৩৪৬
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহঃ)
হাজ্জাজ মদিনাতে আসলে আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুহরের সালাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রবল গরম থাকতে, আসরের সালাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সালাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সালাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফজরের সালাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।
১৩৪৭
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনুল হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ)
হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) সালাত দেরি করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবন আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম।
১৩৪৮
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ)
আমি শুনেছি আমার পিতা সালামা আবু বরজাহ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়ার বললেন: হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি।সাইয়ার ইবনু সালামা বললেন: আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবু বরজাহ) রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবু বরজাহ বললেন- ‘ইশার সালাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ (ﷺ) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ‘ইশার সালাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ‘ইশার সালাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না।শুবা বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়ার ইবনু সালামার সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সালাত আদায় করতেন। আর আসরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়ার ইবনু সালামা বললেন: মাগরিবের সালাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলেছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না।সালামা বলেছেন: পরে আবার এক সময় আবু বরজার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফজরের সালাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সালাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত। আবু বরজাহ আরো বলেছেন, ফজরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ষাট থেকে একশ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন।
১৩৪৯
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বারযাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্রূক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শু'বাহ্ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবু বরজার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বললেনঃ অথবা রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ইশার সালাত আদায় করতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভ্রূক্ষেপ করতেন না।
১৩৫০
ফজরের সালাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফজরের সালাতে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সালাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম।