৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
১২৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
১২৭১
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সময় আসরের সালাত আদায় করতেন সূর্যের কিরণ তখন আমার কামরার মধ্যেই থাকত।
১২৭২
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আম্‌র (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা যখন ফজরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো ফজরের সালাতের সময় হলো সূর্যের প্রান্তভাগ বেরিয়ে না আসা পর্যন্ত। তোমরা যখন যুহরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, এর সময় হলো আসরের ওয়াক্ত শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তোমরা যখন আসরের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো আসরের সালাতের সময় হলো সূর্য বিবর্ণ হয়ে হলুদ (সোনালি বা তাম্রবর্ণও বলা যেতে পারে) বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। তোমরা যখন মাগরিবের সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখো যে, মাগরিবের সালাতের সময় থেকে পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা বা লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর তোমরা যখন ইশার সালাত আদায় করবে তখন জেনে রেখ ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধেক রাত পর্যন্ত।
১২৭৩
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ‘আসরের সালাতের ওয়াক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুহরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। আর সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত আসরের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। সন্ধ্যাকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের রক্তিম আভা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত থাকে। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় থাকে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত।
১২৭৪
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ও ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) উভয়ই শু’বাহ (রহঃ)আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বাহ্ (রহঃ) ও ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র (রহঃ) উভয়ই শু’বাহ (রহঃ)
একই সানাদে হাদীসটি শু'বাহ মারফু' হাদীস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে একের অধিকবার মারফু' হিসেবে বর্ণনা করেননি।
১২৭৫
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যুহরের সালাতের ওয়াক্ত শুরু হয় যখন সূর্য (মাথার উপর থেকে পশ্চিম দিকে) হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার দৈর্ঘ্যের সমান হয়, আর আসরের সালাতের সময় না হওয়া পর্যন্ত তা থাকে। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালী বা তাম্রবর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যা গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তে উদ্ভাসিত লালিমা অন্তর্হিত না হওয়া পর্যন্ত। ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধরাত্রি অর্থাৎ মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের সালাতের সময় শুরু হয় ফজর বা ঊষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত। অতএব, সূর্যোদয়ের সময় সালাত আদায় করা বন্ধ রাখবে। কারণ সূর্য শয়তানের দুই শিঙের মধ্যখানে উদিত হয়।
১২৭৬
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বললেন: সূর্যের উপর দিকের প্রান্তভাগ দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ফজর সালাতের সময় থাকে। যুহরের সালাতের সময় থাকে আকাশের মধ্যভাগ থেকে সূর্য গড়িয়ে আসরের সময় না হওয়া পর্যন্ত। আসরের সালাতের সময় থাকে সূর্য বিবর্ণ হয়ে সোনালি বা তাম্রবর্ণ ধারণ করার পর উপরের প্রান্তভাগ অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। মাগরিবের সালাতের সময় থাকে সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা পশ্চিম দিগন্তের লালিমা অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। আর ইশার সালাতের সময় থাকে অর্ধ-রাত্রি পর্যন্ত।
১২৭৭
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াহ্ইয়া (রহঃ)
আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, দৈহিক আরাম উপভোগের সাথে জ্ঞানার্জন কখনো সম্ভব নয়।
১২৭৮
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
বুরায়দাহ্ (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, "তুমি আমাদের সাথে দুই দিন সালাত আদায় কর।" লোকটি তাই করল। সূর্য যখন মাথার উপর থেকে হেলে পড়ল তখন নবী (ﷺ) বিলালকে আজান দিতে আদেশ করলেন। বিলাল আজান দিলেন। অতঃপর তিনি বিলালকে ইকামত দিতে বললে তিনি জোহরের সালাতের ইকামত দিলেন। অর্থাৎ, তখন নবী (ﷺ) জোহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর আসরের সময় হলে তিনি বিলালকে আসরের সালাতের ইকামত দিতে বললেন। বিলাল ইকামত দিলেন। নবী (ﷺ) তখন আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল এবং পরিষ্কার ও আলো ঝলমল দেখাচ্ছিল।তারপর নবী (ﷺ) বিলালকে মাগরিবের আজান দিতে বললেন এবং নবী (ﷺ) মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, তখন সূর্য ডুবে গেছে। এরপর তিনি বিলালকে ইশার সালাতের ইকামত দিতে বললেন। বিলাল ইকামত দিলেন এবং সূর্যাস্তের পর পশ্চিম দিগন্তে যে সান্ধ্যকালীন লালিমা বা রক্তিম আভা দেখা যায় তা অন্তর্হিত হওয়ার পরপরই ইশার সালাত আদায় করলেন।