৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১৩২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১৩১১
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
রfসূলুল্লাহ (ﷺ) আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন খন্দকের একটি খাঁজ বা সংকীর্ণ পথের উপর বসে বললেনঃ তারা (কাফিররা) আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে “সালাতুল উস্‌তা” (মধ্যবর্তী সময়ের সালাত বা আসরের সালাত) আদায় করা থেকে বিরত রেখেছে এবং এমনকি এ অবস্থায়ই সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে। আল্লাহ তা’আলা ওদের কবর ও বাড়ি-ঘর অথবা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) বললেনঃ কবরসমূহ অথবা পেট আগুন দ্বারা যেন ভর্তি করে দেন।
১৩১২
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আলী (রাঃ)
আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তারা কাফিররা আমাদেরকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ আসরের সালাত) থেকে বিরত রেখেছে। আল্লাহ তাদের ঘর-বাড়ি ও কবরসমূহ আগুন দিয়ে ভরে দিন। অতঃপর তিনি এ সালাত মাগরিব এবং ইশা সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে আদায় করলেন।
১৩১৩
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
আহযাব যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন মুশরিকগণ রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে সালাত থেকে বিরত রাখল। এমনকি সূর্য লাল অথবা (বলেছেন) তাম্রবর্ণ ধারণ করল। এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা (মুশরিকরা) আমাকে যুদ্ধে ব্যস্ত রেখে ‘সালাতুল উসত্বা’ (মধ্যবর্তীকালীন সালাত, অর্থাৎ- আসরের সালাত) থেকে বিরত রাখল। আল্লাহ যেন তাদের পেট ও কবরকে আগুন দিয়ে ভরে দেন অথবা তিনি বললেনঃ حَشَا اللَّهُ أَجْوَافَهُمْ وَقُبُورَهُمْ نَارًا
১৩১৪
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ) - এর আযাদকৃত ক্রীতদাস আবূ ইউনুস (রাঃ
এক সময়ে আয়িশা (রাঃ) আমাকে কুরআন মাজীদের এক কপি হাতে লিখে দিতে বললেন: লিখতে লিখতে যখন حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى এ আয়াত পর্যন্ত পৌঁছবে তখন আমাকে জানাবে। আবু ইউনুস বলেন, আমি এ আয়াতের কাছে পৌঁছলে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি আমাকে আয়াতটি এভাবে লিখতে বললেন, حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى وَصَلاَةِ الْعَصْرِ আর সালাতুল উসত্বা (মধ্যবর্তী সালাতের) ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ কর এবং আল্লাহর উদ্দেশে অনুগত ও বিনীত হয়ে দাড়াও”। এভাবে লেখানোর পর আয়িশা (রাঃ) বললেন: আমি আয়াতটি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছি।
১৩১৫
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু আযিব (রাঃ)
এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ। যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি ‘মানসূখ’ বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেন, حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى (পূর্বোক্ত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহের ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। পরবর্তীকালে নাযিলকৃত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করো এবং صلاَةِ الْوُسْطَى বা মধ্যবর্তীকালীন সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো)। বর্ণনাকারী শাকীক ইবন উকবা-র কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবন আযিব (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেনঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সালাতই বুঝায়। বারা ইবন আযিব (রাঃ) তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা ‘মানসূখ’ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তা’আলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেনঃ আশজাঈ (রহঃ) ...... বারা ইবন আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী (ﷺ) এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযাইল ইবন মারজূক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
১৩১৬
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
খন্দকের যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কাফের কুরাইশদের ভর্ৎসনা ও গালমন্দ করতে থাকলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সূর্য এখন ডুবন্ত প্রায়। কিন্তু আজ আমি এখন পর্যন্ত আসরের সালাত আদায় করতে পারিনি। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আল্লাহর শপথ, আমিও আজ এখন পর্যন্ত আসরের সালাত পড়িনি। এরপর আমরা একটি কঙ্করময় ভূমিতে গেলাম। রসূলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে অজু করলেন, আমরাও অজু করলাম। এরপর তিনি (আমাদের সাথে নিয়ে) আসরের সালাত আদায় করলেন। তখন সূর্য ডুবে গিয়েছিল। এর (আসরের সালাত আদায়ের) পর তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।
১৩১৭
যারা বলে মধ্যবর্তী সালাত হচ্ছে ‘আসরের সালাত-তার দলীল পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসীর
উক্ত সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
১৩১৮
ফজর ও ‘আসর সালাতের ফযীলত এবং এ দু’টির প্রতি যত্নবান হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রাতের বেলা ও দিনের বেলা ফেরেশতারা এক দলের পর আরেক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে এবং তাদের উভয় দল ফজর ও আসর সালাতের সময় একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের সাথে রাত্রি যাপন করেছে তারা উঠে যায়। তখন তাদের প্রভু মহান আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কিরূপ অবস্থায় রেখে আসলে? যদিও তিনি তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত। ফেরেশতারা তখন বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে চলে আসলাম তখন তারা সালাত আদায় করছিল। আবার তাদের কাছে আমরা যখন গিয়েছিলাম তখনও তারা সালাত আদায় করছিল।
১৩১৯
ফজর ও ‘আসর সালাতের ফযীলত এবং এ দু’টির প্রতি যত্নবান হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফেরেশতা এক দলের পর আরেক দল তোমাদের কাছে এসে থাকে। এরপর আবূয্ যিনাদ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
১৩২০
ফজর ও ‘আসর সালাতের ফযীলত এবং এ দু’টির প্রতি যত্নবান হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বসেছিলাম। এক সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই (জান্নাতে) তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ তাআলাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে যেন এ চাঁদকে অবাধে দেখতে পাচ্ছ। সুতরাং যদি এরূপ চাও, তাহলে সাধ্যমত সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত উত্তম সময়ে আদায়ের মাধ্যমে আয়ত্তে রাখ। এ কথা দ্বারা তিনি ফজর ও আসরের সালাত বুঝালেন। অতঃপর জারীর ইবনু আবদুল্লাহ এ আয়াতটি পাঠ করলেনঃ “তুমি তোমার রবের পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।” (সূরা ত্ব-হা ২০:১৩০)