৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৩৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৩৩১
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
এক দিন নবী (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে অনেক রাত করলেন। এমনকি রাতের বড় একটা অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের লোকজনও ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং সালাত আদায় করে বললেনঃ এটাই ইশার সালাতের উত্তম সময়। তারপর তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম (তাহলে এ সময়কে ইশার সালাতের সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করতাম)। আবদুর রাজ্জাক বর্ণিত হাদীসে কিছুটা বর্ণনার তারতম্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে না দাঁড়াত।
১৩৩২
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাইৃ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদিন রাতে ইশার সালাতের জন্য আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা জানি না তিনি পারিবারিক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, না অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এসে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা এমন এক সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ যার জন্য তোমরা ছাড়া অন্য কোন দ্বীনের লোকেরা অপেক্ষা করছেনা। (তারপর তিনি বললেন) আমার উম্মতের জন্য যদি ভাল না হত তাহলে আমি তাদের সাথে প্রতিদিন এ সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। এরপর মুয়াযিন ইকামত দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন।
১৩৩৩
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ইশার সালাত আদায় করতে খুব দেরি করে ফেললেন। এমনকি আমরা সবাই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আজকের এ রাতে তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউই সালাতের জন্য অপেক্ষা করছে না।
১৩৩৪
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
সাবিত (রাঃ)
লোকেরা আনাস (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে দেরি করলেন। এত দেরি করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেন: অনেক লোক সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সালাতরত আছ।আনাস (রাঃ) বলেছেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস (রাঃ) তাঁর বাঁ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (অর্থাৎ- এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)।
১৩৩৫
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
এক রাতে (ইশার সালাত আদায় করতে) আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এভাবে রাত প্রায় অর্ধেক হয়ে আসল। এরপর তিনি এসে সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন। আমি যেন এ মুহূর্তেও হাতের আঙ্গুলে পরিহিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি।
১৩৩৬
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
কুররাহ্ (রহঃ)
উক্ত সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনাতে ‘পরে তিনি আমাদের দিকে ঘুরালেন’ কথাটি উল্লেখ করেননি।
১৩৩৭
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
আমি এবং আমার সাথে যে সব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাকী নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতি দিন রাতে ইশার সালাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (তাঁর সাথে ইশার সালাত আদায় করার জন্য) যেত।আবু মূসা বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ইশার সালাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সালাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত যে, এ মুহূর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোনো মানুষই সালাত আদায় করছে না। অথবা (আবু মূসা বলেন,) এ দুইটি কথার মধ্যে কোন কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন তা আমার মনে নেই।আবু মূসা বর্ণনা করেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশি হয়ে ফিরে আসলাম।
১৩৩৮
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সালাত যাকে লোকে আতামাহ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সবচেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একা থেকে আমিও সে সময় ইশার সালাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আতা বললেন, আমি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি - নবী (ﷺ) একদিন ইশার সালাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর তারা আবার জেগে উঠলে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) উঠে গিয়ে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, সালাতের সময় হয়েছে।আতা বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেছেন - অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন। আমি যেন এ মুহূর্তেও দেখছি নবী (ﷺ)-এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করার আদেশ করতাম।ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী (ﷺ)-এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেছেন আমি তা আতাকে দেখাতে বললাম। তখন আতা তার আঙুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নিচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমণ্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন।ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আতাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) সে রাতে ইশার সালাত কত দেরী করেছিলেন বলে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাঃ) আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আতা বললেন, ইশার সালাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাতে যেভাবে দেরী করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরী করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামাতে ইমাম হয়ে সালাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করো। বেশি আগেও আদায় করো না কিংবা বেশি বিলম্বেও আদায় করো না।
১৩৩৯
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত দেরি করে আদায় করতেন।
১৩৪০
ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাদের মতো করেই সালাত আদায় করতেন। তবে তিনি ইশার সালাত তোমাদের চেয়ে একটু দেরি করে আদায় করতেন। আর তিনি সালাত হালকা করে আদায় করতেন। আবু কামিল বর্ণিত হাদিসে يُخِفُّ শব্দটির স্থানে يُخَفِّفُ শব্দ উল্লেখ আছে। তবে উভয় শব্দের অর্থ একই।