৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৩৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৩৫১
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সালাত আদায় না করে দেরি করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবু জার (রাঃ) বলেন - এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রসূল!), এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সালাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামাতে সালাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় عَنْ وَقْتِهَا কথাটা উল্লেখ করেননি।
১৩৫২
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আবু যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সালাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সালাতের উত্তম সময়ে) সালাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সালাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার সালাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে।
১৩৫৩
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করেছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন (জামা‘আতে) সালাত আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার সালাত হিফাযাত করেছ। অন্যথায় (অর্থাৎ তাদের সাথে জামা‘আতের সালাত পেলে) তা তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।
১৩৫৪
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঊরুর উপর সজোরে হাত মেরে বললেনঃ যারা সময় মতো সালাত আদায় না করে দেরি করে আদায় করে, তোমাকে যদি এমন লোকদের মাঝে থাকতে হয় তাহলে কী করবে? বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত বলেন- আবু যার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করছেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নাও এবং নিজের কাজে চলে যাও। তারপর যখন সালাত আদায় করা হবে তখন যদি তুমি মসজিদে উপস্থিত থাক তাহলে (তাদের সাথে জামাতে) সালাত আদায় করে নাও।
১৩৫৫
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ)
(একদিন) আবদুল্লাহ ইবনু জিয়াদ সালাত আদায় করতে দেরি করল। এরপরই আবদুল্লাহ ইবনু সামিত আমার কাছে আসলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবনু জিয়াদ এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন - আমিও এ ব্যাপারে আবু যার (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর আমি যেভাবে তোমার উরুর উপর সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামা’আতে যদি সালাত আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করে নিবে - এক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি সালাত আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি সালাত আদায় করব না।
১৩৫৬
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (রহঃ)
আবু জর (রাঃ) তাকে বললেন - তোমরা অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো সালাত আদায় না করে দেরি করে পড়ে তাহলে কী করবে? এরপর আবার নিজেই বললেন, তুমি সময়মতে (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। তারপর জামাআতে সালাত হলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।
১৩৫৭
নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সালাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে? পরিচ্ছেদ নাই
আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ)
আবদুল্লাহ ইবনুস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমআর সালাত আদায় করি যারা দেরিতে সালাত আদায় করে থাকে। মত্র বলেন এ কথা শুনে আবু আ’লিয়া আল বারা আমার উরুর উপর সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথা পেলাম। এবার তিনি বললেন- এ বিষয়ে আমি আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপর সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বললেন - আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সালাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামা‘আতের সালাতকে নফল হিসেবে আদায় করবে। আবু আ’লিয়া আল বারা আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (এ কথা বলার সময়) আল্লাহর নবী (ﷺ) আবূ যার-এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন।
১৩৫৮
জামাআতে সালাত আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জামা‘আতে সালাত আদায় করা তোমাদের কারো একাকী সালাত আদায় করার চাইতে পঁচিশ গুণ বেশি উত্তম।
১৩৫৯
জামাআতে সালাত আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জামা’আতের সাথে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় করার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি উত্তম। তিনি আরো বলেছেনঃ রাতের কর্তব্যরত মালায়িকা (ফেরেশতাগণ) এবং দিনের কর্তব্যরত মালায়িকা ফজরের সালাতের সময় একত্র হয়। এ কথা বলে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, এক্ষেত্রে তোমরা ইচ্ছা করলে কুরআনের আয়াতটি পাঠ করো - وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا অর্থাৎ- “ফজরের ওয়াক্তের কুরআন পাঠে উপস্থিত থাকে”- (সূরা ইসরা ১৭:৭৮)।
১৩৬০
জামাআতে সালাত আদায়ের ফযীলত এবং তা পরিত্যাগকারীর প্রতি কঠোরতা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি ......। তবে আবু বকর ইবন ইসহাক তার বর্ণিত হাদিসে بِخَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا এর পরিবর্তে خمس وَعِشْرِينَ دَرَجَةً কথাটি উল্লেখ করেছেন।