পরে বিলালকে তিনি ফজরের সালাতের ইকামত দিতে বললেন এবং উষার অভ্যুদয়ের সাথে সাথেই ফজরের সালাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি বিলালকে আদেশ করলেন এবং বেশ দেরি করে জোহরের সালাত আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিনে তিনি এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন, সূর্য তখনও বেশ উপরে ছিল, তবে আগের দিনের তুলনায় বেশ দেরি করে পড়লেন। তিনি সান্ধ্যকালীন গোধূলি বা লালিমা অন্তর্হিত হওয়ার পূর্বক্ষণে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন।রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাত আদায় করলেন এবং সর্বশেষ বেশ ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর নবী (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেনঃ "সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী ব্যক্তি কোথায়?" লোকটি তখন বলল, "হে আল্লাহর রসূল! আমি উপস্থিত আছি।" তখন নবী (ﷺ) লোকটিকে বললেনঃ "দুই দিন যে দুইটি সময়ে আমি সালাত আদায় করলাম এরই মধ্যবর্তী সময়টুকু হলো সালাতের ওয়াক্তসমূহ।"
১২৭৯
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
বুরায়দাহ্ (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবী (ﷺ) তাকে বললেন: তুমি আমাদের সাথে সালাত আদায় করো (জানতে পারবে)। অতঃপর ফজরের সালাতের জন্য বিলাল (রাঃ)-কে আজান দিতে আদেশ করলে তিনি (বিলাল) বেশ কিছু অন্ধকার থাকতে আজান দিলেন। তখন নবী (ﷺ) ঊষার আলো প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে ফজরের সালাত আদায় করলেন।পরে সূর্য আকাশের মধ্যভাগ থেকে হেলে পড়লে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে যুহরের সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং যুহরের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর সূর্য কিছু উপরে থাকতেই তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আসরের সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর মাগরিবের সময় সূর্যাস্তের পরই বিলাল (রাঃ)-কে মাগরিবের আজান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর গোধূলি অন্তর্হিত হলে বিলাল (রাঃ)-কে ইশার আজান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)।পরদিন প্রত্যুষে বেশ ফর্সা হয়ে গেলে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে ফজরের সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন)। তারপর যুহরের সালাতের আজান দিতে বললেন এবং বেশ দেরি করে (সূর্যের উত্তাপ কমলে) যুহরের সালাত আদায় করলেন। এরপর সূর্য সাদা পরিষ্কার থাকতেই নবী (ﷺ) তাকে আসরের সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং আসরের সালাত আদায় করলেন)।এরপর সন্ধ্যা-গোধূলি অদৃশ্য হওয়ার পূর্বে মাগরিবের সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং মাগরিবের সালাত আদায় করলেন)। অতঃপর রাতের এক-তৃতীয়াংশ অথবা কিছু অংশ (বর্ণনাকারী হারামী ইবনু উমারাহ সন্দেহ করেছেন) অতিবাহিত হওয়ার পর ইশার সালাতের আজান দিতে বললেন (এবং ইশার সালাত আদায় করলেন)। পরদিন সকালে তিনি জিজ্ঞেস করলেন (সালাতের সময় সম্পর্কে) প্রশ্নকারী কোথায়? (দুই দিন সালাত আদায়ের) সময়ের মধ্যে তুমি যে ব্যবধান দেখলে তার মাঝখানেই হলো সালাতের সময়।
১২৮০
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সময় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (ﷺ) তাকে সরাসরি জবাব না দিয়ে কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন। বর্ণনাকারী সাহাবী আবু মূসা (রাঃ) বলেন, প্রথম দিনে উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখনো চারদিকে যথেষ্ট অন্ধকার ছিল, এতটাই যে লোকজন একে অপরকে ভালোভাবে দেখতে পারছিল না এবং একে অপরকে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। এরপর তিনি (ﷺ) যুহরের আযান দিতে আদেশ করলেন।আবু মূসা (রাঃ) বলেন, যখন আযান দেওয়া হলো, তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে দুপুর হয়ে গিয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের চেয়ে এ বিষয়ে অধিক অবগত ছিলেন। তারপর তিনি (ﷺ) আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল এবং আলো ভালোভাবে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সালাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (ﷺ) ইশার সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ইশার সালাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্তের লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে।পরের দিন সকালে তিনি (ﷺ) ফজরের সালাত বেশ দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সালাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় প্রায় হয়ে গিয়েছে অথবা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর তিনি যুহরের সালাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের আসরের সালাত যে সময় আদায় করেছিলেন, প্রায় সেই সময় হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আসরের সালাতও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সালাত শেষ করার পর লোকজন বলাবলি করতে লাগল - সূর্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিবের সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে, সান্ধ্যকালীন দিগন্তের লালিমা তখন প্রায় অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ইশার সালাতও তিনি দেরী করে আদায় করলেন, এতটাই দেরী করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর সকাল বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ "এ দুইটি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই হলো সালাতসমূহের সময়।" অর্থাৎ- দুই দিনে আমি একই সময়ে সালাত আদায় না করে একই সালাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকুই প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়।